ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে। বিপরীতে পাঠদানের জন্য রয়েছে পাঁচজন শিক্ষক।

শিক্ষকরা  ‘আড্ডা দিয়ে সময় কাটান‘ এমন অভিযোগ তুলে অভিভাবকরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থী সংখ্যা কম থাকায় শিক্ষকরা সঠিকভাবে পাঠদানে সময় দেন না।…অন্যদিকে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ানোর কোন দৃশ্যমান উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে না।

তবে শিক্ষকদের আড্ডা দিয়ে ক্লাসের সময় পার করা ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাঠদানে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনজুর মোরশেদ।

 

এই উপজেলার চন্দ্রা গ্রামে ২০১২ সালে বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে। বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক তথ্য অনুসারে, বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে মোট ১২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে দুইজন ছাত্রী, দ্বিতীয় শ্রেণিতে একজন ছাত্র ও তিনজন ছাত্রী, তৃতীয় শ্রেণিতে একজন ছাত্র, চতুর্থ শ্রেণিতে একজন ছাত্রী এবং পঞ্চম শ্রেণিতে দুইজন ছাত্র ও দুইজন ছাত্রী পড়ছেন।

তবে এদের মধ্যে দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী অভিভাবকসহ ঢাকা গিয়ে সেখানেই স্কুলে ভর্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনজুর মোরশেদ। সে হিসেবে বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত আছে মাত্র ১০ জন।

অন্যদিকে পাঁচটি শ্রেণিতে মাত্র দশ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছে পাঁচজন। এরা হলেন- প্রধান শিক্ষক মনজুর মোরশেদ, সহকারী শিক্ষক আফতারুল ইসলাম, মনোরঞ্জন রায়, ফাইজার রহমান, আজমেরী আক্তার।

শিক্ষার্থী সংখ্যা কম থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক ফাইজার রহমান বলেন, “গ্রামে জনবসতি কম থাকায় পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। তবে বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা সবাই নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে। আর আমরাও যত্ন সহকারে তাদের পড়াচ্ছি।”

তবে অভিভাবকদের মধ্যে  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  কয়েকজন জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ে সব মিলিয়ে দশজন শিক্ষার্থী থাকলেও তাদের সবাই আবার নিয়মিত স্কুলে আসে না। আর শিক্ষার্থী না থাকায় শিক্ষকরাও ঠিক মতো স্কুলে আসেন না। … অথচ সরকার তাদের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করছেন।”

শিক্ষার্থী বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনজুর মোরশেদ বলেন, “শিক্ষার্থী বৃদ্ধির জন্য আমরা আশপাশের গ্রামের মানুষদের সাথে কথা বলছি। আশা করছি পাশের কয়েকটি গ্রামের কিছু শিক্ষার্থী আমরা পাব। এতে করে আগামী বছরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরো বাড়বে।”

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, “কমিউনিটি বিদ্যালয় থেকে জাতীয়করণ হয়ে বিদ্যালয়টি সরকারি হয়েছে। ঐ এলাকায় জনবসতি কম হওয়ায় বর্তমানে শিক্ষার্থীও কম। আশা করছি আগামী বছর থেকে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়বে।”

পাঠদানে শিক্ষকদের গাফিলতির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “সব বিষয় তো জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”