ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

এক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা একই সাথে বিরল এবং যত দূর মনে পড়ে বলা যায় এটিই প্রথম। বাংলায় একটি প্রবাদ বাক্য আছে। শক্তের ভক্ত নরমেরই যম। বাক্যটি অবশ্যই বাংলা সংস্কৃতির একটি অংশ। নিজের সংস্কৃতিকে ভুলে গেলে যা হয় তাই হয়েছে। আবার নিজের সংস্কৃতিকে মনে করলে যা হবার তাও হয়েছে।

যা হয়েছে তা হল, আজ বিএসএফ পঞ্চম শ্রেণীর এক বালককে অপহরণ করেছিল। না এটি প্রথম নয় প্রথম হল প্রথম দিনের পতাকা বৈঠকেই বিএসএফ শিশুটিকে ফেরত দিয়েছে। তাহলে কি হঠাৎ বিএসএফ
বদলে গেল? না! অন্য কারণ আছে।

আজ বিএসএফ শিশুটিকে ধরে নিয়ে গেলে ক্ষুব্ধ জনগণও পালটা এক ভারতীয় কিশোরকে ধরে নিয়ে আসে। এলাকাবাসীরা মনে করেন তাদের জন্য ঐ একটি পথই খোলা ছিল। যার ফলে প্রথম দিনেই প্রথম পতাকা বৈঠকেই শিশুটিকে দিয়ে ঐ যুবককে ফেরত নিয়ে যায় বিএসএফ।

এই সিঙ্গিমারী সীমান্ত দিয়ে নিয়ে যাওয়া বিষাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে কেউ জানেনা। এলাকাবাসী আবেগের বশে বলেন যে, যদি তারা এরকম একটি প্রতিবাদ আগেই করত তবে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র বিষাদকেও পাওয়া যাত। পাগল হতে হত না শান্তি বালাকে।

এ ঘটনা থেকে আমরা কি শিক্ষা পেলাম বা বিএসএফ আমাদের কি বার্তা দিল?

প্রথম যে বার্তাটি বিএসএফ আমাদের দিল তা হচ্ছে, “যদি তোমরা আমাদের আগ্রাসন আর অত্যাচার থেকে নিজেদের রক্ষা করতে চাও তবে তোমাদের প্রতিবাদী হতে হবে। আর এ ও শিক্ষা দিল আমাদের এই অত্যাচার তোমাদের সইতে হবে বা হচ্ছে কারণ তোমরা এর প্রতিবাদ করছো না। এই দেখ প্রতিবাদ করলে কি ফল পাওয়া যায়।

দিন দিন এভাবে আগ্রাসন আর অত্যাচার বেড়েই চলেছে। আর এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে হাস্যকর কথা বলছেন নতজানু সরকার। তাই আমরা সরকারকে দোষারোপ করতেই পারি তোমরা প্রতিবাদ করনি বলে আজ আমাদের এই দশা। যদি প্রতিবাদ করতে তা হলে আমরা বেঁচে যেতাম।

দেখ, আমরা আজ প্রতিবাদ করে তোমাদের জন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছি। নাকি তোমরা আবার বলবে অন্যায়ের প্রতিবাদে আমরা অন্যায় করে ফেলেছি?

আরিফ হোসেন সাঈদ
০৩/২৮/১২