ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, ব্লগালোচনা

অবশেষে অপেক্ষার দীর্ঘতম প্রহর পেরিয়ে, ফিরে পেলাম প্রিয় ‘বিডিব্লগ’….

বিডিব্লগের সাথে আমার ‘জন্মসুত্র’ বা প্রথম যোগ জড়িয়ে আছে!
১১ ফেব্রুয়ারী ২০১১, যেদিন থেকে বিডিনিউজ24.কম ব্লগ যাত্রা শুরু করলো, সেদিন থেকে এ ব্লগে যাত্রা শুরু আমারও। ব্লগের বর্তমান গেটাপে হয়তো যোগদানের তারিখ দেখা যাবে না, তবে কেউ যদি নিতান্ত আগ্রহভরে আমার পূর্বের পোস্টগুলো দেখতে থাকেন, তবে দেখবেন-  ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১১, আমি পোস্ট করেছিলাম ব্লগে আমার প্রথম পোস্ট ‘পৃথিবীর আদি ইভ টিজার!
আমার এ ব্লগিং নিয়মিত ভাবেই চলেছে, ১৪মার্চ ২০১৩ ব্লগ সাময়িক বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত (লক্ষ্যনীয়, ১৩মার্চ ২০১৩ আমি পোস্ট করেছিলাম সর্বশেষ পোস্ট- ‘একটি অযৌক্তিক হরতালকে পুলিশি রাষ্ট্র কিভাবে বৈধ করে দিল!!!‘)।

তারপর দীর্ঘ ১১ মাস ৭ দিনের বিরতি!! অনেকে অবশ্য সময়কালের দিকে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকাতে পারেন এবং ভাবতে পারেন- সময়কালটা মাতৃত্বের প্রচলিত সময়ের সাথে মিলে গেছে, এবং ১০ মাস ১০ দিনের হৃদয়ে ধরা শিশুটি নতুন রুপে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে…

এই নতুন ফেরার পর ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৪, ব্লগে আমি পোস্ট করি- ‘বাংলাদেশ, আমি তোমার ওপর বিরক্ত!‘। লক্ষ্যনীয়, আমার আগে ব্লগ পোস্ট করেন- আইরিন সুলতানা এবং কৌশিক আহম্মেদ, যারা দুজনেই সম্ভবত এডমিন হিসাবে আছেন। অর্থাৎ এডমিনদের বাদ দিলে আমার পোস্টটিই নতুন যাত্রার প্রথম পোস্ট!

আমি আনন্দিত, বিডিব্লগের প্রথমদিনের ব্লগার হিসাবে এবং নতুন শুরুর প্রথম পোস্টকারী হিসাবে।

এবার আমার অপরাজিত (প্রথম থেকে আজ) ব্লগিং এর কথা বলি-
আমার একটি প্রিয় গান- আমি তোমারও সঙ্গে বেধেঁছি আমারো প্রান, সুরেরও বাঁধনে।

ব্লগিং করতে গিয়ে এ গান মিশে গেছে দিনলিপির সাথে- আমি তোমারও সঙ্গে বেধেঁছি আমারও প্রান, লেখনীর বাধঁনে…আমায় লেখনীর বাঁধনে বেঁধেছে- আব্দুল মোনেম, জহিরুল চৌধুরী, নুরুন্নাহার শিরীন, হৃদয়ে বাংলাদেশ, প্রবাসী, রীতা রায় মিঠু, বাসন্ত বিষুব, আইরিন সুলতানা, কৌশিক আহমেদ, মঞ্জুর মোর্শেদ, জাহেদ-উর-রহমান, জিনিয়া, আবু সাঈদ আহমেদ, জুলফিকার জুবায়ের, মোত্তালিব দরবারী, মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, ম.সহিদ, মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধূরী, প্রবীর বিধান, সুকান্ত কুমার সাহাবিন্দুবিসর্গ, সত্য কথক, নীলকন্ঠ জয়, মাহি জামান, আবু সুফিয়ান, দুরন্ত বিপ্লব, মোঃ হাসেম, মোসাদ্দিক উজ্জ্বল, আমিন আহম্মদ, রণদীপম বসু, হেলজিনোম২০১০, আকাশের তারাগুলি, মুশফিক ইমতিয়াজ চৌধুরী,(আরো অনেকেই…) এ সব লেখকেরা তাদের অসাধারন লেখনীতে এ বাধঁন তৈরি করেছেন, এ প্রাপ্তিকে পূর্ন করেছেন।

যদিও বিভিন্ন মেয়াদে অনেক বন্ধুই চলে গেছেন। তবে আমি আশা করছি, গ্রামীনফোনের বিজ্ঞাপনের মতো- বন্ধুরা ঘরে ফিরবেই। হারানো অতৃপ্তি লেখনীতে পূর্ন করবেই। আর এ জন্য প্রথম এবং প্রধান ভুমিকা রাখতে হবে ব্লগ কর্তৃপক্ষকে! ব্লগারদের তথ্য যেহেতু ডাটাবেজে আছেই, তাই তাদের সাথে এখনই যোগাযোগ করাটা হবে ব্লগ কতৃপক্ষের প্রধান কাজ এবং দীর্ঘ সময় ব্লগ বন্ধ রাখার দায় এবং দোষ মোচনের সুযোগ!

