ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার রায় বুধবার দুপুরে ফেইসবুকে একটি পোস্ট করেছেন একাধিক ছবিসহ। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘‘উপজেলা পরিষদ এর পক্ষ থেকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা মূলক লিফলেট, তিন হাজার মাস্ক, ৫০০ ডেটল সাবান বিতরণ করা হলো। সহযোগিতায় প্রজন্ম তরুন সংঘ।’’
ফেইসবুক পোস্ট করা একটি ছবিতে দেখা যায়, এক বৃদ্ধ ভ্যানচালককে মাস্ক পরিয়ে দেওয়ার পর তাকে দু্ই হাতে ধরে আছেন ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার রায়।
আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আখতারুল ইসলাম নিজ হাতে এক পথচারীকে মাস্ক পড়িয়ে দিচ্ছেন। চেয়ারম্যান সাহেব নিজে মাস্ক পরে থাকলেও তার হাতে কোনো গ্লভস ছিল না।
চেয়ারম্যান সাহেব, ভাইস চেয়ারম্যান সাহেব এবং আরো কয়েকজন পাশাপাশি ও কাছাকাছি অবস্থানে হেঁটে চলেছেন এমন ছবিও প্রকাশ করেছেন পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান।
করোনাভাইরাস বাতাসে ভেসে ও স্পর্শের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে। অথচ কভিড-১৯ নিয়ে স্বাস্থ্য সচেতন করতে গিয়ে পীরগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নিজেরাই সুরক্ষা নির্দেশনা মেনে চলেননি। তিন হাজার মাস্ক বিতরণ করা হলো এবং অনেককে নিজ হাতে পরিয়েও দেওয়া হলো; এতে করে নিজেরা তো বটেই অন্যদেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
সামাজিক দূরত্ব বজায় চলাচলে নির্দেশনা দেওয়া হলেও তারা কেউই এই কার্যক্রমে সেই সুরক্ষাবিধি মেনে চলেননি।
জনগণের ভোট পাওয়ার জন্য একজন জনপ্রতিনিধিকে জনগণের কাছাকাছি গিয়ে তাদের বুঝতে হয়; তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনতে হয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের এই সময়ে জনপ্রতিনিধি যদি নিজেই জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি বয়ে আনেন, তা কি মেনে নেওয়া যায়?
এই মহামারীর সময় অবশ্যই জনগণকে সচেতন করতে ও প্রয়োজনে তাদের খাবার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জিনিস পৌঁছে দিতে একজন জনপ্রতিনিধিকে মাঠে নামতে হতেই পারে। তবে এরমধ্যে যেন কেউ কারো জন্য ঝুঁকি ডেকে না আনে, সেরকম করেই চলাফেরা করতে হবে।
পীরগঞ্জ উপজেলার দুই জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান যদি নিজেরা করোনাভাইরাস প্রতিরোধের নির্দেশনা সঠিকভাবে মেনে জনগণের জন্য কাজ করেন, তবে এর থেকে অন্যরাও সহজেই শিখতে পারবে যে কীভাবে নিজে নিরাপদ থাকা যায় ও সবাইকে নিরাপদ রাখা যায়।
ছবি: পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার রায়ের ফেইসবুক প্রোফাইল থেকে নেওয়া।

রেজাউল হক নাঈম বলেছেনঃ
আসলে আমরা শুধু বাংলাদেশই নয়, উন্নত বিশ্বের কেউই এই ভাইরাসের জন্য প্রস্তুত ছিলো না।
হাসিবুল হক বলেছেনঃ
অসচেতনতায় কাটানো জীবন রাতারাতি সচেতনতায় ফিরিয়ে আনা কঠিন বৈকি। তার ওপর ফটোসেশন তত্ত্ব তো রয়েছেই। সুন্দর পোস্ট।
কেমন আছো হৃদয়? সম্ভবত বছর দুয়েক আগে তোমার সাথে প্রথম পরিচয় হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে। ভাল লাগছে তোমাকে দেখে।বোধ হয় কয়েকদিন আগে আইরিন আপার সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকেও দেখেছি তোমাকে।অসুস্হতার জন্য লেখালিখি বন্ধই হয়ে গেছে বলতে পারো।তোমার পড়ালেখা নিশ্চয় ভালমতো চলছে। ভাল থেকো । বিশেষ করে এই সময়ে সাবধানে থেকো সকলকে নিয়ে।শুভকামনা রইল। –যহরত