ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

আপনি যদি প্রশ্ন করেন দেশকে ভালবাসলে কি পাওয়া যাবে আমি বলব – কিছুই পাবেন না। তবে অনেক ভালবাসা পাবেন এটা কি কম কিছু? আপনি এই পৃথিবীতে একদিন এসেছিলেন আবার কোন একদিন চলে যাবেন। আসা আর যাওয়ার মধ্যে কোন কৃতিত্ব নেই। যদি দেশকে কিছু দিতে না পারেন এ জীবন মূল্যহীন। দেশকে কিছু দিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করুন। ভোগ বিলাস জীবনের লক্ষ নয়। একটি ছোট্ট ছেলের পাশে এসে দাঁড়ান একদিন আপনি থাকবেন না কিন্তু আপনার এই ভালবাসা টুকু সবাই স্মরণ করবে। ঘরের কোণে প্রাণ পাখিকে লুকিয়ে রাখার জন্য এ জীবন নয়। অন্যায় যদি আপনার সঙ্গে লড়াই করে জয়ী হয় সেটা নাহয় মেনেই নেব কিন্তু আগে লড়তে তো হবে।

এ গানটি আমি প্রায়ই শুনি। এক নদী রক্ত পেড়িয়ে বাংলার আকাশে রক্তিম সূর্য আনলে যারা তোমাদের এই ঋণ কোনদিন শোধ হবে না। তখন হাজার হাজার মানুষ সুর মিলিয়ে বলছে – না না না শোধ হবে না।
আন্দোলন সবাই করতে পারে না। দু একজন করে কিন্তু সবাই তাদের ভালবাসে শ্রদ্ধা করে। আপনি কি আসবেন ন্যায়ের পথে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিছু কথা বলতে?
আপনি কি সেই সৈনিকের সমাধির কথা শুনেছে। সেখানে লেখা আছে “এখানে একজন বিদ্রোহী সৈনিক ঘুমিয়ে আছে”। কিন্তু তার নামটি লেখা নেই। কেউ কোনদিন তার নামটি জানবে না। আপনি কি আসবেন।
ন্যায়ের জন্য কিছু কথা বলতে। ছোট্ট মেঘকে ভালবেসে তার পাশে দাড়াতে। এ চাওয়া কি বড় বেশি কিছু?

আপনি কি শুনেছেন সন্তানের জন্য কোন মায়ের ঘরের কোনে গভীর রাতে গুন গুন করে বুক চাপড়ে বিলাপ করার শব্দ। “আমার সোনা কোথায় রে” “আমার মানিক কোথায় রে” “আমার মানিক আমার সাত রাজার ধন”। এই কষ্ট বা বিষাদের ক্রন্দন দেখেছেন কি? এই কান্না দেখতে হলে আপনাকে টিকিট কাটতে হবে না। দুটো ঠিকানা আছে একটি সাগরের অন্যটি রুনির।

আপনি কি মেঘকে কখনো দেখেছেন। মেঘের সাথে আমার মাঝে মাঝে দেখা হয়। মেঘের উজ্জ্বল মুখের আড়ালে যে কষ্ট সেটা দেখা যায় না কিন্তু শোনা যায়। একদিন মেঘ আমাকে বলল – আমি এখন খেলব না। আমি বললাম – তুমি কি করবে। মেঘ আমাকে জানালো সে কাঁদবে। ছোটরা তো বড়দের মত নয়। মেঘ ঘরের এক কোণে বসে কাঁদে। এ কান্নার শব্দ শোনা যায় না। পৃথিবীর কোন মানুষের ক্ষমতা নেই এই দৃশ্য সহ্য করার। সে আমাকে জানালো তার মনে অনেক কষ্ট। বাবা-মা রূপকথার দেশে গেছে একদিন ফিরে আসবে। কেউ দরজায় এলে মেঘ দৌড়ে যায়। বাবা-মা বুঝি চলে এলো। মা তাকে এসে অনেক আদর করবে। সে আমাকে দেখাল মা তাকে এখানে অনেক পাপ্পী দেয়। কোন এক অপার্থিব জগত থেকে ধেয়ে আসা কষ্ট মেঘের আড়ালে ঘুরপাক খায়। আমি ভেবে পাই না এত ছোট্ট মেঘ এত কষ্ট কোথায় রাখবে। আমি তার কষ্টের ভাগীদার হতে চাই। যেদিন আমি এই ছোট্ট শিশুটিকে কাঁদতে দেখেছি সেদিন আমি শপথ করেছি যত বাধাই আসুক আমি মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকব। তার বাবা-মায়ের হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি প্রতিবাদ করে যাব দরকার হলে একাই প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে রোঁদ মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকব। সে প্ল্যাকার্ডে লেখা থাকবে “একটি অন্যায়ের বিচার চাই”।

