ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

দুই পক্ষই সত্য থেকে দূরে সরে গেছে (আওয়ামী লীগ ও বিএনপি)। সত্য ব্যাপার হচ্ছে আমাদের ল’তে একটা সহজ কথা equitable solution, ন্যায় ভিত্তিক সলিউশন, ন্যায় ভিত্তিক সলিউশনে কোন পক্ষই পরাজিত হয় না। ন্যায় ভিত্তিক সলিউশনের মূল লক্ষই হচ্ছে উইন-উইন সিচুয়েশন। আমার নিজের কাছে অত্যন্ত সৎভাবে দেখলে যেটা মনে হয় সেটা হচ্ছে এই রায়টা সরকারের অবশ্যই একটা সাফল্য। কিন্তু যেভাবে বা যতভাবে বলা হচ্ছে সমুদ্র জয় করে এসেছে তারপর … পোষ্টার দিয়ে ঢাকা শহর ছেয়ে ফেলা হচ্ছে, পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে … যে হাইট তোলা হচ্ছে এটা ঠিক না। আলটিমেটলি কি হয়েছে, আলটিমেটলি ITLOS যেটা বলেছে Continental Shalt এর ব্যাপারে, এ’ত রায়ে স্পষ্ট আছে, সবাই দেখতে পারে। বাংলাদেশ পেয়েছে এক লক্ষ পনের হাজার নটিক্যাল মাইলের মত, মিয়ানমার পেয়েছে এক লক্ষ সাতাত্তর হাজার নটিক্যাল মাইলের মত। বাংলাদেশ যতটুকু দাবি করেছিল, ততটুকু বাংলাদেশ পায়নি। আমাদের পররাষ্ট্র-মন্ত্রী যে বললেন- যা চেয়েছি আমরা তাই পেয়েছি। আপনি ওনাকে ডাকেন না আমাদের সাথে। কারণ এই রায়ের মধ্যে বাংলাদেশের একটা প্রধান Contention ছিল Natural Prolongation Theory এটা তো আদালত নাকচ করে দিয়েছে।

এই রায়ের মধ্যে বাংলাদেশের আরেকটা আর্গুমেন্ট ছিল ৭৪ সনে যে বাংলাদেশ মিয়ানমার যে Minute ছিল সেই minute’s এর গ্রহণযোগ্যতা। সেটা আদালত গ্রহণ করেনি। এই রায়ের মধ্যে সেন্টমার্টিন ভিত্তিক একধরনের equitable solution করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেটাও আদালত মানে নাই। এতগুলো নেগেটিভ কথা বললাম তার মানে এই না যে বাংলাদেশ পরাজিত হয়েছে। অবশ্যই বাংলাদেশ বিজয়ী হয়েছে। এই ITLOS এ যদি বাংলাদেশ না যেত, ভারত আর মিয়ানমার যদি তাদের যে কাঙ্ক্ষিত সমুদ্র সীমা সেটা করত, তাহলে বাংলাদেশ যেটুকু পেত এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার চেয়ে অনেক বেশি পেয়েছে। কিন্তু এই মানে বাংলাদেশ যাই চেয়েছে তাই পেয়েছে এটা তো হতে পারেনা। এখানে আবার কিছু কিছু প্রচারণা আছে … কোন কোন উইনিভার্সিটির ভিপি হয়তো জয়েন করেছে বিজ্ঞাপন দিয়ে এবং এমন কথা বলা হচ্ছে যে প্রধানমন্ত্রী এক লক্ষ বার হাজার কি.মি. ন.মা. আমাদের জন্য উনি জয় করে নিয়ে এসেছেন।

এইখানে তিনটা জিনিস আছে, নাম্বার ওয়ান হচ্ছে যদি মিয়ানমার আর ভারতের যে সমুদ্র সীমা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল আমাদের উপর বা আমরা যদি ধরেন পুরাপুরি হেরে গেলাম, তারপরও আমরা ১৩০ নটিক্যাল মাইল এক্সক্লুসিভ ইকনমিক জোন পেতাম। বিজয়ের কারণে পেয়েছি ২০০ নটিক্যাল মাইল। ভেরি ইম্পরট্যান্ট Victory এটা, ৭০ নটিক্যাল মাইল বেশি পেয়েছি। ১৩০ নটিক্যাল মাইল তো আপনার বাংলাদেশের সবচেয়ে অযোগ্য শাসক থাকলেও, বাংলাদেশের সবচেয়ে দেশ প্রেমহীন শাসক থাকলেও পেতাম। তো এক্সট্রা আমরা ৭০ পেয়েছি। এখন যেভাবে হাইটটা তোলা হচ্ছে এটার কারণে বিএনপিও ঐ যতভাবে পারে এই রায়টায় যে অর্জন সেটা ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করছে। এখন আমাদের নাগরিক সমাজের দায়িত্ব হচ্ছে প্রকৃত বিজয় যতটুকু, ততটুকুর কারণেই সরকারকে আমাদের অভিনন্দন জানানো উচিত। কিন্তু প্রকৃত বিজয়কে যখন নির্বাচনী Strategy তে এই হাইট তুলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- আপনারা আমাকে ভোট দেন আমরা ভারতের সাথে সমুদ্র সীমা জয় করে আনব।

