ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

গত ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হন। আজ ১১ দিন চলছে। এখনও সরকার তার কোন সন্ধান দিতে পারেনি। আমাদের আজ আলোচনার বিষয় ‘ইলিয়াস আলীর সন্ধান সত্যিই কি সবার অজানা?’
ক্ষমতাবানদের কথাই সবাই আগে বলে। তাই সরকারের কথা দিয়েই শুরু করছি। সরকারের ভাষ্য মতে ‘ইলিয়াস আলী তার নেত্রীর (বেগম জিয়া) নির্দেশে আত্মগোপন করেছেন।’ নিখোঁজের পর থেকে এই হল সরকারের একমাত্র অগ্রগতি।

ধরেই নিলাম খালেদার নির্দেশেই ইলিয়াস আলী আত্মগোপন করেছেন। তাহলে প্রথমেই যে প্রশ্নটি করতে হয় এখনও তিনি নিখোঁজ কেন? তবে কি বিরোধী দল সরকারের চেয়ে বেশি শক্তিশালী? এটাও না হয় ধরেই নিলাম বিরোধী দল সরকারের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। তবে এতগুলো আল্টিমেটামের পরও টিকে আছেন কি করে? কি সেই শক্তি? যদি উত্তর দিতে না পারেন তবে এই যুক্তি নর্দমায় মারা যাবে।

স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে খুব সুন্দর একটি যুক্তি আছে। ধরুন, আপনাদের বাড়ির সঙ্গে অন্য একটি বাড়ির সংঘর্ষ আরম্ভ হল। এখন আপনার বাবা যিনি পরিবারের কর্তা তিনি বিদ্যমান আছেন। এখন আপনি মাঠে গিয়ে বাবার নাম উল্লেখ না করেই বড় কিছু ঘোষণা দিয়ে বসলেন। এটি কি মাঠে টিকবে? লোকজন কি বলবে? আপনার নির্দেশে হয়েছে না আপনার বাবার নির্দেশে হয়েছে? সবাই কি আপনার নির্দেশ মেনে নেবে?

এখন আপনার বাড়িতে যদি কেউ লুকিয়ে থাকে বা লুকিয়ে রাখা হয় আর আপনি যদি বলেন এটি কলিমুদ্দিন সলিমুদ্দিনের কাজ। এটি কি মাঠে টিকবে? আপনার বাড়িতে যদি আপনারই কর্তৃত্ব বজায় না থাকে তবে বাড়ি (দেশ) চালাচ্ছেন কি করে?

আসলে কথাগুলো এত বেশি হাস্যকর শোনায় যে, কারও যদি আই-কিউ ভাল হয় তবে এগুলো খুব বড় বড় জোকস হতে পারে। সরকার আমাদের নির্বোধ মনে করে!

এখন একটু চোখ বুলানোর বিষয়। বর্তমান সরকারের প্রায় ৪ বছরের শাসনামলে যতজন নিখোঁজ হয়েছেন তাদের কারও রহস্য কি উদ্ঘাটিত হয়েছে? তাদের কজন জীবিত ফিরে এসেছে? গুম ও খুনের দায়িত্ব কি সরকারের না বিরোধী দলের? দেশ চালানোর জন্য কি বিরোধী দল বেতন পাচ্ছে নাকি সরকারী দল বেতন পাচ্ছে?

অতীতে কে কি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা হিসাব করতে গেলে কাপড় নষ্ট হয়ে যেতে পারে যা পড়ে গন্ধ ছড়াবে। সে কথা থাক। বর্তমানে আসি। কিছুদিন আগে মাইশা নামে ৮ মাসের একটি শিশু অপহৃত হল। পুলিশের ভাষ্য মতে তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের অবস্থান সনাক্ত করে ফেলে। এক পর্যায়ে তারা মাইশাকে ফেরত দিতে বাধ্য হয়। মাইশাকে অপহরণ করে রাখা নিশ্চয়ই ইলিয়াস আলীর চেয়ে অনেক
সহজ ও নিরাপদ হবার কথা। কিন্তু পুলিশ তাদের অবস্থান জেনে যায়। ইলিয়াস আলীর ব্যাপারে জানে না কেন? তারা কি আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর চেয়েও অধিক শক্তিশালী!

বর্তমানে ইলিয়াস আলীকে গুমের প্রতিবাদে বিরোধী দলের ২য় দফা হরতাল চলছে। হরতাল কখনোই একটি দেশের জন্য মঙ্গলজনক হতে পারে না। বিরোধী দল দেশের ভাল চায় কি খারাপ চায় সেটা পরের কথা। যদি বলি সরকারই তাদের এ সুযোগ করে দিয়েছে এজন্য সরকারই দায়ী তবে কি ভুল বলা হবে? হরতালের জন্য যে প্রাণগুলো ঝরে গেল এজন্য দায়ী কে? নিশ্চয়ই তাদের যারা দেশ চালানোর জন্য বেতন পান।

আরেকটি বড় কথা বিরোধী দলীয় লোকজনই শুধু অপহৃত হয় কেন? সরকারী লোকজনগুলো কোথায়। নাকি সময়টাই এমন যে, এখন আম-কাঁঠালের মৌসুম।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত একটি সংবাদে বলা হয়েছে, পুলিশ সদস্যের সম্মুখেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন ইলিয়াস আলীকে আটক করে নিয়ে যায়। তাহলে পুলিশ সদস্য বাধা দেয়নি কেন? কারণ তাদের কাছে যে পরিচয় পত্র ছিল তাতে বাধা দেয়া যায় না। মজার ব্যাপার হল, সরকার এখনও এই সংবাদের কোন প্রতিবাদ করেনি। কেন? সরকার কি সংবাদপত্র পড়ে না? না তা নয়, কারণ এটি সরকারের অজানা নয় যে এ ধরনের রিপোর্ট নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া করা হয় না।

সরকার কিন্তু ফেঁসে গেছে।

আরিফ হোসেন সাঈদ
২৯ এপ্রিল ২০১২