ক্যাটেগরিঃ চারপাশে, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

 

প্রথমবার ৮ই এপ্রিল, দ্বিতীয়বার ২০শে এপ্রিল, তৃতীয়বার ২৭ এপ্রিল, চতুর্থ বার ১১ই মে ও আজ ৮ই জুন পঞ্চম বারের মত হয়ে গেল সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবাদে ব্লগারদের আন্দোলন কর্মসূচি। ব্লগার, মূলধারার সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে পালিত হল আরও একটি সফল কর্মসূচি। কর্মসূচিটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ও ব্লগগুলোতে অনেক আগে থেকেই সচেতন ব্লগারদের প্রচারণা চলছিল।

আজ ৮ই জুন, বিকেল ৩টায় শুরু হয় ব্লগারদের সেই পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি। আজকের কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল সাহারা খাতুনের ঐতিহাসিক ৪৮ ঘণ্টার অবসানের লক্ষ্যে প্রতিবাদী চিত্রলিপি ও অঙ্কন কর্মসূচি। উদ্দেশ্য প্রশাসনকে জানিয়ে দেয়া আমরা এই ৪৮ ঘণ্টা অবসানের অপেক্ষায় বসে আছি। কারণ সচেতন ব্লগার ও সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা চাই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক, খুনিরা ধরা পড়ুক, রাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালন করুক, আমরা সরকারকে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে চাই। বিশ্বকে জানাতে চাই আমরা এখনও অসভ্য হয়ে যাইনি।

কর্মসূচিতে বেলা ৩টায় প্রথমেই বক্তব্য রাখেন ব্লগার আবু সুফিয়ান। ‘আপনাদের কর্মসূচিতে ৪৮ সংখ্যাটির এতো প্রাধান্য কেন এবং এই ৪৮ সংখ্যাটির রহস্য কি’ জানতে চাইলে এই ব্লগার বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ৪৮ ঘণ্টা কবে শেষ হবে আমরা জানিনা। তাই আমরা এই ৪৮ সংখ্যাটিকে একটি ইউনিক সংখ্যা হিসেবে বেছে নিয়েছি। ৪৮ সংখ্যাটির মধ্যে আমরা ফুটিয়ে তুলেছি গত ৪ মাসের মধ্যে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য অনেকগুলো ঘটনা।”

কি উল্লেখযোগ্য ঘটনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনারা জানেন এই ৪৮ ঘণ্টায় আমাদের আইজিপি বলেছিলেন তদন্তের প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তদন্তের প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি আমরা দেখেছি আদালতে। যখন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ডিসিডিবি মনির সাহেবকে ডাকা হয়, তখন তিনি হাত জোর করে আদালতের সামনে বলেন যে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। অর্থাৎ আইজিপি তদন্তের প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতির কথা বললেও ডিসিডিবি মনির সাহেব ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেন। এই ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি হস্তান্তর করা হয় র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ানের কাছে। এই ৪৮ ঘণ্টায় আমরা দেখেছি কি নির্মমভাবে আমাদের তিন ফটো সাংবাদিককে পুলিশ নির্যাতন, নিপীড়ন করে। ঐদিন আহত প্রথম আলোর তিন ফটো সাংবাদিকের মধ্যে আমাদের এখানে একজন ফটো সাংবাদিক উপস্থিত আছেন, যিনি এখনও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটেন। সাহারা খাতুনের এই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমরা দেখেছি একটি যুব সংগঠন (যুবলীগ) বিডিনিউজ কার্যালয়ে হামলা করেছে, সেই রক্তাক্ত অবস্থা আমরা দেখেছি। সাহারা খাতুনের এই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমরা দেখেছি কবর থেকে সাগর-রুনির লাশ উত্তোলন করা হয়। র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান যে সন্দেহ করেছিল সাগর-রুনির শরীরে পয়জন জাতীয় কোন বস্তুর সন্ধান পাওয়া যায় কিনা। কিন্তু তাদের এ সন্দেহ সত্য প্রমাণ হয়নি, সাগর-রুনির দেহে কোন পয়জন জাতীয় বস্তুর সন্ধান পাওয়া যায়নি। এবং সাহারা খাতুনের এই ৪৮ ঘণ্টা যেটি আসলে ৪ মাস এ সময়ে বাংলাদেশে প্রথম বারের মত আমরা ব্লগাররা ব্লগ বিরতি পালন করেছি, আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ঘেরা করেছি, আমরা এই তেতে উঠা রাজপথে সমাবেশ করেছি এবং মাননীয় সংসদ সদস্যের কাছে আমরা সাংবাদিকরা স্মারকলিপিও দিয়েছি। আমাদের এই প্রতিবাদী কর্মসূচিগুলো অব্যাহত রয়েছে, অব্যাহত থাকবে। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য যতদিন উদ্ঘাটিত না হয় ততদিন ব্লগাররা রাজপথে থাকবে। আমরা শুধু ভার্চুয়াল জগতেই নই ভার্চুয়াল জগতের পাশাপাশি আমরা রাজপথে ছিলাম, আছি, থাকব।”

