ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ভালোবাসা এমন এক অনুভুতি, যার কোন সংজ্ঞা হয় না। তাইতো প্রেমিকার চোখের ভেতর নিরন্তর খুঁজে ফেরা ভালোবাসার কুলহী্নতায় প্রেমিক বলে- “সখি, ভালবাসা কারে কয়?

আমি ভাবছিলাম, মানব-মানবীর অনুভুতি কেন্দ্রিক এ মিলিয়ন ডলার প্রশ্নটি যখন হৃদয় সংযোগ ছাপিয়ে ভূখণ্ডে গিয়ে পৌঁছে তখন প্রশ্নটি পদ্মা সেতুর প্রস্তাবিত বাজেট ২২ হাজার কোটি টাকার প্রশ্নে পরিণত হয়!

“সখি, দেশপ্রেম কারে কয়?

তবে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর ঋণ চুক্তি বাতিলের পর নিজেদের অর্থায়নে এমন দুই-চারটি পদ্মা সাঁকো বানানোর মতোই ২২ হাজর কোটি টাকার এ প্রশ্নের সহজবোধ্য উত্তর দিয়েছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা! কোন পণ্য ও প্রতিষ্ঠানকে দেয়া ISO 9000 সনদের মতোই তিনি আবুল হোসেন কে দিয়েছেন দেশপ্রেমের ডিজিটাল 2021 সনদ! বলেছেন- আবুল দেশপ্রেমিক। কারন তিনি পদত্যাগ করেছেন!

দেশপ্রেম নিয়ে ২২ হাজার কোটি টাকার প্রশ্নের এমন সরল উত্তম উত্তরের পর যে সম্পূরক প্রশ্নটি আসে- তবে কি পদত্যাগের জন্য এক প্রকার মহাযুদ্ধ করা সোহেল তাজও শেখ হাসিনার চোখে উত্তম দেশপ্রেমিক? নাকি নন?

এ প্রশ্নের উত্তরটি সম্ভবত আবুলের হাসির মতো প্রাণোচ্ছল নয় বরং সাহারা খাতুনের হাসির মতোই জটিলতর! তাই এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যেতে পারে ধর্মে… ধর্ম বলেছে- দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। ঈমান অর্থ বিশ্বাস। অর্থ্যাৎ দেশপ্রেমের সাথে বিশ্বাসেরও সম্পর্ক রয়েছে।

তাই বিশ্বাস আর বিশ্বাসীর পরিক্ষায় একজন আবুল হোসেন কিম্বা একজন সুরঞ্জিতসেন গুপ্ত গোল্ডেন এ+ পেলেও সোহেল তাজ যে ঈমানই পরীক্ষায় ফেল করেছেন তা বলাই বাহুল্য।

ছোটবেলায় পড়া ‘দেশপ্রেম রচনার একটি লাইন এখানে প্রাসংগিক ভাবেই উল্লেখ করা যেতে পারে- “আমাদের নিজ নিজ অবস্থানে থেকে যথাযথ দায়িত্ব পালনই দেশপ্রেম”

যেহেতু আমাদের সমাজের এমপি-মন্ত্রীরা সমাজের চোখে পুরুষ মানুষের মতোই চরিত্রহীন! পুরুষ মানুষের ক্যারেকটার একটু ঢিলা হবে, তারা আমোদ ফুর্তি করবে, একটু আটটু গলা ভেজাবে, এদিক ওদিক যাবে, এতে দোষের কিছু নাই! তেমনি আমাদের এমপি-মন্ত্রীরাও দেশের টাকা নিজের মনে করে একটু নয়-ছয় করবে, ঘুষ নয় বরং উপঢৌকন দাবি করবে, বিড়াল ধরতে গিয়ে নিজেই কাল বিড়াল হবে, এটাই স্বাভাবিক, এটা দোষের কিছু না! এমন নয়-ছয় কাজ যথাযথ ভাবে পালন করাও তো দেশপ্রেম!

তবে তাদের দেশপ্রেম প্রশ্নবিদ্ধ! তারা যদি এমন নয়-ছয় যথাযথভাবেই করতো তবে কালো বিড়াল পিলখানায় ধরা পরত না! বিশ্বব্যাংক ও অভিযোগ না করে দুদকের মতোই বলতো- এখানে কোনো দূর্নীতি খুজেঁ পাওয়া যায়নি! তারপরও প্রশ্নবিদ্ধ দেশপ্রেম প্রশ্নাতীত হয়ে যায়- কারন তারা পদত্যাগ করেছেন। আর প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়- পদত্যাগই দেশপ্রেম!

আমার অবশ্য কোনো পদ নাই, তাই পদত্যাগের উপায় নাই, দেশপ্রেমিক হবার সুযোগও নাই! এ দেশের সাধারন মানুষেরও নাই! তবে পদ আর পদত্যাগ না থাকলেও এ দেশের সাধারন মানুষেরা দেশপ্রেমিক। কারন দেশপ্রেমের জন্য প্রয়োজন ত্যাগ -পদত্যাগ, স্বার্থত্যাগ, আত্মত্যাগ, আস্থা ত্যাগ……………………………।

এক সময় ভাবতাম, এ দেশের মানুষেরা বড় অস্থির, আস্থাহীন। এ দেশের গণতন্ত্র মানেই পাঁচ বছরের পালা বদল! আঙ্গুলের অমোচনীয় কালী মেখে, ন্যাড়া হয়ে আলাদা আলাদা বেল গাছ তলায় বারবার যাওয়া!

কিন্তু এখন ভাবি, ন্যাড়াদের বারবার বেল গাছ তলায় বারবার না গিয়েই বা উপায় কি? নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে যে ক্ষমতার কার্যক্রম মেলে না! তাইতো বাধ্য হয়ে, স্বতঃস্ফূর্তভাবেই পালা বদলের প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হয় আস্থা ত্যাগের!

পদত্যাগ করা আবুল হোসেন দেশপ্রেমিক কিনা জানিনা তবে বারবার আস্থাত্যাগ করা জনগণই বাস্তবিক দেশপ্রেমিক। আবুল হোসেন অন্তত একটা কারনে ধন্যবাদ পাবে!- আবুলদের দেশপ্রেম, জনগনকে আস্থা ত্যাগী দেশপ্রেমিক হতে বাধ্য করে!!!