ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

গত ১১ই ফেব্রুয়ারি নিজ বাসা থেকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির মৃত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা যায় গত রাতেই কোন এক সময় তাঁদের খুন করা হয়েছে। সাগর-রুনির একমাত্র সন্তান মেঘের ভাষ্য মতে খুনিরা আগের রাতে তাঁদের বাসাতেই ছিল এবং তাঁদের পূর্ব পরিচিত। অনুমান করা হচ্ছে কোন গোপন তথ্যের জন্য তাঁরা খুন হয়েছেন। লাশ উদ্ধারের পর দুপুর বেলা সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত হন এবং খুনিদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন। তাঁর ভাষ্যমতে- “সাগরের মা ও রুনির মায়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। হত্যার বিচার চেয়ে দুই মায়ের আকুতি আমাকে খুবই কষ্ট দিয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুঁজে বের করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা শুনে তিনি যে দায়িত্বের প্রতি কতটা দৃঢ় শুধু তাই প্রমাণ হয়নি তিনি কতটা মমতাময়ী তাঁর পরিচয়ও মেলে বেশ।

তারপর কি হল। আগে যা হয়েছিল। শিশুকে শান্ত করার জন্য বড়রা তো কত কথাই বলেন। এরপর সাংবাদিকদের অনেক প্রতিবাদ কর্মসূচি কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না। গত ১৮ই মার্চ সকল সাংবাদিকরা এই হত্যার প্রতিবাদে এক মহাসমাবেশ ডাকেন। সেখানে সাগর-রুনির হত্যা বিষয়ে হাইকোর্টের রুলের সমালোচনা করে ঘোষণা করা হয় ৭ই এপ্রিলের মধ্যে সাগর-রুনির হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে ৮ই এপ্রিল তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে অবস্থান ধর্মঘট এবং সারা দেশে ডিসি ও এসপি অফিসের সামনে এই কর্মসূচি পালন করবেন। সেখানে সকল সাংবাদিকদের বিচারের দাবি তুলে ধরা হয়।

সাংবাদিকরা এই হত্যার তদন্তের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি গত ৩ এপ্রিল বলেন, “অপেক্ষা করেন। দেখেন, ধরা হয় কি না। অবশ্যই ধরা হবে” ঐদিন দুপুরে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আজ এ বিষয়ে কোনো কথা বলব না।”

সামনে ৮ই এপ্রিল সাংবাদিকদের কর্মসূচি ঘনিয়ে আসছে। ৭ই এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাস-ভবনে সাংবাদিক নেতাদের ডেকে সাগর-রুনি হত্যার বিচারের আশ্বাস দেন। ফলে সাংবাদিকরা ৫ই মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এতে কাজ না হলে ৬ এপ্রিল এই আন্দোলন কার্যকর করা হবে জানান। ব্যাপারটা একদম বিরোধী দলের সংসদে আসার মত। সদস্য পদ হারানোর ভয়ে তাঁরা সর্বশেষ দিন এসে উপস্থিত হন। এ বৈঠকে সাংবাদিকদের নির্যাতন বন্ধ সহ পূর্বে খুন হওয়া সকল সাংবাদিকদের হত্যার পুনঃ তদন্ত দাবি করেন সাংবাদিক নেতারা।

সাগর-রুনি হত্যা নিয়ে পুরো দেশকে সরকার অন্ধকারে রেখেছে। এ দেশ একটি স্বাধীন দেশ। এখানে নির্বচনের মাধ্যমে সরকার ক্ষমতায় আসে। এখানে তথ্য পাওয়া একটি মৌলিক অধিকার। এ দেশে সাংবাদিক হত্যার বিচার হয় না। এ বিষয়ে তথ্য চাইলে কোন তথ্য দেয়া হয় না। একটি স্বাধীন দেশে এ ধরনের সরকার কাম্য নয়। এটি গণতন্ত্রের নামে অন্যকিছু। এ অন্যায় ও অবিচারের প্রতিবাদ হবে।

সাগর-রুনির হত্যার প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে সকল সাংবাদিক হত্যা, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও অরাজক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতেই থাকবো আমরা সকল ব্লগাররা। এই প্রতিবাদের জয় হবেই। আমরা স্বপ্ন দেখি একদিন এ দেশে সত্যিকার গণতন্ত্র আসবে। বিনা বিচারে কেউ শৃঙ্খল বাহিনীর হাতে খুন হবে না। কেউ গুম হবে না। এ দেশ সত্যিকার অর্থে সোনার বাংলা হবে।

আরিফ হোসেন সাঈদ
৭ এপ্রিল ২০১২
কৃতজ্ঞতায়ঃ প্রথম আলো, বিডিনিউজ২৪ ডট কম