ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

ripon--হাত-পায়ে গুটির মতো রোগে ভোগা শিশু রিপন রায়কে নিয়ে ২০১৬ সালের ১০ অগাস্ট প্রথম সংবাদ প্রকাশ করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কমের শিশু সাংবাদিকতার সাইট- হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম (http://hello.bdnews24.com/news/article11121.bdnews)।বৃক্ষমানব আবুল বাজানদারের মতো রোগ হওয়ায় বৃক্ষশিশু হিসেবে পরিচিতি পায় রিপন।  রিপনের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার কেটগাঁও গ্রামে। আর্থিক অভাবের কারণে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছিল না জুতা সেলাইয়ের কাজে নিয়োজিত তার বাবা মহেন্দ্র রায়। হ্যালো ডট বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কমে সংবাদ প্রকাশের পর রিপনের উন্নত চিকিৎসা করাতে এগিয়ে আসে জেলা প্রশাসন। ২০১৬ সালের ২১ অগাস্ট রিপনকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

এরপর দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর আগের থেকে কিছুটা সুস্থ রিপন। রিপনের বাবা মহেন্দ্র রায় জানান, আবারো আগের মতো হাতে-পায়ে নতুন করে সেই রোগ দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছিল তা দিয়ে বাইরে থেকে ঔষুধ কিনতাম। তিনি বলেন,‘‘আমাদের পরিবারের অবস্থা তো এমনেই খারাপ।এখন কোন সহযোগিতা পাচ্ছি না। টাকার অভাবে বাইরে থেকে যে ঔষুধগুলো ডাক্তার কিনতে বলছে সেগুলোও কিনতে পারছি না। আমার ছেলেকে আমি সুস্থ করে বাড়িতে নিয়ে আসতে চাই। এজন্য সমাজের ধনী মানুষদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসুন। ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের শিশু ওয়ার্ডে ৬১৭ নাম্বার বেডে চিকিৎসাধীন আছে আমার ছেলে রিপন।’’ripon-2

শিশু রিপন রায় বলে, ‘‘আমি আগের থেকে সুস্থ। আমি তাড়াতাড়ি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়িতে গিয়ে বন্ধুদের সাথে খেলতে ও নিয়মিত স্কুলে যেতে চাই।’’ এদিকে বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট’র সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ রবিউল করিম খান জানান, দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর এখন কিছুটা ভালো আছে রিপন। পুরোপুরি সুস্থ হতে আরো সময় লাগবে। দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন রিপনের।’
প্রসঙ্গত, রিপনের পরিবার জানিয়ে আসছিল, জন্মের তিন মাস পর থেকেই শিশু রিপন রায়ের এই রোগ দেখা দেয়। তার বয়স সাত বছর হয়ে গেলেও সুস্থ করতে পারেননি স্থানীয় চিকিৎসকরা। আর্থিক অভাবের কারণে উন্নত চিকিৎসাও করাতে পারছিল না জুতা সেলাইয়ের কাজে নিয়োজিত তার বাবা মহেন্দ্র রায়। কেটগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র রিপন তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট।