ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

ঝুঁকিপূর্ণ বাঘাইছড়ি উপজেলা।

ঝুঁকিপূর্ণ দীঘিনালা উপজেলা।

ঝুঁকিপূর্ণ খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা।

ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা।

ঝুঁকিপূর্ণ মহালছড়ি উপজেলা।

ঝুঁকিপূর্ণ মানিকছড়ি উপজেলা।

ঝুঁকিপূর্ণ মাটিরাঙ্গা উপজেলা।

ঝুঁকিপূর্ণ পানছড়ি উপজেলা।

ঝুঁকিপূর্ণ রামগড় উপজেলা।

স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৮৬ সালে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার তাইনডং ইউনিয়নের তাইন্দং ও ১৮৩ নং আচালং মৌজার ১৭০০ একর জমি দখল করে নেয় ভারত! এর পূর্বে ১৯৬২ প্রথম এই জমিতে নজর পরে ভারতের। ১৯৬২ তে ভারত দখল করে নেয় এই জমি। ১৯৬২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সীমান্ত রক্ষীবাহিনী ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) ও বিএসএফ’এর মধ্যে একটি খণ্ড যুদ্ধের মাধ্যমে এই জমি উদ্ধার করা হয়। যা ইতিহাসে জুলিয়ার যুদ্ধ নামে পরিচিত। ইপিআর ক্যাপ্টেন সি আর দত্তের নেতৃত্বে এ যুদ্ধে তৎকালীন সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর চার সদস্য নিহত হন। তাইন্দং বিজিবি বিওপিতে তাদের সমাধি রয়েছে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা থেকে প্রায় ৫০ কি.মি. পূর্বে তাইন্দং বাজার অবস্থিত। যার ৭ কি.মি. পূর্বেই ভগবান টিলা যেখানে ফেনী নদীর উৎপত্তি। ভগবান টিলা থেকে সাত কি.মি. পশ্চিমে আচালং সীমান্তের অবস্থান। এছাড়া এলাকাবাসী ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ফেনী নদীর আচালং, রামগড় ও আমলীঘাট সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ’এর আগ্রাসন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠেছে। জানা যায়, ১৯৮৬ তে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিবাহিনীর সাথে উত্তেজনামূলক পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তার জন্য সেখান থেকে এলাকাবাসীদের অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়। ফলে জনশূন্য হয়ে পরে সীমান্ত ঘেঁষা বিস্তীর্ণ এলাকা। এ সুযোগে বিএসএফ আচালং সীমান্তের ১৭০০ একর বাংলাদেশের ভূমি দখল করে নেয়। এ সময় সীমান্তবর্তী ভারতের বাসিন্দা ও জলাইয়া গ্রামবাসী কৌশলে বাংলাদেশ-ভারতের আন্তর্জাতিক সীমানা হিসেবে চিহ্নিত ফেনী নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে তা বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত করে। সরকারের হস্তক্ষেপ না থাকায় সম্পূর্ণ বাংলাদেশের ফেনী নদীকে ভারত আন্তর্জাতিক নদী বলে বিতর্ক তুলে। শুধু তাই নয় ভারতের উপেন্দ্রনগর ও সাবরুম শহরে অনুমোদন বিহীন পাইপ লাইন দিয়ে অন্যায়ভাবে পানি সরবরাহ করছে। জোরপূর্বক বাংলাদেশের নদী তীরবর্তী এলাকাবাসীদের ফসলের পানি নিতে দিচ্ছে না এমনকি এক কলসি পানি আনতে গেলেও বাধা দিচ্ছে এবং গুলি করার হুমকি দিচ্ছে। নদীর গতিপথ রোধ করে দিয়ে তা বাংলাদেশের আরো ভেতরে ভগবান টিলা থেকে উৎপন্ন আচালং ছড়া ও খালের সাথে সংযোগ ঘটানো হয় এতে বাংলাদেশের কয়েক হাজার গজ ভেতরে নদীটি প্রবেশ করে। এতে প্রকৃত সীমানা রেখা ফেনী নদীর ২২৬২ বিপি সীমান্ত পিলার এলাকাটি শুকিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে বিএসএফ ও ভারতবাসী তা ভরাট করে ফেলে। এভাবে নোম্যান্স ল্যান্ডটি নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে আচালং গ্রামে ভগবান টিলা থেকে উৎপন্ন আচালং ছড়া পর্যন্ত ১৭০০ একর জমি ভারত দখল নেয়। পরবর্তীতে আচালং ছড়াটিকে ভারত ফেনী নদী বলে দাবি করে একে নোম্যান্স ল্যান্ড বলে প্রচার করে।

