ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

সেদিন চৈত্র মাস। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি’র হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে রাজপথে ব্লগারদের ৪র্থ প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন চলছিল। ১১ই মে ২০১২, কর্মসূচির অংশ ছিল জ্বালাময়ী পথ সঙ্গীত ও যেখানে আলো থাকে না সেখানে মোমবাতি প্রজ্বলন অনুষ্ঠান।

প্রতিদিনই ব্লগারদের কাজ একটু একটু করে আগাচ্ছিল। ১১ই মে ২০১২, দুপুর বেলা। ব্লগারদের পথ সঙ্গীতে যোগ দেয়ার কথা জানান, মিউজিক ব্যান্ড ‘স্পীড ব্রেকার’। তৈরি হচ্ছে সাউন্ড সিস্টেম। প্রয়োজন খোলামেলা অনেকটা জায়গা। কিন্তু পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে এতো জায়গা নেই। রয়েছে ছোট্ট একটি জায়গা। আগে থেকেই এই প্রতিবাদী কনসার্ট সম্পর্কে সবাইকে জানানো হয়েছিল। সেখানে জমবে মানুষ, হবে প্রতিবাদী জনতার আনাগোনা। কিন্তু সেখানে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে একটি পুলিশের গাড়ি। প্রচলিত সতর্কীকরণ: ‘বুঝতেই পারছেন, যেহেতু এখানে জনগণের বন্ধুর গাড়ি আছে সুতরাং এইখানে ঝামেলা আছে। ১০০ … দূরে থাকুন।’ কেউ জমতে পারল না সেখানে।

সবকিছু রেডি। প্রয়োজন শুধু ইলেকট্রিসিটি। প্রশাসন থেকে জানানো হল, ইলেক্ট্রিসিটি পাবেন না। আপনাদের কোন প্রতিবাদও হবে না।
-মানে!
-মানে, সব অফ।
স্পীড ব্রেকারকে বিষয়টি জানানো হল। সরকারের অগ্নি চক্ষু আছে জেনেও তারা গান গাইতে রাজি হল। শুধু তাই নয় তারা খালি গলায় গান গাইবে! সরকারের আচরণে আমরা হতভম্ব হইনি। ওটা কুকুরের লেজ। কিন্তু ‘স্পীড ব্রেকার’- এর কথায় আমরা হতভম্ব হলাম। বেটারা বলে কি! সাহস না হয় জন্মের সময় একটু বেশিই পেয়েছে। তাই বলে খালি গলায় গান গাইবে!

আমি কয়েকবার এক ওস্তাদকে (যিনি গানের গুরু, সবাইকে গান শেখান।) অনুরোধ করেছিলাম খালি গলায় গান গাইতে। তিনি রাজি হননি বরং প্রতিবারই হারমোনিয়াম বাজিয়ে আমায় গান শুনিয়ে দিতেন।
স্পীড ব্রেকার যখন ড্রামসে হাত দিল তখন আকাশে ঝড়ের ঘনঘটা। ঝড় আসবে নাকি। নাকি এ বেটারা ঝড় ডেকে নিয়ে এসেছে। খালি গলায় প্রথম গানটি হল – ‘জানি শুধু চলতে হবে, এ তরী বাইতে হবে’। তখন ঝড় হবার অপেক্ষায়। ঝড় কিন্তু এসেছিল। এইটুকুন ছেলেগুলোর সাহস আর গলার জোরে যে ঝড় বইছিল এর সাথে কি কাল বৈশাখী যায়! শুনেছিলাম তানসেনের গান শুনে নাকি চারিদিকে আগুন জ্বলে উঠত। কিন্তু এই ছেলেগুলোর গলা ফাটানো চিৎকারে যে ঝড় চলে এলো!
তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর, পাড়ি দিব রে

দুর্গম গিরি, কান্তার মরু

মাগো ভাবনা কেন

ব্যান্ড - স্পীড ব্রেকার, সদস্য - নোমান

কনসার্ট শেষে আমি স্পীড ব্রেকারকে বলেছিলাম, “আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমে যে রক ব্যান্ড গান গায় তারা আজ তাঁর থেকে অনেক বেশি ভাল গান গেয়েছে।”

ব্যান্ড - স্পীড ব্রেকার

স্পীড ব্রেকারের প্রধান ভোকালে ছিল রুমানা, ড্রামসে ছিল নোমান, গীটারে ছিল হৃদয় ও অয়ন, প্রধান ও ব্যাকআপ ভোকালে ছিল যুবায়ের, বেস গিটারে ছিল রিফাত। কিন্তু ভোকাল আর ড্রামস পেটানো ছাড়া বাকি সবটা গলার উপর দিয়েই গেছে।

স্পীড ব্রেকার থেকে নোমান বলেন, “আমরা সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি’র খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং সঠিক বিচারের দাবিতে পথ সঙ্গীতে যোগ দিয়েছি। আজকের এই কর্মসূচিতে যোগদান করে আমরা খুবই আনন্দিত। এর মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সাগর-রুনি হত্যার সঠিক বিচার হবে এই আশা করছি।”

আরিফ হোসেন সাঈদ
১২ই মে ২০১২