ওনার খুব খারাপ লাগতে পারে এই প্রোগ্রামটা দেখলে, তখন স্বাভাবিকভাবে আমাদের মনে হয় আপনি একটা নদীর পানি আনতে পারেন না এত বছর হলে গেল তিস্তার নদীর পানি বলে পেয়েই যাচ্ছি আমরা নদীর পানি পেলাম না সীমান্তে হত্যা বন্ধ হলো না তারপরে ছিটমহলগুলো পরিপূর্ণভাবে … হলো না এগুলি পারলেননা এতো বড় একটা জিনিস পেয়ে যাব সমুদ্র ইজ মাচ মোর ইম্পরট্যান্ট। এখানে যদি আমরা ইন্ডিয়ার সাথে জিতিও এটা কি আমরা শেখ হাসিনার গভর্নমেন্ট না থাকলে জিতব না? শেখ হাসিনার গভর্নমেন্ট অলরেডি একটা ভাল ডিসিশন নিয়েছে যে আন্তর্জাতিক সালিস আদালতে গেছে। বিষয়টা ভাল। এরপর যদি শেখ হাসিনার গভর্নমেন্ট না এসে ধরেন যদি দিলিপ বড়ুয়ার দলও ক্ষমতায় আসে যদি ঐ আন্তর্জাতিক সালিশ আদালত থেকে নিজেকে Withdraw না করে শেখ হাসিনার দল সরকার যে ভিত্তি স্থাপন করে গেছে শুধু যদি ওটা Continue করে তারপর দিলিপ বড়ুয়ার দলও আপনার শেখ হাসিনার দলের সমান Performance দেখাতে পারবে। যদি ওটা Withdraw না করে। এখন Withdraw করবে এমন সরকার তো বাংলাদেশে হওয়ার কোন চান্স নাই। আরেকটা জিনিস হচ্ছে এটা একটা দায়িত্ব। আমি আপনাকে সোজা করে বলি। আমি যদি ঢাকা উইনিভার্সিটিতে রেগুলার ক্লাস নেই এখন আমি কি আমার ছাত্র-ছাত্রীদের বলব নাকি যে নজরুল স্যার ১০০ টা ক্লাসের মধ্যে ১০০ টা ক্লাসই নিয়েছে, উনি জয় করেছে, ভাল শিক্ষকতাকে জয় করেছে, এটা আমার দায়িত্ব। আমি যদি না পারি তখন’না একটা নিউজ হবে যেমন উনি ১০০ টা ক্লাসের মধ্যে ৫০ টা নেয় নাই। সরকারের দায়িত্ব, সরকার ভাল ডিসিশন নিয়েছে। ITLOS গিয়েছে, That’s a very good decision. ITLOS এর জন্য সরকার যে টীম বাছাই করেছে গুড ডিসিশন। এখন আমার আশা করি এই সাহসিকতা এই দক্ষতা ভারতের সাথেও যেন দেখানো হয়। অলরেডি কিন্তু এই আওয়াজ তুলতে শুরু করেছে ভারতের সাথে negotiation’এ যাওয়া যায় নাকি। ভারতের সাথে negotiation’এ গিয়ে যদি আমরা চুক্তিও করি ঐ চুক্তি কি কোন দিন আমরা কার্যকর করতে পারবো? ভারতের সাথে negotiation হওয়ার পর আমরা ৩ বিঘা করিডোর পাইনা আজকে প্রায় ৪০ বছর ধরে। আর ৩ বিঘার চেয়ে লক্ষ লক্ষ গুণ বড় সমুদ্র সীমা যদি ভারতের সাথে চুক্তিও হয় আমাদের দিয়ে দেবে? এই পুরো Approach টাইতো ভুল। আমি মনে করিনা বিএনপি যদি আজকে ক্ষমতায় আসে বা জাতীয় পার্টি যদি ক্ষমতায় আসে বা … বা সাম্যবাদী দল যদি ক্ষমতায় আসে তারাও পারবে।

– এই Judgment টাকে আপনি কি বলবেন? আপনি কিন্তু বলছেন গভর্নমেন্ট জিতেছে আবার বড় জেতাও জিতে নি।

এটা একটা উইন-উইন সিচুয়েশান হয়েছে। বাংলাদেশের জন্যও উইন হয়েছে, মিয়ানমারের জন্যও উইন হয়েছে। একদিক দিয়ে দেখলে বাংলাদেশের জন্য উইনটা একটু বেশি কারণ মিয়ানমারের সাথে অলরেডি আপনার ভারতের এক ধরনের মৈত্রী আছে এই জায়গায় বাংলাদেশকে কম দেয়ার জন্য, বাংলাদেশকে চেপে ধরার জন্য। সেখানে বাংলাদেশ এই এক … বিরুদ্ধে ফাইট করে জিতে এসেছে। আপনি যদি এখন পারসেন্টেজ ওয়াইজ বলেন, আমি মনে করি বাংলাদেশ যা পেয়েছে, বাংলাদেশের জন্য যতটুকু পাওয়া সম্ভব ছিল তার ৯০ – ১০০ ভাগই পেয়েছি। যতটুকু পাওয়া সম্ভব ছিল আইনগত ভাবে তার ১০০ ভাগই পেয়েছি। কিন্তু যা চেয়েছি তার খুব বেশি হলে ৭০ ভাগ পেয়েছি।

০১ এপ্রিল ২০১২

সূত্র: বাংলাভিষণে প্রচারিত News & Views অনুষ্ঠানের অডিও পডকাস্ট