ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

ব্যস্ত এই শহরে ইচ্ছে আর অনিচ্ছের যুদ্ধ লেগেই আছে …

 

রাস্তাগুলো সারাদিন ছুটছে হাজার দিকে আর প্রাণীকুল অ্যাসেম্বলিতে লাইন করে দাঁড়িয়ে সময় কাটাচ্ছে  😀 …সেখানে ট্র্যাফিকের ছুটি নেই, অক্সিজেন নেই, পা ফেলার জায়গা নেই, কাঁধে ব্যাগ ঝোলানোর স্বাধীনতা নেই, কাউকে ‘ শুভ সকাল ‘ বলার মুখভঙ্গিমা নেই, খাবারের প্যাকেজে সিকি হোক বা আধুলি !! কোন ছাড় নেই (চায়ে চুমুক দিতে গেলেও প্যাকেজের কথা মনে পড়ে যায় ), … নেই , … নেই, …………n ।

 

সপ্তাহ শেষ (একটা ক্লোজআপ হাঁসি) । অতঃপর ছুটি 😀

 

ব্যস্ত আর একরোখা দিনের লাগামছাড়া রুটিন পার করে সূর্য (মামা) যখন ফিরতি ট্যুরে আকাশের পূবের কোণায় ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে আছে তখন তাঁর জিজ্ঞাসা আর গালাগালিতে ঘুম ভাঙার উপক্রম । তাঁর একটাই প্রশ্ন !! আমার ছুটি নেই কেন ?? ভাব্ বার বিষয় !! ঢুলুঢুলু চোখে সেই কথা ভাবতে ভাবতে ব্যাল্কনিতে দাঁড়িয়ে  তাঁর ( সূর্য )অবস্থান দেখতে ব্যস্ত …পূবের জানালায় পর্দাটা টেনে দিয়ে পুনরায় ঘুমাবার ব্যর্থ প্রচেষ্টা ।। হঠাৎ ঘড়িটাও জিজ্ঞাসা করে বসলো আমার ছুটি নেই কেন ?? তাড়াহুড়ো করে ব্যাটারিটা খুলে রাখতেই হল  🙁 … এভাবে একে একে লাইট , ফ্যান , ল্যাপটপ …… সবাই ছুটি চায় ।। তাহলে কিভাবে ছুটি কাটবে ?? :O … ভাবনা আর রোদ্দুরের গল্প শেষ হতে হতে দুপুরের সূর্য মাথার উপরে … মামা আবারও জ্যামে আটকা পড়েছে   । প্রত্তুত্যর না পেয়ে তাঁর অভিমানের রঙ আরও ফ্যাকাসে হয়েছে । ঘরের ছাঁদ আগুন ছোঁয়াচ ঘোরের গহবরে ঢুকবার উপক্রম করছে আর ছুটিতে থাকা হাতপাখাও এবার চটপট বেরিয়ে পড়েছে  স্টিলের আলনার তাক থেকে সেবা দেয়ার জন্যে , ওর আবার পার্টটাইম জব তাই না ডাকলে আসে না  🙁 ।। বাইরে বের হওয়ার মতনও অবস্থাটুকু অবশিষ্ট নেই … মামা এখন আর তাঁর ভাগ্নেকে জ্যামের মধ্যে থেকে চিনতে পারছে না 😛  … অনেক কষ্টে দুএকটা বিল্ডিং এর ভাঁজে লুকিয়ে গেছেন তিনি … এবার বোধ হয় তাঁর পশ্চিম কোণে পৌঁছতে বেশি সময় লাগবে না ।। রাগ টাও কমবে সেই প্রত্যাশায় রয়েছে হাত পাখা … যাই হোক  বিকেল নামলো । অবস্থা খানেকটা নিয়ন্ত্রিত । মামার ডিউটি আজকের মত শেষ হতে চলেছে । এখন আবার অন্য জগতে ডিউটিতে যাবে সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে ।। ওখানে গিয়েও হয়তো একই প্রশ্ন নিয়ে সারাদিন মুখটা গোমড়া করে থাকবে :O … মামা খুব ব্যস্ত হলেও ঘুষ নেয় না ।