যদিও জানি, একজন বন্ধু আর কখনোই ফিরবেন না! প্রিয় সাইফ ভূঁইয়া যে চলে গেছেন না ফেরার দেশে(৫জুলাই,২০১২)। ব্লগার সাইফ ভূঁইয়ার স্মৃতির প্রতি জানাচ্ছি বিনম্র শ্রদ্ধা……।

এভাবেই আমার অপরাজিত ব্লগিংয়ে লেখক হিসাবে কখনো  পাঠক হিসাবে দেখছি হৃদয়ের বাঁধনে বাঁধা মানুষ গুলোর আসা- যাওয়া…..এর ফাঁকেই গড়ে উঠেছে অনেক ভালো লাগা মন্দ লাগা….লেখালেখির বাহিরেও গড়ে উঠেছিলো নানা অর্জন। যে অর্জনের নেতৃত্ব দিয়েছে উদ্দোমী ব্লগারেরা। ব্লগের এ নবজন্মে অনুপ্রেরনার অংশ হিসাবে আমি স্বরণ করছি সে অর্জনের রোলিং পয়েন্টগুলো-

এক.- অন্তর্জালের এ সম্পর্ককে মানবীয় রুপ দিতে জাহেদ-উর-রহমান এবং আইরিন সুলতানার উদ্যোগে হয়েছিলো ব্লগারদের আড্ডা। যার একটির নাম ছিলো “কৃষ্ণচূড়া আড্ডা”। শুধু আড্ডায় নয় নামেই যেটা হৃদয় ছুঁয়ে যায়……

দুই.- মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে আর্ত মানবতার সেবায় সুলতান মির্জার ডাকে ব্লগারেরা মানবিক সাহায্য নিয়ে ছুটে গিয়েছিলো চট্টগ্রামে। স্বরণকালের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিতে, পাহাড়ী ঢল, পাহাড় ধস ও সৃষ্ট বন্যার পানিতে নদী ভাঙ্গনে প্রাণ হারায় ১১৯ জন। এবং বহু পরিবার হারায় তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ….ব্লগ পরিবার দাঁড়িয়েছিল সে সব অসহায় পরিবারের পাশে, তাদেরই একজন হয়ে……

তিন.- ব্লগের লেখাকে বইয়ে পরিনত করতে ম.সহিদের উদ্যোগে একুশে বইমেলা-২০১২ তে প্রকাশিত হয় ব্লগারদের লেখার সংকলন নগর নাব্য। যাত্রা শুরুর এক বছরের মাথায় এমন সফল সংকলন নিঃসন্দেহে অনেক বড় পাওয়া। যার ধারাবাহিকতা ঘটেছিলো একুশে বইমেলা-২০১৩’তেও। এরপর এক অনাকাংখিত ছন্দপতন!!! আশা করছি- একুশে বইমেলা-২০১৫’তে আবারো বেরোবে ব্লগারদের সংকলন…..

চার.- “মোল্লার দৌড় নাকি মসজিদ পর্যন্ত আর ব্লগারদের দৌড় কীবোর্ড পর্যন্ত” কথাটিকে ভুল প্রমান করে সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবাদে আবু সুফিয়ানের উদ্যোগে ব্লগারেরা নেমেছিলো রাজপথে….।

পাঁচ.- বিডি ব্লগের ব্লগার আবু সুফিয়ান, অনুসন্ধানি প্রতিবেদনে ব্লগিংকে দেন নতুন মাত্রা এবং ২০১২’তে তিনি জার্মানির আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যম ডয়চে ভেলের বেস্ট অব দ্য ব্লগস প্রতিযোগিতায়, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স ক্যাটাগরিতে সেরা ব্লগারের পুরষ্কার পান….

ছয়.- আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে বড় অর্জন যে মুক্তিযুদ্ধ, যে মুক্তিযুদ্ধ একি সাথে বেদনার ও গৌরবের। সে বেদনা আর গৌরবের দালিলিক প্রমান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। মুক্তিযুদ্ধের বেদনাময় গৌরবগাঁথা ইতিহাসের অংশ হতে মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধূরীর উদ্যোগে নির্মানাধীন স্থায়ী মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের দুটি স্বারক ইট কেনেন ব্লগারেরা।

সাত.- কসাই কাদের মোল্লার ফাঁসি না হওয়ায়, যখন ফুঁসে উঠেছিলো সারা দেশ, জন্ম হয়েছিলো শাহবাগে গনজাগরনের। তখন  জিনিয়ার আহবানে নীলকন্ঠ জয়আইরিন সুলতানার তত্বাবধানে আলুব্দিবাসীর সাথে কন্ঠ মিলিয়েছিলো বিডিব্লগ পরিবার- ‘কসাই কাদেরের ফাঁসি চাই”

উদ্দোমী ব্লগার আর অনুকুল ব্লগ পরিবেশের কারনেই সম্ভব হয়েছিলো এসব আলোকিত অর্জন।
অভিনন্দন উদ্যোক্তা এবং সহায়তাকারী ব্লগারদের…..আমি গর্বিত আপনাদের সহযাত্রী হতে পেরে।
অভিনন্দন বিডিনিউজ24.কম ব্লগকে..আমি গর্বিত এখানে ব্লগিং করতে পেরে।

আমি আসা করছি- “আবার জমবে মেলা, বটতলা হাটখোলা”।
আবারও হবে ‘কৃষ্ণচূড়া বা কদম আড্ডা’, আবারও মানবিক ডাকে সাড়া দেবে ব্লগারেরা, বেড়োবে নগরনাব্যের সিক্যুয়াল….আবারও…আবারও….
তবে সেজন্য সকল বন্ধুদের ফিরে আসাটা জরুরী, জরুরী লেখনীর বাঁধনটা শক্ত করে বাঁধার…