ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

নিধর্মীর মৃত্যুর পর তাকে কি ধর্মীয় রীতিতে সৎকার করা উচিত?

এ প্রশ্নের উত্তর দেবার আগে আমাদের বুঝতে হবে মৃত্যু নিয়ে কেন আমাদের মাথা ব্যাথা থাকবে! কেনই বা মরদেহ সৎকারের সময় রিচুয়ালিস্টিক আচরনের প্রয়োজন পড়বে।

ধর্ম, মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেবার জন্য মৃত্যু এবং প্রাসঙ্গিক চিন্তা জগত নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করে, নানা ভাবে। এই যেমন কবর, জানাযা, গোসল ইত্যাদি রিচুয়াল। ধর্মের একটা গুরুত্বপূর্ন পুঁজি/পণ্য হলো পরকাল; মরনোত্তর স্বর্গ, নরক এবং এতদসম্পর্কিত লোভ, ভীতি ইত্যাদি।

এসব রিচুয়ালের প্রায় পুরোটাই জুড়ে থাকে লোক দেখানো এবং পরবর্তী যাত্রার প্রস্তুতি ভাব। যদিও মাটিতে নামিয়ে দেবার পরেই সত্যিকার অর্থে মানব দেহের উপযোগীতা শেষ হয়ে যায়, তবুও ইসলাম নামক ধর্ম এর ভেতরে আযাব, মুনকার নকীর, খ্রীস্টানিটি নাম ধর্ম সেইন্ট(উদাহরন মাত্র) ইত্যকার কাল্পনিক বিষয় ঢুকিয়ে দেয়।

নাস্তিকতাকে ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার যে দুরূহ চেষ্টা তেনাদের মাঝে আমরা দেখি, নাস্তিক ‘ধর্মে’ মরদেহ নিয়ে প্রশ্ন তোলা আসলে তারই একটা অপ-চেষ্টা মাত্র। যদিও বাস্তবতা হলো, মানুষের শরীর একটা বায়োলজিক্যাল যন্ত্রবৎ। এর কাঠামোতে যখনই রোগব্যাধি বা দুর্ঘটনা বা জরা প্রভাব বিস্তার করে, তখনই ‘মৃত্যু’ নামের অন্ত আসে। এতে শোক হয়তো আছে, কিন্তু ভীতির কোনো কারন নেই।

আর একজন নাস্তিকের শেষ ইচ্ছা যদি হয় তার মরদেহ মানবতার কল্যাণে ব্যবহৃত হৌক, সেখানে তার আত্মীয় স্বজনেরা, নিজেদের ধর্মীয় প্রেজুডিস উৎসারিত জোর খাটানোর জন্য নাস্তিকের মরদেহ ধর্মীয় রীতিতে সৎকার করে একধরনের অশ্লীলতার পরিচয় দিতে পারে। আমরা এমন নিদর্শন দেখেছি অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদের ক্ষেত্রে। এতে শক্তি যুগিয়ে সাহায্য করে প্রচলিত মোল্লাতন্ত্র। তদানীন্তন জামাত বিএনপির সরকারের গায়ের জোরও দেখেছি আমরা তখন।

আমাদের নূন্যতম আত্মমর্যাদাবোধও কি নেই, যে একজন মৃত মানুষের শেষ ইচ্ছাকে সন্মান দেখানোর? নাকি ধর্মে বিশ্বাস না থাকলে তাকে মানুষ হিসেবেও গন্য করেন না আপনারা?