ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

 

আমার বাবা, কোন সেলিব্রেটি বাবা নয়।
আমার বাবা, পৃথিবীর সেরা বাবাও নয়!
আমার বাবা, আর আট-দশটা বাবার মতোই সাধারন এক বাবা। অসাধারন এক লালনকর্তা, পালনকর্তা এবং প্রয়োজনের নিরব যোগানদাতা।
আসলে সব বাবাই এক শীতল ছায়াদায়ী বৃক্ষ। বৃক্ষ যেমন ছায়া দেয়, ফল দেয়, জ্বালানী দেয়, কাঠ দেয়, দেয় বাঁচার জন্য অক্সিজেন…তেমনি বাবাও দেন ছায়া, দেন প্রয়োজনের ফল-জ্বালানী-কাঠের যোগান। দেন সমাজে মাথা উচু করে বাঁচার, আত্ব পরিচয়ের অক্সিজেন।
আমার বাবা, এক শীতল ছায়াদায়ী বৃক্ষ।

তবে আমার বাবা বিশেষ কিছু নয়! বরং বাবা মাত্রই বিশেষায়িত। সেটা আমার হোক কিংবা অন্যের।
সন্তান সুলভ পক্ষপাতে আমার বাবাকে পৃথিবীর সেরা বাবা বানিয়ে দেয়াটা সহজ এবং যৌক্তিক। এতটুকু যোগ্যতা তিনি ধারন করেন। কিন্তু এতে শুধু ব্যাক্তি বাবাকেই উচিয়ে ধরা হবে! নিচু করা হবে বাবা নামটিকে। কারন বাবা মাত্রই সেরা, সেটা আমার বাবা হোক কিংবা অন্যের।।
যদিও আমার বাবা পৃথিবীর সেরা বাবা নয়! তবে আমার বাবাই আমার পৃথিবী। আমার বাবা, আমার হিরো। আমার অনুপ্রেরনার আশ্রয়স্থল। এ উদ্দাম গতিময়তার যুগে তিনি শুধু লালন কর্তা, পালনকর্তা এবং প্রয়োজনের যোগানদাতাই নয় বরং আরো বড় কিছু।
ছোটবেলা থেকেই সকল হিরো, সুপার হিরোকে পাশ কাটিয়ে আমি শুধু তার মতোই হতে চেয়েছি। যে কিনা, আমার দেখা সবচেয়ে ভালো মানুষ। সৎ এবং সত্যবান, চমৎকার এবং চরিত্রবান। আমি গর্বিত তার মতো হবার চেষ্টা করতে পেরে, আমি গর্বিত তার সন্তান হতে পেরে। সম্ভবত বাবাকে নিয়ে করা এ গর্বটা সব সন্তানেরই অধিকার।

মাঝে মাঝে ভাবি, আমি কি পারবো আমার বাবার মতো সৎ, সত্যবান, চরিত্রবান হতে? আমি কি পারবো- আমার বাবার মতো বাবা হতে? কবির ভাষায়-
“ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে”
আমার মাঝে যে এক শিশুর পিতা ঘুমিয়ে আছে, সে কি পারবে সৎ, সত্যবান, চরিত্রবান থেকে তার সন্তানের গর্বের অধিকার কে প্রতিষ্ঠিত করতে?
ব্যক্তি কেন্দ্রিক এ স্বার্থপরতার যুগে, লিটনের ফ্ল্যাটে অবাধ যাতায়াতের সময়ে যখন সত্য এবং চরিত্র ডাল-ভাত হয়ে গেছে তখন কোন এক বাবা দিবসে এ প্রশ্নটাই গুরুত্বপূর্ন হয়ে ওঠে।

আজকের বাবা দিবসে, আমার অতি সাধারন হয়েও অসাধারন বাবাকে জানাচ্ছি শুভেচ্ছাপূর্ন কৃতজ্ঞতা। যিনি শুধু সুশীতল ছায়াই নয় বরং আমাকে দিয়েছেন গর্ব করার পূর্ন অধিকার। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি আব্বু, তুমিই আমার হিরো, তুমিই আমার পৃথিবী।