ব্লগার সোহেল মাহমুদ বলেন, “আমরা আজ এখানে যারা উপস্থিত আছি তারা অনেকেই প্রশ্ন করতে পারি এই ৪৮ কিসের জন্যে। এই ৪৮, প্রতীকী ৪৮। এটি ব্লগারদের নতুন কোন কর্মসূচি নয়। এটি আমাদের ৫ম কর্মসূচি। ৭ই এপ্রিল সাংবাদিক নেতারা যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চায়ের দাওয়াত খেয়ে ৮ই এপ্রিলের আন্দোলন পেছালেন সেদিন ৮ই এপ্রিল আমরা বাংলা ভাষার ব্লগাররা প্রথম রাস্তায় নামলাম।”

এই ৪৮ ঘণ্টার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সোহেল মাহমুদ বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন ৪৮ ঘণ্টার ভেতরে খুনিদের ধরা হবে। তারপর পুলিশ থেকে বলা হল তদন্তের প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তারপর পুলিশ এই তদন্তে ব্যর্থ। তারপর থেকে সাংবাদিক নির্যাতন শুরু হল। সাংবাদিক নির্যাতনের পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলল পুলিশ ভাল করছে। তারপর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টুকু বললেন, পুলিশ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে সংবাদ সংগ্রহ করুন। এরপর একটি টিভি চ্যানেলের মালিক বললেন, সাগর-রুনি পরকীয়ার বলি। এরপর একটি টিভি চ্যানেলের মালিক যখন বলেন সাগর-রুনি পরকীয়ার বলি আর তাঁর বিরুদ্ধে যখন একটি সভ্য রাষ্ট্র কোন ব্যবস্থা নেয় না, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হয় না, তাঁর কাছে যখন জানা হয় না কেন তিনি এ কথা বললেন, তাঁর কাছে কি ফুটেজ আছে, তাঁর কাছে কি প্রমাণ আছে এ কথা বলার, একটি সভ্য রাষ্ট্র যখন এ প্রশ্ন করে না তখন ব্লগারদের বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমে আসতে হয়। আমরা তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছি, খুনিদের দ্রুত সনাক্ত করুন, খুনিদের যতদ্রুত সম্ভব গ্রেফতার করুন এবং খুনিদের বিচার করুন। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ৪৮ ঘণ্টার আশ্বাসের ফলে যা হল প্রথম আলোর তিন সাংবাদিককে পেটাতে পেটাতে পুলিশ বলল ‘সাংবাদিক মার সাংবাদিক মারলে কিছু হয়না’। আসলেই সাংবাদিক মারলে কিচ্ছু হয়না। সাংবাদিকরা খবর সংগ্রহ করে, পুলিশ, যে পুলিশ সাংবাদিক পেটাল সেও সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে পেপারটা হাতে নিয়ে পড়ে। কারণ পেপার না পড়লে কারোরই সকাল বেলা পূর্ণ হয়না। অথচ তারাই বললেন সাংবাদিক পেটা সাংবাদিক পেটালে কিছু হয়না কারণ ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম তো আমরা পেয়েই গেছি। আমাদের প্রশ্ন ঘড়ি কি থেমে আছে? বাংলাদেশে কত ঘণ্টায় ৪৮ ঘণ্টা হয়? প্রেসক্লাবের একটি হলুদ ব্যানারের দিকে আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে চাই। প্রেসক্লাবের রাতের অন্ধকারে কারা হলুদ ব্যানার টাঙায়, এটা মানুষ জানে। হলুদের রঙ্গই তাদের আচরণ। তাদের স্বভাব হলুদ রঙের। হলুদ ব্যানারে তারা লিখেছেন, যেসব সাংবাদিক এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। কারা, এই হলুদ ব্যানার টাঙাচ্ছেন কারা, এই ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছেন কারা, পরকীয়া বিশেষজ্ঞ কারা এগুলো জাতি জানে। এখন যেটা প্রয়োজন একটি সভ্য রাষ্ট্র হিসেবে, একটি সভ্য রাষ্ট্রের সরকার হিসেবে, আমি মনে করি রাজপথে দাঁড়িয়ে, যিনি এ কথা বলেছেন সাগর-রুনি পরকীয়ার বলি তাঁকে অবিলম্বে পুলিশের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তাঁর কাছ থেকে জানতে হবে কেন তিনি এ কথা বলেছেন। তাঁর কাছে কি প্রমাণ আছে। তাঁকে গ্রেফতার করা হোক।”

