ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

আমার গত পোস্টে, নিজেকে পরিচিত করেছিলাম-ব্লগীয় নাইটওয়াচম্যান হিসাবে!
ক্রিকেট পাগল একটি জাতির একজন হিসাবে, একসময়ের জায়ান্ট কিলারের জায়ান্ট হয়ে ওঠার সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের গর্বিত সমর্থক হিসাবে এমন ক্রিকেটিয় পরিচয়ে আমি গর্বিত…।

ইতিমধ্যেই জাতি মেতেছে এক অসাধারন অর্জনে….
বিজয়ের মাসেই বাংলার টাইগারেরা ছিনিয়ে এনেছে অভিভূত আরেক জয়। যে জয়ে স্বপ্ন, সম্ভাবনা আর লড়াই করে বিজয় ছিনিয়ে নেবার প্রত্যয় ছড়ায় অবাধ আলোর মতোই। যে জয়ে সামান্য নাগরিক জেমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনে একি কাতারে!! যে জয়ে আবেগ, উৎকণ্ঠা, আর উচ্ছ্বাসে উচ্চারিত হয় একটি নাম- বাংলাদেশ।।।

শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও বাংলাদেশের সিরিজ জয় এ নাইটওয়াচম্যানকে করেছে আনন্দিত, করেছে উজ্জীবিত। তবে মিছিল থেকে করেছে বিরত!! আমার বাসা স্টেডিয়ামের ঠিক পাশে হওয়ায় জানালা দিয়ে দেখছিলাম রাস্তায় সমর্থকদের বিজয় উল্লাস, টিভিতে দেখছিলাম খেলোয়ারদের গ্যাংগনাম নৃত্য। খেলোয়ারদের এ অভিনব উৎযাপন আমাকে করছিলো বিষ্মিত! আমি ভাবছিলাম, বাংলাদেশের জয়ের কয়েকটি ধারা-
এক.- ইতিপূর্বেও বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে।
দুই.- নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াস নামের বাংলাওয়াস করেছে।
এবং তিন.- বড় শক্তির বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় আর অঘটন নয় বরং নিয়মিত বাস্তবতা।
এখন প্রশ্ন হলো- এ জয় বিশেষায়িত কেন? যা কিনা উৎযাপনকে নিয়ে গেছে গ্যাংগনাম স্টাইলে?

এর সম্ভাব্য কারন হতে পারে-
এক.- সম্প্রতি টি20 বিশ্বকাপ জয় করে এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এ জয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে জয়।
দুই.- সিরিজ শুরুর আগেই ক্যারাবিয়ান অধিনায়ক ড্যারেন সামি কোন রূপ সৌজন্যতার ধার না ধেরে বলেছিলো- তারা ৮-০ তে জিতবে। এ জয় ঔদ্ধত্যের বিপক্ষে বাংলাদেশের সন্মান রক্ষার জয়।
তিন.- ওয়েস্ট ইন্ডিজের সহ-অধিনায়ক কিরন পোলার্ড দাম্ভিক ভাষায় জানিয়েছিলো- বাংলাদেশের বোলাররা উইকেট পায় না তারাই উপহার দেয়! উইকেট পাওয়া ১০ বলের ৯ টি তিনি বিশাল ছক্কায় খুলনা থেকে ঢাকা পাঠাতে পারে। এ জয় দাম্ভিকতার বিপক্ষে ক্রিকেটীয় সৌন্দর্যের জয়।
এসব কারনেই বিশেষায়িত জয়টি উচ্ছাসের সুনামি বইয়ে দেবে এটাই স্বাভাবিক, এবং সেটিই হয়েছে….এ উচ্ছাসেরই অভুতপূর্ব দিক হিসাবে সম্ভবত খেলোয়ারেরা গ্যাংগনামকে বেছে নিয়েছে।
তবে কিছুদিন পূর্বেই টি20 বিশ্বকাপ জিতে গ্যাংগনাম স্টাইলে নেচে গ্যাংগনামকে বিখ্যাত করা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে, পরাজিত করে বাংলাদেশী খেলোয়ারদের গ্যাংগনাম নাচ অনেককে বিনোদিত করলেও এ নাইটওয়াচম্যানের কাছে তা দৃষ্টিকটু লেগেছে…..!

