ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

 

প্রধান কয়েকটি সাংবাদিক সংগঠনের ডাকা ১৫ই মে’র পূর্ব নির্ধারিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আজ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলা ভাষার ব্লগারদের উপস্থিতি ছিল। উপস্থিত রিপোর্টারদের সাথে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্লাটফর্মের ব্লগারদের প্রতিবাদী স্লোগানে প্রেস ক্লাব ও সচিবালয় প্রাঙ্গণ বার বার কেপে কেপে উঠে।

১৫ই মে সাংবাদিকদের পরবর্তী কর্মসূচিতে প্রতিবাদ মিছিলে বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশ কয়েকটি ব্যানার ছিনিয়ে নিতে চায়।

১৫ই মে’র সাংবাদিকদের প্রতিবাদ কর্মসূচি ছিল বেলা ১১ টায় প্রেসক্লাব ১নং গেইট থেকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল, এবং তা পল্টন পুলিশ বক্স মোড় দিয়ে ঘুরে এসে সচিবালয় ১নং গেইটে পর্যন্ত চলবে। সচিবালয় ১নং গেইটে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি। তারপর সবশেষে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা।

১৫ই মে সাংবাদিকদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার সময় প্রেসক্লাবের ২নং গেইটে পুলিশের ব্যারিকেড।

পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, তরুণ সাংবাদিক, ব্লগার ও রিপোর্টাররা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদী মিছিল নিয়ে যাত্রা শুরু করলে প্রথমেই পল্টন পুলিশ বক্সে তারা দু’দফায় পুলিশী বাধার মুখে পড়েন। এ সময় তারা বজ্র কণ্ঠে স্লোগান দিতে থাকে, ‘ঘেরাও হবে ঘেরাও হবে সচিবালয় ঘেরাও হবে’ ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না, সাগর-রুনি মরল কেন প্রশাসন জবাব চাই’। এক সময় তারা পুলিশী বাধা ও ব্যারিকেড উপেক্ষা করে সচিবালয়ের দিকে ছুটেন। তারপর তারা সচিবালয় এলাকার প্রবেশ মুখে ফটকে আরো জোরালো বাধার সম্মুখীন হন। এ সময় প্রতিবাদীদের একটি অংশ পুলিশী বাধায় আটকে গেলেও অন্য অংশটি বাধা পেড়িয়ে সচিবালয় ঘেরাও করতে ছুটে চলে। এ সময় তারা সচিবালয় ১নং গেইটে অবস্থান নিয়ে তাদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানায়, এ সময় তরুণ সাংবাদিক ও রিপোর্টাররা বলেন, ‘দা-বটিতে খুনিদের হাতের ছাপ ছিল, সরকারের চক্রান্ত এ বিচারের সবচেয়ে বড় বাধা।’

১৫ই মে সাংবাদিকদের পূর্ব ঘোষিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেয়া তরুণ সাংবাদিক, রিপোর্টার ও ব্লগারদের একাংশ। কর্মসূচির শেষে প্রবীণ সাংবাদিকরা তাদের বক্তব্য রাখছেন।

বেলা ১২টা পর্যন্ত এ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ চলে। এ সময় একে একে রিপোর্টাররা তাদের বক্তৃতায় সরকারের ব্যর্থতার জন্য সরকারকে দোষারোপ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনায় তারা বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।’ তারপর তারা পুলিশী বাধা ও ব্যারিকেডের মুখে আটকে পড়া প্রেসক্লাবের ২নং গেইটের সাংবাদিকদের সাথে যোগ দেন। এ সময় প্রবীণ ও মূলধারার সাংবাদিকরা যোগ দিলে সমাবেশে পুলিশী ব্যারিকেডের ভেতর সাংবাদিকরা সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনা মূলক বক্তৃতা রাখেন।

১৫ই মে সাংবাদিকদের পূর্ব ঘোষিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেয়া ব্লগারদের একাংশ।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রুহুল আমীন গাজী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, অল্প সময়ের মধ্যে সাগর-রুনি’র খুনিদের ধরা হবে, তিনি এ বিষয়ে তিনটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কিন্তু একটি প্রতিশ্রুতিও তিনি রক্ষা করেননি।’ এ সময় তিনি সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালন কালীন সময়ে নিরাপত্তা না দেয়া, সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করেন।

১৫ই মে\’এর সাংবাদিকদের পূর্ব ঘোষিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তপ্ত রাজপথে বসে থাকে ব্লগাররা।

সর্বশেষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের অপর সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী তাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

মন্তব্য: আজ সাংবাদিকদের যে প্রতিবাদ কর্মসূচিটি হল, তা হবার কথা ছিল ৮ই এপ্রিল। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে সাংবাদিক নেতারা তা বন্ধ করে পিছিয়ে দেন। সে সময় সচেতন সমাজ আশংকা করেছিল এ আশ্বাস শুধুই সময়ক্ষেপণ ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা সরকারের পাশাপাশি সাংবাদিক নেতাদের আন্তরিকতা নিয়েও সমালোচনা করেন। ৮ই এপ্রিলের সেই কর্মসূচি আজ পালিত হল। তার অর্থ হল সরকার তার কথা রাখেননি। সচেতন মহল মনে করছেন, এ বিষয়ে সরকার পুরোপুরি আন্তরিকতাহীন এবং সাংবাদিক নেতাদের পরবর্তী কর্মসূচিগুলোকেও তারা কালক্ষেপণ অংশ হিসেবেই দেখছেন। তারা মনে করছেন, এ বিষয়ে সাংবাদিক নেতাদের আরো কঠোর হতে হবে, যা তাদের মধ্যে নেই। সরকারের পাশাপাশি তাদের দিকেও জনগণের সন্দেহের যে তীর ছুটছে যা তাদের অবশ্যই রোধ করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে তারাও এই প্রহসনের অংশ হয়ে থাকবেন।

এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিতির দিক দিয়ে প্রথমে এগিয়ে ছিল পুলিশ (আনুমানিক দু’শতাধিক), তারপর ব্লগার/রিপোর্টারদের অবস্থান, তারপর মূলধারার প্রবীণ সাংবাদিকবৃন্দ গণ।

আরিফ হোসেন সাঈদ, ১৫ই মে ২০১২