ব্লগার আবু সুফিয়ান বলেন, “আপনারা জানেন যে মেহেরুন রুনি অত্যন্ত ভাল একজন রিপোর্টার ছিলেন। এটিএন বাংলায় দীর্ঘ দিন যাবত কাজ করেছেন মেহেরুন রুনি। মেহেরুন রুনি এটিএন বাংলার চেয়ারম্যানের কন্যা তুল্য ছিলেন, সন্তানের মত ছিলেন। একজন সন্তান সম্পর্কে এটিএন বাংলার মালিক যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটি আসলেই নির্লজ্জ একটি বক্তব্য। এই বক্তব্য দুঃখজনক, আমরা ধিক্কার জানাই। এটিএন বাংলার মালিক দাবি করেছেন যে তাঁর কাছে ভিডিও ফুটেজ আছে। তিনি তো সহজ করে দিয়েছেন পুলিশের তদন্তের কাজ। তাঁর কাছে যদি ভিডিও ফুটেজ থেকে থাকে তাহলে ভিডিও ফুটেজটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হোক, র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ানের কাছে হস্তান্তর করা হোক। আমরা মনে করি তাঁর কাছে যদি সত্যি কোন ভিডিও ফুটেজ থাকে তবে তদন্ত অনেকখানি অগ্রগতি হবে এবং তদন্তের কাজে এই ভিডিও ফুটেজ কাজে আসবে। আর যদি ভিডিও ফুটেজ না থেকে থাকে কন্যা তুল্য একজন মেয়ে সম্পর্কে উনি যে বক্তব্য দিয়েছেন এই বক্তব্যের জন্য তাঁর বিচার হওয়া উচিত। উনি বাংলাদেশে ফেরার সাথে সাথে তাঁকে গ্রেফতার করার দাবি জানাচ্ছি। তাঁকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানাচ্ছি।”

