ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

রাজনীতিতে নাকি শেষ কথা বলে কিছু নেই। তার মানে একজন রাজনৈতিকের কথার কোন গুরুত্বও নেই। তিনি এখন যা বলবেন কাল উল্টোটা বলতে পারেন। এখন যা করছেন পড়ে উল্টোটা করতে পারেন। তাঁদের কোন আদর্শ নেই। ক্ষমতার জন্য যা করতে হবে তাঁরা তৎক্ষণাৎ তাই করবেন। আমাদের দেশের রাজনৈতিকেরা যখন একটি দলে থাকেন তখন তাঁদের একটি আদর্শ থাকে। তিনি যখন কিছুদিন পর দল-বদল করেন তখন তাঁর আবার নতুন আদর্শ হয়। নেতারা আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি’র বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী ভাষণ দেন। কিছুদিন পর আবার সেই নেতারাই বিএনপি’তে যোগদান করে আওয়ামী লীগ’এর বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী ভাষণ দেন। মাঝে মাঝে তাঁরা ভুলে যান তাঁরা এখন কোন দলে আছেন, ভাষণ দেয়ার সময় উল্টো-পাল্টা করে ফেলেন। কিছু দিন আগে বিএনপি’র ১২ই মার্চের মহাসমাবেশে এরকম একটি কৌতুক দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেন। যাই হোক, আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কেন সম্ভব নয়। গুরুগম্ভীর কোন আলোচনা নয়, আমরা সাধারণ মানুষ সাধারণভাবে বিশ্লেষণ করব।
প্রথমত একটি ভাল কাজ করতে গেলে একটি আদর্শ থাকতে হয়। যে রাজনৈতিকদের কোন আদর্শ নেই তাঁদের পক্ষে ভাল কাজ করা সম্ভব নয়। দেশের শত্রুদের বিচার করার মত মন মানসিকতা এখনও আমাদের রাজনৈতিকদের বা দলগুলোর হয়নি। তাহলে সামরিক জান্তাদের বিচারে সবার আগে এরশাদের বিচার হওয়া কথা ছিল কিন্তু তা হবেনা। তাহলে দলের অনেককেই ফাঁসিতে ঝুলতে হবে কিন্তু তা হবেনা।

ভারতের বহুল প্রচারিত আনন্দবাজার পত্রিকা পড়ে জানা গেল ভারত সরকার নাকি মমতাকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন এবং একই সাথে অনেক ভয়ে আছেন আওয়ামী লীগ আবার ৯৬ সালের মত জামাতের সাথে বন্ধুত্ব করে বসে কিনা। কথা হল ৯৬ এ ক্ষমতার প্রয়োজনে এই আওয়ামীলীগও ঐ যুদ্ধাপরাধী দলে ভিড়েছিলেন। তখন তাঁদের এতটুকু লজ্জা হয়নি। আজ যখন ঐ ক্ষমতার জন্যই বিএনপি জামাতের সাথে হাত মিলালো তখন তাঁদের লজ্জায় মরে যাবার অবস্থা। আলী আহসান মুজাহিদকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় ৭১’এ তাঁদের ভূমিকা সম্পর্কে তখন তিনি সাহস করে বলে ফেললেন, আওয়ামী লীগ’এর সাথে তাঁদের এক সময়ের বন্ধুত্বের কথা। রাজনৈতিকদের লজ্জা আছে কিনা বা কখন এই লজ্জা মাথাচাড়া দেয় বলা খুব মুসকিল। কিন্তু এসব আমাদের খুব লজ্জায় ফেলে।

যদি সত্যিই কারও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার ইচ্ছে থাকত তাহলে এর জন্য ৪০ বছর লাগেনা। এ অবস্থা চলতে থাকলে ৪০ হাজার বছরেও তাঁদের বিচার হবেনা।

৪০ বছরেও যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে যে দলটির এতো ভাবনা হলনা হঠাৎ যখন দেখল ক্ষমতায় যাবার এটি সুবর্ণ সুযোগ বলে বসল ক্ষমতায় গেলে তাঁদের বিচার হবে। বিচার হল কই? এসব তো লোক দেখানো। এখন পর্যন্ত মামলায় এমন কোন দিক আমরা দেখিনি যা আমাদের আশা দেখাতে পারে।

যাদের একটি ভাল কাজ করার ইচ্ছে নেই, জোর করে তো তাঁরা তা করতে পারবেনা। এ বিচারের উদ্যোগটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক। মূলত বিরোধী দলকে দমন করতেই এই প্রচেষ্টা, দেশকে কলঙ্কমুক্ত করতে নয়। ক্ষমতার লোভে যে বিচার তা সফল হবার নয়। তাই এই বিচারের সফলতা আদৌ সম্ভব নয়।

যে দলটি বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে এতো মরিয়া হয়ে উঠেছে তাঁরা উঠবেনই বা-না কেন। জামাত তো এখন তাঁদের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ক্ষমতার জন্য তাঁদের বিএনপি’র দরকার। যে দলটিকে বাঁচাতে বিএনপি এতো মরিয়া সে দলের একসময়কার প্রধানকে যখন ধরা হল তখন বিএনপি চুপ। কেন? তিনি জামাতের তাতে কি তিনি তো এখন আর সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নন।
এই হল আমাদের রাজনীতি, এদের রেখেছ বাঙ্গালি করে মানুষ করনি।

আরিফ হোসেন সাঈদ
৫ এপ্রিল ২০১২