ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

সকালে পত্রিকা কিনে সবে মাত্র চা’র দোকানে বসেছি। কালো রং, উসকো খুসকো চুল, বিশেষত্বহীন টোকাই চেহারার একটি ছেলে, কতই আর বয়স? নয়-দশ। এক হাতে রুটি অন্য হাতটা আমার দিকে বাড়িয়ে করুন চেহারায় বললো- পাঁচটা ট্যাকা দেন।

বিরক্তি নিয়ে বললাম-টাকা দিয়ে কি করবি?

চা দিয়া রুটি খামু, ছেলেটির তাৎক্ষনিক জবাব।

করুনা প্রত্যাশী একটি ছেলের স্পষ্ট জবাবে বিরক্ত আমি ততক্ষণে পত্রিকায় মনোযোগ দিয়েছি। কিছুক্ষন পর খেয়াল করে দেখি, ছেলেটি তখনো দাড়িয়ে, আনমনে রুটির ফোলা অংশ ছিড়ে খাচ্ছে।

আমি দোকানদারকে ছেলেটির জন্য চা দিতে বলে পত্রিকায় চোখ বোলাচ্ছি, প্রথম আলো’র সারা বিশ্ব পাতায় পড়ছিলাম “পাঁচ বছরের তারকা সুরি”। স্বনামখ্যাত হলিউড তারকা টম ক্রুজ ও কেটি হোমসের মেয়ে সুরি। গায়ের উজ্জল রং, ভিন্ন ধাঁচের বাদামি চুল, সবুজ চোখ ও মিষ্টি চেহারায় অন্য রকম বিশেষত্ব এনে দেয়া সুরি, নিজ মহিমাতে শিশু তারকা। যার প্রত্যেকটি পোষাকের দাম দুই হাজার ডলার, যার ওয়ারড্রোবেই আছে ২৫ লাখ ডলারের পোশাক!
মনটা হঠাৎ খা খা করে ওঠে…..চোখ তুলে তাকাই- টোকাই ছেলেটি তখন চায়ে রুটি ভিজিয়ে খেতে ব্যস্ত।
আমি বলি- স্কুলে যাস?
কোন জবাব আসে না!
হয়তো শুনতে পায়নি, হয়তো শুনলেও জবাব দেবার প্রয়োজন বোধ করে নি! টোকাইয়ের আবার স্কুল!!!
আমি ভাবছিলাম. স্রষ্টা সতিৎ দয়াময়! তার দয়ায় এই ছেলেটির স্কুল ভাগ্য নেই!
এই ছেলেটি যদি স্কুলে যেতো, তাহলে হয়তো হিসেব কষে বের করে ফেলতো, ২৫ লাখ ডলার সমান কত টাকা! ছেলেটি তখন বুঝে যেতো স্রষ্টা সবার জন্য নয়! স্রষ্টা থাকেন কোনো ভদ্র পল্লিতে, সুরিদের ওয়ারড্রোবে, টোকাইয়ের চায়ের কাপে নয়!
আমার চোখ ছলছল করে ওঠে…..আমি পত্রিকায় মুখ ঢাকি। লজ্জায়….না না ভয়ে! ছেলেটি যদি আমার চোখের ভাষা বুঝে ফেলে।