ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

১৪ই ফেব্রুয়ারি, দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিচারের রায়ের গুন্জন শোনা যাচ্ছিল। সে সময়েই শাহবাগে শোনা যাচ্ছিল দৃঢ় উচ্চারন-
ক তে কাদের মোল্লা, তুই রাজাকার তুই রাজাকার
স তে সাঈদী, তুই রাজাকার তুই রাজাকার
রাজাকারের ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই
শ্লোগানের সাথে উচ্চারিত হচ্ছিল হুশিয়ারী- পক্ষ নিলে রক্ষা নাই….

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সাঈদীর বিচারের রায় চাপা পড়েছে! শাহবাগের উচ্চারন ক্ষীন হয়ে গেছে! শাহবাগে শ্লোগান এখন টিকে আছে তোতা পাখির মুখস্থ উচ্চারনে! ক তে কাদের মোল্লা, তুই রাজাকার…গ তে, স তে, ন তে…..তুই রাজাকার, তুই রাজাকার….

সারা দেশ যখন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবীতে একাট্টা, বিচারের জন্য বিরাজ করছে স্বাধীনতার ৪২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে অনুকূল পরিবেশ, শাহবাগে বিচার প্রত্যাশী গনজোয়ার যখন বিচারের দাবীতে রাত-দিন জাগরিত, মুখরিত। তখন সাঈদীর রায় ঘোষনা পেছালো কেন? এটা কি সাঈদীর প্রতি ভালবাসা দিবসের উপহার নয়? এ প্রশ্নটা সংগতভাবেই উঠে আসে…..
আজ ২৪ ফেব্রুয়ারী, ১০ দিন পেরিয়ে গেছে- সাঈদীর রায় কই? কবে হবে? আর সব বিচারের কি অবস্থা?

কিন্তু আপসোস, এমন কোনো প্রশ্নবোধক উচ্চারন তারুন্যকে মুখরিত করছে না! তারুন্য মুখরিত মুখস্ত উচ্চারনে, তারুন্য গর্বিত দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের গর্বে!!!
কি আশ্চর্য, আমি বিচার চাইছি কিন্তু বিচারের কি খবর? রায় ঘোষনা হচ্ছে না কেন? রায় পেছাচ্ছে কেন? এ প্রশ্ন আমার নয়! রায় ঘোষনার আলটিমেটাম আমি দেব না! সরকারকে কোন আলটিমেটাম আমি দিচ্ছি না!

এ কেমন দাবী আদায়ের আন্দোলন? প্রশ্নবিহীন এ আন্দোলন কি অনুগত্যের নামান্তর নয়?

ধানাইপানাই বাদ দেন! জনগনের আবেগের সাথে, জনজাগরনের সাথে বেইমানি করবেন না। আন্দোলনকে অনুগত্যের মোড়কে ঢেকে দেবেন না। জাগরন মঞ্চ থেকে সুনির্দিষ্ট দাবী উপস্থাপন করুন। দাবী আদায়ে আলটিমেটাম দিন। যুদ্ধাপরাধিদের যারা বাঁচানোর চেষ্টায় রত তাদের জন প্রত্যাক্ষানের আহবান জানান।

বিরোধী দলীয় নেত্রীকে প্রশ্ন করুন- তিনি কোন পক্ষে যাবেন?
প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করুন- যার মন ছুটে আসে শাহবাগে, তার কাছে সাঈদীর রায় পেছানোর ব্যাখ্যা কি?
সরকারকে প্রশ্ন করুন- কাদের মোল্লার রায়ে এ অসন্তোসের দায় কার? কোথায় ঘাটতি? বাদবাকি রায় কবে হবে?

সকলকে জানিয়ে দিন- পক্ষ নিলে রক্ষা নাই, আন্তরিকতার ঘাটতি থাকলে রক্ষা নাই। প্রশ্নের জবাব দিতে ব্যর্থ হলে রক্ষা নাই।