মুলত খুলনাতে ২-০ তে সিরিজ এগিয়ে যাওয়ার পরই বাংলাদেশী ক্রিকেটারেরা গ্যাংগনাম স্টাইল নাচ প্র্যাকটিস শুরু করে যার প্রদর্শনী আমরা দেখলাম ফাইনালে। অর্থ্যাৎ জয়ের সম্ভবনা তৈরি হবার পরই এমন উৎযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়! কিন্তু প্রশ্ন হলো- এমন উৎযাপনের সিদ্ধান্ত কেন? এটা কি ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্টাইল দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে খোঁচা দেয়া? এ স্টাইল দিয়ে তাদের ব্যাঙ্গ করা??
এ প্রশ্নের জবাব খোঁজার আগে আমি জানার চেষ্টা করছিলাম গ্যাংগনাম স্টাইল কি?

“ওপ্পা গ্যাংগনাম স্টাইল” একটি কোরীয়ান গান। সারা পৃথিবীতে যে গানটি ক্রেজ তৈরি করেছে, ইউটিউবে যার হিট ৮০ কোটিতে পৌছেছে, যা কিনা বিশ্বরেকর্ড। প্যারোডি ধাঁচের এ গানটি মাত্র ত্রিশ বছর আগে ক্ষুধা দারিদ্র কাতর ‘গ্যাংগনাম’ উপশহরের হঠাৎ গজিয়ে ওঠা ধনী শ্রেনীর ‘মুই কি হনুরে’ ভাবের ব্যঙ্গাত্মক!

আমি ভাবছিলাম- ক্রিকেটারদের গ্যাংগনাম নৃত্য কি গ্যাংগনামের ব্যঙ্গাত্বক শিক্ষাকে পাশ কাটিয়ে নিজেই ব্যঙ্গতে পরিনত হয়নি? গ্যাংগনামের মুই কি হনুরে ভাবটা কি এখানে চলে আসেনি? এটা কি উৎযাপনের নামে অসৌজন্যতা নয়?

জয়ের আনন্দ অবশ্যই থাকবে কিন্তু তা যেন সৌজন্যতাকে পাশ কটিয়ে না যায়। ‘মুই কি হনুরে’ নয় বরং মুই কি ছিনু এবং মোর কতটুকু উন্নতি দরকার এই বোধটাই যেন মুখ্য হয়ে ওঠে। নইলে যে ১৬ কোটি বাংলাদেশীর গ্যাংগনাম নাচকে কটাক্ষ করবে “ওপ্পা গ্যাংগনাম স্টাইল” গানটি দেখা ৮০ কোটি দর্শক!

দুটি ঘটনা, দুটি শিক্ষা:

ঘটনা এক.- খেলা চলাকালীন সময়ে নাসিরকে পেশী দেখিয়ে মারার জন্য স্লেজিং করেছিলো পোলার্ড। নাসির সে স্লেজিংএ কান না দিয়ে নিজের হেংলা শরীর দেখিয়ে বুঝিয়েছিলো-আমি মারতে পারি না। নাসির মাথা ঠান্ডা রেখেছিলো যা কিনা জয়ের জন্য সহায়ক হয়েছিলো।
শিক্ষাযে কোন পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখাই পেশাদারিত্ব।

ঘটনা দুই– খেলার শেষ মূহুর্তে নাসির এবং সানি রানের দৌড় সম্পন্ন না করেই উচ্ছ্বাসে মেতেছিলো!! ভাগ্য ভালো কোন সমস্যা হয়নি তবে দায়িত্বের নুন্যতম অবহেলা অনন্ত আক্ষেপের জন্ম দিতে পারতো।
শিক্ষালড়াই করতে হবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।