ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

আজ ব্লগার ও সাংবাদিক সোহেল মাহমুদের সাথে কথা বলে বাসে করে ফিরছিলাম। আমার সম্মুখে বসেছিলেন এক প্রৌঢ়। তাঁর হাতে একজোড়া ছোট গোলাপি জুতো। বারবার সেগুলো দেখছিলেন। আর আমি মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম তাঁকে। ভালবাসার এমন রূপ আর দেখেছি বলে মনে হয় না। হয়তো তার দু বর্ষের ছোট একটি মেয়ে আছে। সে এগুলো পড়ে হাঁটছে …

আজ ভালবাসার দুটি কথাই না হয় বলি কেমন। কিছু কিছু লোক আছেন তারা ভালবাসা লুকিয়ে রাখতে চান। তারা খুব গোপনে কোন জায়গায় তা রেখে দেন কেউ যেন এর সন্ধান না পায়। খবরদার কখনও তাদের ওই গোপন কোঠায় হাত দেবেন না যেন। তাহলে আপনি আক্রান্ত হতে পারেন। তাদের কাছে এটা একটা দুর্বলতা। তারা তা দেখাতে চায় না। তারা হার মানতে জানেনা। হয়তো আপনাকে আক্রমণ করে বসবে বা কেঁদে ফেলবে। হয়তো আপনার সাথে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। বাউলা শ্রেণীর এই মহাপুরুষগুলো কোন গর্ভে জন্মায় জানি না। কিন্তু তাদের ভালবাসার সন্ধান কেউ পায় না। তাদের কঠোর ঐ চেহারার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক মহামানব। সেই মানব এতই শক্তিশালী যে তারা ভয় পান। না যেন সব ধ্বংস হয়ে যায়। ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। কখনও তাদের সম্মুখে মন উতলা করা কথা বল না। তাদের ভালবাসা বা কোন নির্মমতার কথাও শোনাবে না। তাদের সামনে কোন বিচ্ছেদের গানও গেয় না।

কিছু দিন আগে বাংলাদেশে একটি ব্যান্ডের জন্ম হয়েছিল। ব্যান্ডের নাম ছিল মাস্ক। তাদের সব সদস্যরা মাস্ক পরে থাকেন। ঐ বাউলা প্রকৃতির আউলাদের পায়ে শেকল দিতে হবে না হয় তারা কোন এক আষাঢ়ী পূর্ণিমা রাতে ঘর ছাড়া হবে। এক আষাঢ়ী পূর্ণিমার রাতে চারদিকে উথাল পাথাল জোছনা নামবে। সে জোছনা এতই প্রবল হবে যে তা উঠোন পেরিয়ে ঘরে চলে আসবে। সে জোছনায় পাগল না হয়ে পারা যাবে না। তারা ঘর ছাড়া হবেন। পথ ধরলে কি আর ঘরে ফেরা হয়।

আমি কি বলতে চেয়েছিলাম জানি না। কি বলছি তাও জানিনা। আমার ঘুম পেয়েছে। অনেক দিন আমি ঘুমাই না। আজ আমি ঘুমবো। কেউ এসে জাগিয়ে দিও না। সাবধান।