ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলীর শুক্কুর মিয়ার বাড়িতে গত ২৬শে এপ্রিল এ খুনের ঘটনাটি ঘটে। ঐ বাড়িতেই সিয়াম সহ তিন সন্তানের পিতা-মাতা আমির হোসেন ও সাথী বেগম ভাড়া থাকতেন। জানা যায়, বাড়িওয়ালার সাথে তাদের বনিবনা না হওয়ায় তারা ভাড়াবাড়ি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় এই খুনের ঘটনাটি ঘটে।

নিহত সিয়ামের বাবা আমির হোসেন পেশায় একজন দিনমজুর এবং মা সাথী বেগম আদমজী ইপিজেডে কাজ করেন, গার্মেন্টস কর্মী। মৃত শিশুটির মা জানান, তিনি শুনেছেন তাঁর সন্তান বাড়িওয়ালীর ফুল বা ফুলের টব ভেঙ্গে ফেলে। তিনি জানান, তাঁর নিহত সন্তানের নাকের কাছে একটি আঘাতের দাগ ছিল। তাঁর ধারণা তাঁর সন্তানকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে।

কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি আমার বাবুর খুনের বিচার চাই”

জানা গেছে, হত্যার পর বাড়িওয়ালী খাদিজা বেগম, তাঁর শাশুড়ি ও আরেকজন ভাড়াটিয়ার সহযোগিতায় লাশ গুম করে দেয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনাটি দেখে ফেলেন নিহতের বাবা। তিনি জানান, আত্মীয়স্বজন সহ সবখানে খোঁজাখুঁজি করেও পুত্রকে না পেয়ে তিনি তাঁর মেয়েকে সঙ্গে করে বাড়িতে ঢুকেন। এ সময় তিনি বাড়িওয়ালী, তাঁর শাশুড়ি ও এক ভাড়াটিয়ার মেয়ের সহায়তায় তাঁর সন্তানের লাশ বস্তাবন্দী করণের দৃশ্য দেখতে পান। তখন তারা তিনজন লাশ ফেলে দৌড়ে ঘরের ভেতর চলে যায়। পরে স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে এই বাড়িটিতে কোণ ফুল ও ফুলের টব দেখা যায়নি। প্রতিবেশীরা জানায়, ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে ফুলের টব পাশের ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর হত্যা মামলা দায়ের করতে চাইলে সিয়ামের বাবার হত্যা মামলা নেয়নি পুলিশ। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ বাদী হয়ে ৫৪ ধারায় মামলা করেন। এ ব্যাপারে পিতা আমির হোসেন বলেন, ‘আমি অসহায় গরীব। আমার কাছে টাকা পয়সা নাই। আমি কেস দিতে গেলে থানা থেকে বলতেছে বিভিন্ন ধরণের কথা। তদন্ত রিপোর্ট আসুক। তারপর তোমার মামলা নেয়া হবে।’

পুলিশ জানায়, হত্যার পর বাড়িওয়ালী খাদিজা বেগম (৩৫) ও আরেক ভাড়াটিয়া ফারজানাকে (১৮) ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছে। ভাড়াটিয়া ফারজানা জামিনে বেড়িয়ে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জামাল হোসেন একটি জাতীয় দৈনিককে জানান, ‘তাঁর ধারণা শিশুটিকে মুখ চাপা দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে।’

সুরতহাল প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। জাস্ট বোধহয় ডান গালে একটু হালকা বোধহয় এমনি লালচে একটু দাগ ছিল আর কি।’

পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে চাইলে কেন নেননি এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মামলা তাঁর নেয়া হবে এটা তো আসলে এখনও ক্লিয়ার না আসলে সে মার্ডার হয়েছেন কিনা। মামলাটি মৃতের বাবার সন্দেহের প্রেক্ষিতে তাঁর উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।’ ‘মামলাটি কি পুলিশ বাদী হয়ে করেছে নাকি নিহতের বাবা করেছেন’ এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নিহতের বাবার প্রেক্ষিতে পুলিশ বাদী হয়ে করেছে।’ তাহলে নিহতের বাবা কেন সেকেন্ড টাইম মামলা করতে গিয়েছিলেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ফিনিশ কথা মেডিক্যাল রিপোর্টটা আসার পরে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিব।’ ‘তার মানে তদন্ত রিপোর্ট আসবে তারপর আপনারা মামলা নিবেন’ ও ‘দোষী কি নির্দোষ প্রমাণ করবে আদালত আপনাদের মামলা নিতে সমস্যা কোথায়’এ দুটো প্রশ্নের জবাবে অসংলগ্ন উত্তর দেন এই তদন্ত কর্মকর্তা।

তথ্যসূত্রঃ অপরাধ সূত্র, সময় সংবাদ, ১৮ই মে, ২০১২