ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

তুমি আছো তাই স্বপ্ন সাজাই
ভুলে গিয়ে সব অভিমান।
তুমি আছো তাই বদলাতে চাই
জীর্ণ সমাজের অভিধান।
তুমি আছো তাই কোন দুঃখ না
পোড়ায় না আর সৃতির লোবান।
তুমি আছো তাই সব দীর্ঘ শ্বাস
একে একে হল স্লোগান।
তুমি আছো তাই অসম্ভবের
চিরতরে দিলাম ছুটি।
তুমি আছো তাই দু:শাসকের
কেঁপে উঠে শক্ত খুঁটি।
– প্রিতমের গান থেকে (স্লোগান)

কিছু কিছু মানুষের সংসার নেই। বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে নেই। খাওয়া-দাওয়া নেই। এই মানুষগুলো বড় নোংরা। তাদের আছে শুধু একটা দেশ। তারা জীবনের কথা চিন্তা করেন না। ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করেন না। টাকা কামানোর মেশিনের পেছনে ছুটেন না। যারা টাকার চিন্তা করেন তারা সাংবাদিকতা করেন না। তারা হয় পুলিশে ঢুকেন বা রাজনীতি করেন। এসি রুমে বসে আরাম করার স্বপ্ন তারা দেখেন না। বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটবে কিনা বা দুবেলা দুমুঠো ভাত জুটবে কিনা তাও চিন্তা করেন না। রোদ হোক বৃষ্টি হোক বা মাথায় বাজই পড়ুক তাদের ছুটে যেতে হয়। তবুও তারা ক্লান্ত নন। তারা দেশকে ভালবাসেন। দেশের এই ভঙ্গুর গণতন্ত্রকে তারা আগলে রেখেছেন। কিন্তু যারা এ দেশে গণতন্ত্রের আড়ালে স্বৈরাচারী শাসক তাদের নির্মমতায় দেশের এই অদৃশ্য প্রহরী গুলো আজ ভীষণ রক্তাক্ত।
বুকে গুলি আসুক বা আসুক বুটের লাথি তাদের পথ চলা ফুরাবে না। তারা সময়ের সাহসী সন্তান। তারা সুন্দর একটি দেশ চায়।

এই সাংবাদিক নির্যাতন হত্যা এ দেশে একটি নিয়মিত ঘটনা। সরকার আর প্রশাসনের বড় ক্ষোভ তাদের উপর। তাদের রাস্তা পরিষ্কারের জন্য একে একে প্রাণ হারাচ্ছেন সাংবাদিকরা। তবুও তারা লিখে যান অবিরত। প্রতিবাদ করেন সবসময়। তারা অন্যায়ের সাথে কথা বলতে ভয় করেন না। সম্প্রতি ৭০ লাখ টাকা আটকের ব্যাপারে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি সাংবাদিকদের উপর ক্ষিপ্ত বিরক্ত হন। তিনি তাদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ধমকে উঠেন, চুপ, চুপ, চুপ কর। এভাবে আলোর পথ বন্ধ করা যায় না। বরং অন্ধকারে থাকা মুখোশ বেড়িয়ে আসে। সুরঞ্জিতের এই আচরণ নিয়ে পরে বিশ্লেষণ করা যাবে। কিন্তু দুর্বলতার কাছে যেখানে অন্যায়ের বসবাস সেখানে সাংবাদিকরা চুপ করবে না। তাই তারা আবারও প্রশ্ন করলে সুরঞ্জিত সরাসরি ব্যক্তিগত আক্রমণে চলে যান। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “কিচ্ছু লেখাপড়া করবে না … পণ্ডিতি করবে”। একজন ৫৫ বছরের শক্তিশালী রাজনীতিবিদ যদি এভাবে নগ্ন হয়ে সত্য উন্মোচনে বাধা হয়ে দাঁড়ান সূর্যকে চোখ রাঙিয়ে আলোর মুখ চেপে ধরেন তখন আমরা বড় অসহায় বোধ করি। এতে শুধু সাংবাদিকদের উপর সরকারের ক্ষোভই প্রকাশ পায়নি। এদেশে গণতন্ত্র যে কতটা দুর্বল তাও ফুটে উঠেছে।

নতুন বছরের শুরুতে একটি সাংবাদিক নির্যাতনের খবর: পহেলা বৈশাখ রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দৈনিক সমকাল ও কালের কণ্ঠের দুজন সাংবাদিক তথ্য চাইতে গেলে তাদের উপর পুলিশ যেভাবে চড়াও হয় তা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাংবাদিকদের উপর পুরো প্রশাসনের ক্ষোভই যে প্রকাশ পেয়েছে। এতে শুধু দুজন সাংবাদিকই নির্যাতিত হননি। নির্যাতিত হয়েছে তথ্য পাওয়া অধিকার, নির্যাতিত হয়েছে গণতন্ত্র, নির্যাতিত হয়েছে দেশ, নির্যাতিত হয়েছে সকল অসহায়রা, নির্যাতিত হয়েছে সচেতন সমাজ।

একের পর এক সাংবাদিক খুন হচ্ছে। এতে প্রশাসনের অবস্থান ও সাংবাদিক নির্যাতন আমাদের জানান দিচ্ছে এই সাংবাদিকদের খুনিরা কারা বা কাদের নির্দেশে এগুলো হচ্ছে। প্রশাসন সাংবাদিকদের খুনের কোন সুরাহা করতে পারছে না বা চাচ্ছে না। এবং সাংবাদিকদের উপর তাদের এই নগ্ন হামলাতেই প্রকাশ পায় আজ সরকার-প্রশাসনের সাথে সাংবাদিকরা কোথায় অবস্থান করছেন। যারা এই সোনার বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে তারা অন্ধকারের কালো হাত তারা রাজনীতি করেন টাকার জন্য। তাদের একদিন এ মাটিতে বিচার হবে।

আরিফ হোসেন সাঈদ
১৫ এপ্রিল ২০১২
সূত্র: বিডিনিউজ২৪ডটকম, পহেলা বৈশাখ