মাঝে মাঝে মনে হয় মামার মতন সবার হওয়া খুব দরকার ।  হাতপাখার ও আজ ছুটি … তাই দেখে আবার সিলিং ফ্যান একটু বিরক্ত ।। সে নাকি আবার বিদ্যুতকেন্দ্রে এপ্লিকেশন দিয়েছে ছুটির জন্যে এই মর্মে যে,  মাঝে মাঝে বৃষ্টিকে পাঠাতে হবে আর ট্রান্সফরমারগুলোকে অকেজো করে দিতে হবে 😉 … সেক্ষেত্রে আবার ট্রান্সফরমার সমিতির সম্মতি আছে পাছে ওরাও ছুটি পায় । সেটাও সিলিং এর কাছে শুনে দেখতে হবে । হাতপাখার কথা আবার মাঝে মাঝে কূটনীতি তৈরি করে । অনেক কিছুই ভাবা হয়েছে এবার মামা সত্যিই তাঁর কাজে চলে গেছে … সময় হয়েছে একটু রাস্তা দেখার … আজকাল নাকি সেও ছুটি তে থাকতে চায় কিন্তু পায় না ।। রাস্তাগুলো আবার খুব মহৎ সহজে রাগ করে না । খুব অত্যাচার যায় তাদের উপর দিয়ে । স্বাস্থ্যের খুবই নাজেহাল অবস্থা । এত অত্যাচার সহ্য করার ক্ষমতা বোধ হয় খুব কমই হয় । সন্ধ্যে ঘনিয়েছে । কেউ কেউ আজকেও ছুটি পায়নি তারা ক্লান্তির শেষ পর্যায়ে ঝিমধরা চোখে রাতের স্টপেজে অপেক্ষারত … মৃদুমন্দ হাওয়ায় ফ্লাইওভারগুলোর ও শরীর জুড়িয়েছে ।। শহরের কফিশপ গুলোতেও বেশ লোকজন । অল্প অল্প আলোর মধ্যে আড্ডা বেশ জমে উঠেছে খানেকটা অশরীরী আবহাওয়া ও বলা চলে ।। কেউ বুদ্ধির গোঁড়ায় আগুন আর কেউ জল দিতে ব্যস্ত ।। সে আগুনের ধোঁয়া মৃদু আলোয় এক অদ্ভুত রংমশাল তৈরি করেছে … নিয়নভেজা শহরের রাস্তা বেয়ে ঘুমগুলো ভেসে চলেছে রাতের প্রত্যাশায় । ফুটপাত গুলো সব গল্প বলছে । ওরা আবার ছুটি না পেলেও আড্ডা বাজিতে মসলা যুক্ত করতে জানে । কেটলি গুলো এখনি ঘুমিয়ে পড়েছে চায়ের দোকানেই ।।…  আর হাওয়া এখনও তার অবুঝপনায় ঝিমধরা চোখে স্বপ্ন ওড়াচ্ছে , কাগজ কুড়চ্ছে । কার্নিভ্যাল বলছে স্বপ্ন সত্যি হবে … অতঃপর শহুরে রাতের গভীরতা স্বপ্নেই কাবার ।। টিং টিং আওয়াজ … সারারাত জেগে থেকে ঘুম ভাঙাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে অ্যালার্মগুলো । একটু পরই শহর আবার রওনা দেবে পরের সপ্তাহের লাগামছাড়া রুটিন মানার স্টেশন এ ।। মামাও একটু পরই জানালার ফুটিফাটা দিয়ে উকি দিয়ে ঘুম ভাঙিয়ে দেবে … কেউ সারাজীবনে ছুটি পাবেনা , কেউ তাদের ছুটিগুলোকে ভাগ করে নেবে নিজেদের মতন করে ।।সবাই সবার উপর নির্ভরশীল তাই ব্যস্ত দিনের শহরে ছুটিগুলো ও আটপৌরে ।।

 

কি জানি !! কখন ? কোথায় ? কি যে হয় !!

খেয়াল খুশির চলছে সময় ।।