ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

সিরিজ হারের পর ভারতের সামনে যখন বাংলাওয়াশের হাতছানি, তখন উওর প্রদেশের সুরেশ রায়না হয়তো আর পরতে চান না পেসার মুস্তাফিজের সামনে। শুধু রায়নাই বা কেন? বায়না ধরতে রাজি থাকবেন রোহিত শর্মা, রবীন্দ্র জাদেযা, রবিচন্দন আশ্বিন ও। তবে কেন? সমীকরনটা খুব সহজ। মুস্তাফিজের ১১টি উইকেটের ৮টি এই চার জনের। কথায় আছে, “নেড়া বেল তলায় একবার যায়, বার বার নয়।” ক্রিকেটের বেলায় তা ভিন্ন হলেও দুবার শিকার হওয়ার আশায় কেউই থাকবেন না তৃতীয়বার শিকার হওয়ার।

মিরপুরে থেকে, গঙ্গা জলের মানুষের পদ্মা জলে স্লানের বার্তা যখন বিশ্ব বাতাশে ভাসছে তখন বাংলাদেশি এই পেসারকে নিয়ে ভাবতেই হচ্ছে ক্রিকেটের ‘মহা’ ভারতকে। ক্রিকেট দুনিয়ায় ভারতের ব্যাটিং শক্তি সবার জানা। উইকেট পতনের ধাক্কা সামাল দিয়ে যারা বড় পার্টনারশিপের শক্ত ভিট সহজে গড়েন, তাদের তেমন কোন ভূমিকা পালন করতে দিলেন না মুস্তাফিজের বল। যে দলের একজন ব্যাটসম্যান প্রতিপক্ষের জন্য বিপদের কারন, সে দলের দলপতি থেকে শুরু করে সেনাপতির কী অসহায় পরিণতি! এক কথায় বলা যায়, সচল মুস্তাফিজে, আচল ভারতের রানের চাকা।

আর দ্রুত রানের চাকা ঘুরানো ক্ষেত্রে রায়নার নাম না এসে পারে না। প্রথম ম্যাচে যার উকেটের পতনের পর বলা যায় ম্যাচে থেকে ছিটকে যায় ভারত। পরের ম্যাচের চিত্র দেখলে তা আর পরিষ্কার। ব্যাটিং পাওয়ারপ্লেতে সাজঘরে ফিরলে থমকে যেতে থাকে রানের মেশিন। রানের মেশিনের আরেক নাম রোহিত শর্মা। যিনি একদিনের ম্যাচে দুবার ডাবল শতকের রেকর্ড গড়েন, আবার নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙেন, করেন সর্বচ্চো। প্রথম ম্যাচে ৬৩ রান করার পর দ্বিতীয় ম্যাচের দ্বিতীয় বলে শুন্য রানে তালুবন্দি হয়ে সংকেত দিলেন সিরিজ হারের।

হার মানবেই না কেন? টিন এজ যাদুকর মুস্তাফিজের ১২৫/১৩০ কিমি. গতির নিখুঁত লাইন লেনথের পেস, স্লোয়ার আর কাটারগুলো ছিল দেখার মত। আর দেখতে দেখতে পর পর দু ম্যাচ মুস্তাফিজের শিকার জাদেযা, আশ্বিন।

শিকারির শিকার খেলা এখনোও বাকি। সামনে ধোনি, রাইডু, রাহানেরা। শেষ ম্যাচে তাদের কেউ কোনভাবে দুবার বেল তলায় যেতে চাবেন না।

চাওয়া পাওয়ার আর কি বাকি! শেষ দিনে আর যেন মুস্তাফিজের বল আর না দেয় ফাঁকি। ফাঁকি দিলে শুধু কথিত ফেবারিটের তকমাটাই থাকবে ভারতের। সাথে যোগ বাংলাওয়াশের তাকমা। তাই রায়্নারা বলতেই পারেন তাদের বায়্নাটা থাক না!