ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ছাড়তে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন- “জনগণের মনের কথা বোঝার চেষ্টা করুন। জামায়াত-শিবির ছাড়ুন। তাহলে যদি বাংলার মানুষের মনে একটু জায়গা হতে পারে।” তথ্যসুত্র

খুবই উদ্বার্ত আহবান। তবে আমাদের ক্ষয়িষ্ণু রাজনীতিতে উদার এ আহবান যথাযথ সন্মান দুরে থাক বিদ্রুপের কাটায় জর্জরিত হবে এবং বিরোধিতার স্বার্থে বিরোধিতার রাজনীতিতে জনগনের ভাষা বোঝার আশা জলাঞ্জলি দিয়ে জামায়াতের সাথে বিএনপির পিরিত আরো বাড়িয়ে দেবে!!! যদিও দুরাশা তবুও আশা করছি- একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী বেগম জিয়া, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাতেই হোক কিম্বা জনগনের মনের ভাষা বুঝেই হোক, এ আহবানে সাড়া দেবেন…..

কিন্তু প্রশ্ন হলো, খালেদা জিয়া যদি রাজনৈতিক এ ক্লাইমেক্স বাড়িয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রীকে আহবান করে বসেন- “জনগণের মনের কথা বোঝার চেষ্টা করুন। বিশ্ববেহায়া স্বৈরাচার এরশাদের সঙ্গ ছাড়ুন”। তখন কি হবে???
আজকের উদার উপদেশদাতা কি এমন উদার উপদেশ গ্রহন করবেন???
গনতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করা এক মহান নেতার কন্যা হয়ে, তিনি কি পিতার আদর্শ ও জনগনের মনের ভাষায় স্বৈরাচারের সঙ্গ ছাড়বেন???

উত্তর-না…এ সঙ্গ তিনি ছাড়বেন না! যেমন জামায়াত সঙ্গ ছাড়বেন না খালেদা জিয়া!!
কারন এ রাজনৈতিক সঙ্গ’র সাথে রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত। নীতি-নৈতিকতা, গনতন্ত্র-স্বৈরতন্ত্র, স্বাধীনতার চেতনা-স্বাধীনতার বিরোধী, এ সকল শব্দ গুলো আর আদর্শে নেই ভোটের রাজনীতির হাতিয়ার হয়ে গেছে…..দুই তৃতীয়াংশ কিম্বা তিন-চতুর্থাংশ জনসমর্থন আর জনসমর্থন নেই বরং জনমত বিক্রির দলিল হয়ে গেছে! আর তাইতো তারা জনগনের মনের ভাষা বুঝবেন না…..বুঝবেন না বলেই, দেশনেত্রী স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গ ছাড়তে পারবেন না!!! স্বৈরাচারের সঙ্গ ছাড়তে পারবেন না গণতন্ত্রের মানসকন্যা!!

তবে রাজাকার-স্বৈরাচার সঙ্গ-রঙ্গ নিয়ে আমার এখন আর কষ্ট হয় না!! বরং আমার কষ্ট হয় তখন-
যখন দেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গ দানকারী নেত্রীকে আমরা বলি দেশনেত্রী! স্বৈরাচারের পৃষ্ঠপোষক নেত্রীকে বলি “গণতন্ত্রের মানস কন্যা”! জনগনের অকুণ্ঠ সমর্থন পাওয়া এ দুই নেত্রীর স্তুতির আধিক্যে আমি বিস্ময় নিয়ে ভাবি- আসলে জনগনের মনের কথা কি? জনগনের ভাষা কি?

এ ভাষাতে কি, স্বাধীনতা বিরোধীদের সমর্থনই দেশপ্রেম!!! স্বৈরাচারের সঙ্গই গনতন্ত্র!!!!