ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

সীমান্ত হত্যা চলছেই। বাংলাদেশ-ভারতে সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা এখন ভারতের নিয়মিত কাজের অংশ। এটি একটি অলিখিত বিধানে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে এখন আমরা যেমন অবাক হই না তেমনি ভারতও আর অস্বস্তিতে পড়ে না। বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে ভারতের আগ্রাসন, দখল, নির্যাতন, হত্যা, অপহরণের বিরুদ্ধে সরকার মুখে তালা মেরে আছে। তাদের এর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহসও নেই। সাহস নেই এই প্রতিশ্রুতিশীল বন্ধুকে অপমান করে আন্তর্জাতিক আদালতে যাবার। উজাড় করে দিয়ে দিতেও তাঁরা কার্পণ্য করেন না। কারণ দেশটা তো তাঁর বাপের কিন্তু মানুষগুলো তো নয়। ভারত চাইলে দেশ লিখে দিতে পারি। ভারত চাইলে পানি বন্ধ করে দিতে পারে। আমাদের আকাশ খোলা রাখতে হবে কিন্তু তাদের আকাশ আমাদের জন্য বন্ধ। ভারতকে খুশি করতে পারলেই তাঁরা খুশি, তাদের আর কিছু চাই না। বলা হয় ভারত আমাদের সবচেয়ে বড় বন্ধু। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ বন্ধুত্বে পানি ছাড়াও জোয়ার বয়। এ জোয়ারে পানির দরকার নেই। কিন্তু ভারত তো আমাদের বন্ধু হতে পারেনা। পানি ছাড়াতো জোয়ার বইতে পারেনা। যাদের মুখে আমাদের রক্ত তাঁরা তো বন্ধু হতে পারেনা। তাঁরা সরকারের বন্ধু এদেশের জনগণের নয়।

আজ আবারও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিংনগর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী-বিএসএফ’এর গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। – bdnews24.com
সীমান্ত রক্তে ভরে গেছে। শেখ মুজিব ৭ই মার্চের সেই ভাষণে বলেছিলেন প্রয়োজন হলে রক্ত দিতে। আজও আমরা রক্ত দিচ্ছি। কিন্তু কিসের প্রয়োজনে? এই রক্তের খেলা ভারতকে বন্ধ করতে হবে। ব্লাডি ভারতের রক্ত খাওয়ার প্রতিবাদে আমাদের আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে হবে। কিন্তু এ সরকারের পক্ষে তা সম্ভব নয়। তাই আমরা ভারতকে ঘৃণা জানাবার আগে এই সরকারের প্রতি ঘৃণা জানাতে চাই। আমরা আমাদের সরকারের দায়িত্ব হীনতার প্রতিবাদ করতে চাই। আমাদের রক্ষা করবেন বলে তাঁরা ক্ষমতায় এসেছেন, আমরা বাঁচার জন্য তাদের ক্ষমতায় এনেছিলাম ভারতকে খুশি করতে নয়।

তবে সরকারের কাছে আমাদের একটা অনুরোধ। রক্ত কিন্তু আমাদের দিতে আপত্তি নেই। সেই জন্মের আগে থেকেই রক্তি দিয়ে আছি। সরকার যদি একটু কষ্ট করে ভারতকে অবশ্যই অতি বিনয়ের সাথে (যেন বন্ধুত্ব নষ্ট না হয়) জিজ্ঞেস করতেন ভারতের আর কত রক্ত চাই। তবে আমরা অন্তত এটুকু শান্তি পেতাম। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হতাম। এতে ভারত রাগ করবেনা। আবারও তাদের টাকায় ক্ষমতায় আসতে পারবেন। মানে চুক্তির কথা বলছিলাম। চুক্তি ছাড়াতো এত বড় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেখানে দুদেশের সাথে সম্পৃক্ত তা চলতে পারেনা। আর যদি এমন কোন চুক্তি থেকেও থাকে তবে জনসম্মুখে প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। কেউ যখন আমাদের কিছু বলে আমরা তো উত্তর মেলাতে পারিনা। নির্দিষ্ট কোন চুক্তি যদি থাকে তবে বলতে পারবো দেশের স্বার্থে (হোক সেটা যে কারও স্বার্থে) চুক্তি অনুযায়ী সব হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আজকের ভাষণে তাদের ভেতরকার দেশপ্রেমের কথা বলেছেন। বলেছেন দেশপ্রেম থাকলে সবই সম্ভব। এটাও নিশ্চয়ই সম্ভব। তাই সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি দেশপ্রেমের পরিচয় দিন। ভারতের সাথে বাংলাদেশীদের হত্যার জন্য চুক্তি করুণ। আমরা আপনাদের দেশপ্রেমের পরিচয় পাব।

সমালোচকরা বলে থাকেন ভারতের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিএসএফ’এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যাবার সাহস আপনাদের নেই। তবে আমার ধারণা সাহসের কোন ঘাটতি আপনাদের নেই, যা দেখাচ্ছেন আমাদের। অনেক সাহস আপনাদের। তবে আপনাদের আদালতে যাবার ইচ্ছে নেই, ভারত বলে কথা।

আমাদের সরকারগুলো আকাম-কুকাম করেও বারবার ক্ষমতায় আসেন। তাঁরা এটুকুই করেন যতটুকু করলে ক্ষমতায় আসা যাবে। আকাম করেন আর কুকাম করেন সামনের বার বিএনপি তারপর আবার আপনারা আসবেন। কারা মৌলবাদী দেশদ্রোহী তাদের আমরা চিনি তাদের কথা বাদ। কিন্তু যারা দেশপ্রেমের লেবাস পড়ে বেড়ায় তাদের ভবিষ্যৎ বংশধররা * ছুড়ে মারবে এ কথা বলে রাখলাম।

ফেসবুকে সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে স্টপ বর্ডার কিলিং নামে একটি পেইজ আছে তবে তাঁর ভক্ত সংখ্যা খুবই কম। আমরা কি তবে ভারতের অত্যাচার মেনে নিয়েছি। প্রতিবাদ কি তবে দু’এক জনেরই দায়িত্ব?

মজার কথা হলো এই পেইজের সব ফ্যানই ভিনদেশী।

৪ এপ্রিল ২০১২