ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আমি ১লা মার্চ “মহামান্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রসঙ্গে জ্ঞানী বলদ ও বুদ্ধিমান ছাগলের কথোপকথন” নামে একটা স্যাটায়ার দিয়েছিলাম। বর্তমান সমাজে অপরাধীদের বিচার না হওয়ায় এতে অপরাধ প্রবণরা যে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে তা বুঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। অপরাধের বিচার না হলে অপরাধীরা উদ্বুদ্ধ হবেই। তারা ভাববে খুন বা অন্যায় করলেও কিছুই হবে না। আসলে এতদিনে অপরাধীদের একটি ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গেছে খুন করে গা ঢাকা দিতে পারলেই হল। আর কোন চিন্তা নেই। এর সর্বশেষ উদাহরণ চালক মিন্টুর হাতে ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেয়ার লি: এর পরিচালক ‘ফাহিমা’ খুন। সাগর-রুনি খুন হয়েছে ৬৯ দিন হতে চলেছে। কিন্তু খুনিরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তাই এর পরবর্তী সকল খুনে খুনিদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য প্রথমত দায়ী সরকার। খুনিদের সাঁজা দেয়ার পূর্বে এই অপরাধে সরকারের গুটি চালকদের সাঁজা দেয়া উচিত। সরকার বিচার না করায় পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে খুনের সাঁজা জেনেও অপরাধী মন খুন করে যাচ্ছে।
লোকজন বলছেন, ড্রাইভার মিন্টু ভেবেছিল সাগর-রুনি’র খুনিদের ধরেনি আমাকেও ধরতে পারবেনা। কিন্তু বোকা ড্রাইভার তো জানে না সাগর-রুনি হত্যার সাথে কোন না কোন ভাবে সরকার দলের কেউ জড়িত তাই আমাদের গোয়েন্দা বিভাগ শার্লক হোমস হলেও তাদের ধরা হবে না।

কিন্তু তুই তো শালা একজন সাধারণ গাড়ির ড্রাইভার। তুই ধরা পড়েছিস ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই।

ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেয়ার লি: এর পরিচালক ফাহিমার খুনিদের ধরতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যে দক্ষতা দেখিয়েছে এটাই হচ্ছে স্বাভাবিক। গতকাল যখন খুনের খবর শুনি তখন আমি নিশ্চিত ছিলাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই খুনি ধরা পরবে। কারণ সে সামান্য ড্রাইভার ক্ষমতাবান কেউ নয়। এতে প্রমাণ হয় ইচ্ছে করলেই খুনিদের ধরা যায়। এবং এতে এটাও প্রমাণ হয় ইচ্ছে করেই সরকার সাগর-রুনি’র হত্যাকারীদের ধরছে না।

আমাদের জন্য আমাদের সরকারগুলোর যেমন মায়া নেই তেমনি ক্ষমতার জন্যও তাদের তেমন ভাবতে হয় না। তারা জানেন যত অকর্মই তারা করুক পাঁচ বছর বিরতির পর তারা আবারো ক্ষমতায় আসবেন।
আর আমরা লোভী আওয়ামী-বিএনপি ওয়ালারা তাদের ভাল কিছু না পেয়ে কে কত কম অকর্ম করেছে তা নিয়ে গর্ব করব। আমরা দিন দিন অসভ্য হয়ে যাচ্ছি।

আরিফ হোসেন সাঈদ
১৯ এপ্রিল ১২