বাংলাদেশে সুউচ্চ ভগবান টিলাটি রাঙ্গামাটিতে অবস্থিত। মাটিরাঙ্গার ৫৫ কি.মি. পূর্ব ও পানছড়ি থেকে ১৫ কি.মি. উত্তর-পশ্চিমে এর অবস্থান। টিলাটির দুদিকে প্রাকৃতিক জলপ্রপাত রয়েছে। এই জলপ্রপাত থেকে দুটি নালার মাধ্যমে সাত কি.মি. জল গড়িয়ে আচালং গ্রামে এসে মিলিত হয় একটি ছড়ায়। ছড়াটি আচালং ছড়া বলে পরিচিত যা ভারত বর্তমানে ফেনী নদী বলে দাবি করছে। গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায় ফেনী থেকে পানি আনা তো দূরের কথা বিএসএফ’এর ভয়ে তারা পানি ছুতেও পারেন না। এখানে বর্তমানে বিএসএফ’এর দুটি স্থায়ী ক্যাম্প রয়েছে। ১৭০০ একর জমি বর্তমানে ভারতের কৃষকরা চাষ করছে। জমির প্রকৃত মালিকদের এখন চোখের জল ফেলার সময়।

জানা যায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা এ জমির ব্যাপারে আত্মঘাতী পন্থা অবলম্বন করার ফলে অনেক আলোচনা করেও এ জমি পাওয়া যায়নি। জানা যায়, ২০০৩ সালের জেআরসি বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য ঐ বছর ৯ সেপ্টেম্বর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সফিউদ্দিন ও একজন বিশেষজ্ঞ মাটিরাঙ্গার আচালং ও পার্শ্ববর্তী কাশেমটিলা এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

২০০৩ সালের ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লীতে অনুষ্ঠিত দুদেশের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ বিশাল আয়তনের দখলকৃত ভূমি নিয়ে ফল শূন্য আলোচনা হয়। ১৯৯৫ এর ৮ মে ভারতের সাবরুম শহরে অনুষ্ঠিত দুদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ের সম্মেলনে আচালং এর দখলকৃত জমির পুনঃ জরিপ এবং জরিপ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত দখলকৃত আচালং এর ১৭০০ একর জমি অমীমাংসিত ভূমি উল্লেখ করে দুপক্ষ থেকেই তা ব্যাবহার না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু ভারত সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জমি চাষাবাদ, ক্যাম্প নির্মাণ ও রাস্তা নির্মাণ অব্যাহত রাখে।

এদিকে ২০১১ এর ২০ আগস্ট বাংলাদেশ-ভারতের চূড়ান্ত ম্যাপ তৈরির সাক্ষর কর্য শুরু হয়। জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে এখন এ জমি উদ্ধার না হলে ভবিষ্যতে আর বাংলাদেশ কখনো তা দাবি করতে পারবে না।

এছাড়া খাগড়াছড়ির সীমান্ত এলাকা নাড়াইছড়ি হতে রাঙ্গামাটির সাজেক পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ একর জমি সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। জানা যায়, এ এলাকাটিও ভারতের লিস্টে আছে। কারণ এ এলাকায় সেনাবাহিনী বা বিজিবির কোন তৎপরতা নেই। এ বিস্তীর্ণ এলাকায় বিজিবির ক্যাম্প তৈরি হবে এমন কোন আশ্বাসও নেই।

***
আরিফ হোসেন সাঈদ
০৩/২০/১২, নারায়ণগঞ্জ।