আপনি কি সে ঘটনাটির কথা শুনেছেন। “২০০৬ সালের এপ্রিল মাস উত্তরবঙ্গের কানসাটে চলছিল বিদ্যুৎ সংক্রান্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন। স্থানীয় প্রশাসন বনাম মৌলিক অধিকারের দাবিতে আন্দোলনরত হাজারো মানুষ। চলমান আন্দোলন প্রতিহত করতে জারি হয় ১৪৪ ধারা। গ্রামের পর গ্রাম তল্লাশি চালিয়ে চলে গ্রেফতার। হাজারো মানুষের ক্রোধে ভঙ্গ হয় ১৪৪ ধারা। মিছিলের উপর পৈশাচিক আক্রমণ চালায় পুলিশ চালায় টিয়ার সেল অবশেষে গুলি। সেই গুলিতে ১২ই এপ্রিল নিহত হয় ১১ বছরের কিশোর আনোয়ার। ১৪ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ জাতীয় দৈনিকের প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হয় কানসাটে পুলিশের গুলিতে নিহত কিশোর আনোয়ারের রক্ত মাখা শার্ট হাতে দাঁড়িয়ে আছে তার মা। চোখে জল নেই, নেই শোক। ঘৃণা আর ক্রোধে লজ্জা পায় সভ্যতা।
আমরা গণতন্ত্রের মন্ত্র পড়ে হলাম গোলাম। সূত্র: প্রিতমের গান (কানসাট)”

আজ ১১ই এপ্রিল ২০১২, আসছে পহেলা বৈশাখ। আজও দেশে গণতন্ত্র নেই। এক অজানা আশঙ্কায় আমরা ঘর ছাড়ি প্রতিদিন।

আপনারা কি পরম মমতায় ছোট্ট মেঘের পাশে এসে দাঁড়াতে পারেন না। একদিন হয়তো আর কোন মেঘকে চুপি চুপি কাঁদতে হবে না। কিন্তু তার জন্য প্রতিবাদ করতে হবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে। আপনিও আসুন আমাদের সাথে স্লোগান দিন “আমাদের সংগ্রাম – চলবেই চলবে” “সাগর-রুনি’র রক্ত – বৃথা যেতে দেব না” “জ্বাল জ্বাল – আগুন জ্বাল” “আমার ভাইয়ের রক্ত – বৃথা যেতে দেব না” “আমার বোনের রক্ত – বৃথা যেতে দেব না” “আমার ভাই মরল কেন – প্রশাসন জবাব চাই” “আমার বোন মরল কেন – প্রশাসন জবাব চাই” “চলছে লড়াই চলবে – ব্লগাররা লড়বে”।

২০০৬ সালের পর থেকে আমি লেখক বন্ধ্যা রোগে ভুগছি। কিছুই লিখতে পারিনা। এ লেখাটা সকল ব্লগারদের ন্যায়ের পক্ষে আন্দোলন মুখী করার জন্য। এটা আমার জন্য একটা চ্যালেঞ্জের মত। আপনারা যদি এগিয়ে না আসেন আমি ভাবব এটি আমার ব্যর্থতা। আপনারা আসুন আইনের বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কথা বলুন।

আরিফ হোসেন সাঈদ
১১ই এপ্রিল