ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

হুমায়ন আহম্মেদের নাটকে একটি ডায়ালগ ছিলো- “কুকুরকে কুত্তা বলিবেন না, মাইন্ড করবে”।
ডায়ালগটি খুব জনপ্রিয় হয়েছিলো। মুখে মুখে প্রচারের পাশাপাশি বেড়িয়েছিলো এর স্টিকারও…

আমি ভাবছিলাম- পশুপ্রেমী এ ডায়ালগের পাশাপাশি পাখিপ্রেমী ডায়ালগ হতে পারতো- “কাককে কাউয়া বলবেন না, মাইন্ড করবে”।
যদিও আমি জানিনা, কুকুরকে কুত্তা আর কাককে কাউয়া বলিলে তারা আদৌ মাইন্ড করে কিনা? কিংবা মাইন্ড করার মতো মাইন্ড তাদের আছে কিনা? কিংবা কুকুরকে কুত্তা না বলিয়া কুকুর আর কাককে কাউয়া না বলিয়া কাক বলিলে তারা খুশি হয় কিনা?
তবে এটা জানি, কুকুর আর কাক রূপিদের আপনি কুকুরই বলুন কিংবা কুত্তা, কাকই বলুন কিংবা কাউয়া, তারা মাইন্ড করবে।

আপনি পশু-পাখি প্রেমী হতেই পারেন। তবে পশু-পাখি রূপিদের প্রেমী হবেন কিনা সেটাই গুরুত্বপূর্ন। পশুর কামড় আর পাখির ঠোঁকড় এড়াতে চুপ থাকবেন কিনা সেটাও বিবেচ্য।
মোসাহেবরা হয়তো কাককে কোকিল বলছে! কুকুরকে বলছে বাঘ!
আপনি নিরব! মনে মনে কুকুরকে যতই শুকুর বলুন, মনে মনে শুধু মনকলাই খাওয়া হবে, পেট ভরবে না!
তবে পেট না ভরলেও, মনকলা খাওয়ার মনস্তাত্বিক এক মজা আছে নিশ্চই! আর তাইতো কিছুদিন আগে গনতন্ত্রকে নসাৎ হতে দেখা জাতি, নিজ দেশে গনতন্ত্রের প্রশ্নে নিরব থাকলেও, বৃহৎ প্রতিবেশীর বৃহৎ গনতন্ত্র উৎসবে ব্যপক আগ্রহ দেখাচ্ছে!

আমি ভাবছিলাম- জারি-সারি গানের বাংলাদেশে, সারি গান কতটা প্রাসংগিক, কতটা বাস্তবমূখি?
“ও কাইয়ে ধান খাইলরে
খেদানোর মানুষ নাই
খাওয়ার বেলায় আছে মানুষ
কামের বেলায় নাই
কাইয়ে ধান খাইলরে

ওরে ও পাড়াতে পাটা নাই পুতা নাই
মরিচ বাটে গালে
ওরা খাইলো তাড়াতাড়ি
আমরা মরি ঝালে
কাইয়ে ধান খইলরে..”

সত্যি, গত নির্বাচনে আওয়ামী কাউয়া দেশের গনতন্ত্র ধান খেয়ে ফেলেছে। যখন গনতন্ত্রের জন্য কাউয়া খেদানো দরকার, তখন গনতন্ত্রের উৎসবের আবির বৃহৎ প্রতিবেশীর গালে, আর তাতেই আমরা মরছি গনতন্ত্র প্রেমের ঝালে!

প্রিয় কান্ট্রিমেট, প্লিজ ওয়েক আপ…..
খোকা ঘুমালে পাড়া জুড়াবে ঠিকই, কিন্তু খোকার বাপে ঘুমালে দেশটা বর্গিদের দখলে চলে যাবে! তখন কাউয়ায় ধান খেয়েছে বলে খাজনার টাকা দিতে অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তি রসুনের ওপর…

দেশের জন্য তা হবে এক অনন্ত আক্ষেপ!!