ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

গতকাল দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মহিলা পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় ছবি তুলতে গেলে পুলিশ তিন ফটো সাংবাদিককে বেধড়ক লাঠি পেটা করে। গুরুতর আহত তিন ফটো সাংবাদিক জাহিদুল করিম, সাজিদ হোসেন ও খালেদ সরকারকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জানা যায়, সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে তেজগাঁও অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার শহিদুল ইসলামের আদেশে সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাদের লাঠি পেটা করতে করতে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশের বেধড়ক লাঠি পেটায় আহত হন আরেক ফটো সাংবাদিক ইমাম হাসান।

এ ঘটনায় সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে মহানগর পুলিশে তেজগাঁও অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার শহিদুল ইসলাম, শেরে বাংলা নগর থানার এক এসআই, দুজন এএসআই ও ৬ জন কনস্টেবলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাংবাদিকরা মামলা করতে গেলেও তাদের মামলা নেয়নি শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশ। তাদের সঙ্গে থাকা ক্যামেরা, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ কড়ে নেয় পুলিশ। এ বিষয়ে গতকাল দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, “পুলিশের অতিরিক্ত কিছু বাড়াবাড়ি আছে। এই ঘটনাগুলো আমাদের একধরনের নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে যাবে, যা খুবই দুঃখজনক। আমরা দেখতে পাচ্ছি রাজধানীতে পুলিশ প্রকাশ্যে পেটাল। পুলিশের বিরুদ্ধে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তবে আমরা আশা করব তদন্ত কমিটি খুব দ্রুত তাদের রিপোর্ট দিবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিবে বলে প্রত্যাশা করছি। যদিও আমরা দেখি একটি মৃদু শাস্তির মধ্য দিয়ে এই তদন্ত কমিটিগুলোর ইতি টানা হয়। অতীতের ঘটনাগুলো বলে বরখাস্তরা কদিন পর আবার বহাল তবিয়তে থাকবে।”

এদিকে আজ, ফটো সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় ফটো সাংবাদিকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির বটতলায় একটি প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে।

বর্তমানে সাংবাদিকরা সাগর-রুনি খুন সহ অনেকগুলো ইস্যু নিয়ে রাজপথে আছে। তাই সচেতন মহল মনে করছেন একটি সম্পূর্ণ নতুন ইস্যু তৈরি করে কোন কিছু থেকে সাংবাদিকদের দৃষ্টি আড়াল করার জন্য নতুন একটি ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে সরকার।

ফটো সাংবাদিকদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে জোর দিয়ে বলা হয়, অতীতের মত যেন তদন্ত কমিটি প্রহসনের বিচার না করে এবং প্রকৃত পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করে। সাংবাদিকরা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন সাংবাদিক নির্যাতনকারী পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে তা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। রাষ্ট্রই যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য উৎসাহ দেয় পুরস্কৃত করে তবে রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে। রাষ্ট্রে আইনের শাসন বলে কিছু থাকবে না। রাষ্ট্রে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা মাঠ পর্যায়ে কাজ করত বলে পুলিশের সাথে ফটো সাংবাদিকদের এক ধরণের সখ্যতা ছিল। এ অবস্থায় এ ধরণের ঘটনা খুবই অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে পুলিশের সাথে সাংবাদিকদের দূরত্ব সৃষ্টি হবে। যা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধা সৃষ্টি করবে এবং জনমনে পুলিশের দায়িত্বের প্রতি অনাস্থা সৃষ্টি হবে।

আরিফ হোসেন সাঈদ, ২৭ মে ২০১২, সকাল ১১টা