বাংলাদেশের খ্যাতনামা ফটো সাংবাদিক কাজী বিপ্লব বলেন, “দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আমরা আমাদের কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে এসে নেমেছি। আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১১/১২ই ফেব্রুয়ারি ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন, সেই ঘোষণার পর ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ড এবং যে নির্যাতন সাংবাদিকদের উপর চলে আসছে আজ পর্যন্ত থামেনি। এই ঘটনার রহস্য উন্মোচন হওয়ার আগেই এর ভেতর আরও কিছু সাংবাদিক আমাদের রাস্তায় মারা গিয়েছেন। তারও তদন্ত হয়নি। এর মধ্যে প্রথম আলোর তিন ফটো সাংবাদিকের উপর বিনা কারণে বিনা উস্কানিতে তাদের চোরের মত পিটানো হয়েছে। তারও আজ পর্যন্ত সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি, … আমরা আশাবাদী আদালত এ ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা সাংবাদিকতা করি, এখানে যে ঘটনা ঘটে সেটির সত্য নির্ভর তথ্য নিয়ে আমরা আমাদের অফিসে উপস্থাপন করি, পরবর্তী দিন সাধারণ মানুষকে সেই তথ্য প্রচার করার জন্য। সেই তথ্য সংগ্রহ করতে যেয়ে আমরা কেন মার খাব? সকল পুলিশকে আমি দায়ী করছি না। পুলিশের ভেতর অতি উৎসাহী কিছু লোক আছেন। যাদের বার বার দেখেছি আমাদের সাংবাদিকদের উপরে অবহেলা নির্যাতন করে এসেছে। শুধু পুলিশ প্রশাসন থেকেই নয় …। আমাদের উপর নির্যাতন বন্ধ করা হোক এবং সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের আসল হোতাদের গ্রেফতার করা হোক। এর মধ্যে ক্লু পাওয়া গেছে। একজন বর্ষীয়ান লোক, একটি টিভি চ্যানেলের মালিক, মাহফুজুর রহমান বিদেশে পাড়ি জমিয়ে বলেছেন তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে, ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। প্রশাসনের কাছে আমার আবেদন উনি বাংলাদেশে আসার সাথে সাথে তাঁকে গ্রেফতার করা হোক। তার আগে তাঁর কাছে আমার আবেদন আপনি এসে নিজ দায়িত্বে আপনার কাছে কি তথ্য রয়েছে সরকারকে দিন। তাহলে এই সাংবাদিক হত্যার বিচার ত্বরান্বিত হবে। আর যদি দিতে ব্যর্থ হন তাহলে প্রশাসনের কাছে আমার আবেদন উনাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে কি তথ্য আছে, কার সাথে তিনি এই তথ্য সংগ্রহ করেছেন, সেটা তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হোক। এবং প্রথম আলোর তিনজন সাংবাদিকসহ অসংখ্য সাংবাদিককে নির্যাতন করা হয়েছে, সকল নির্যাতনকারী, যে সকল প্রশাসনের কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। আজ থেকে আমরা দাবি করতে চাই, আর কোন দিন যেন কোন সাংবাদিক বন্ধু ও যেকোনো পেশার মানুষ তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে নির্যাতনের স্বীকার হতে না হয়। পরিশেষে বলতে চাই, বাংলাদেশে ৪৮ ঘণ্টা কতদিনে হয় আমারও জানা নাই। প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রের কাছে আমার প্রশ্ন আমাদের কাছে পরিষ্কার করুন ৪৮ ঘণ্টা বাংলাদেশে কতদিনে হয়। পরিশেষে এ কথা ব্যক্ত করতে চাই, আর যেন কেউ বিনা কারণে সাংবাদিকের গায়ে হাত তুলতে না পারে। আপনি রাস্তায় আমাকে আঘাত করতে পারেন না। এটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”

ব্লগার আরিফ হোসেন সাঈদ বলেন, “যখন অন্যায় হবে অন্যায়ের বিচার হতে হবে। যদি বিচার না হয় সেই অন্যায়ের জন্য প্রতিবাদ করতে হবে। একটি রাষ্ট্রে খুন বা নির্যাতনের বিচারের জন্য আমাকে আন্দোলন করতে হবে কেন, এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আজ আমার এই রাজপথে আসার কথা ছিল না। আপনারা সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের ইতিহাস দেখুন। নির্যাতন তো দূরের কথা, একটি খুনেরও বিচার হয়নি। কেন রাষ্ট্র চুপ করে থাকবে, কেন রাষ্ট্রে খুনের বিচার হবে না। আমরা রাষ্ট্রের কাছে বিচার চাই। আমরা প্রমাণ করতে চাই, আমরা এখনও অসভ্য হয়ে যাইনি। আমাদের প্রতিবাদ চলছে, চলবে। আমরা সচেতন ব্লগার।”

এবারের কর্মসূচিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ৪৮ ঘণ্টা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রতিবাদী অঙ্কিত চিত্র রাখা হয়। এ চিত্রগুলোতে ৪৮ ঘণ্টাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের উপর হয়ে যাওয়া বিভিন্ন পুলিশি নির্যাতন, নানান সরকারী পদক্ষেপ ও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের ব্যক্ত-চিত্র রং তুলি ও প্রতিবাদী লিপির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।

এ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অন্যান্য বারের মত এবারও মন্তব্যের খাতা রাখা হয়। সচেতন সমাজ, যারা ন্যায় বিচার প্রত্যাশী তারা এখানে তাদের ক্ষোভের কথা লিখে জানান।

বেলা ৩টায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচিটি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে।

আরিফ হোসেন সাঈদ, ৮ই জুন ২০১২

***

***
ফিচার ছবি: ব্লগার আইরিন সুলতানা

আরও দেখুন:
বাংলাদেশে সাংবাদিক দম্পতি হত্যার বিচার নিয়ে চলছে প্রহসন
সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজপথে সক্রিয় ব্লগাররা