ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

আমি ফুটবলে ব্রাজিল সাপোর্ট করি…
আর আট-দশটা সাপোর্টারের মতোই উন্মাদের মতো সাপোর্ট করি! যে সাপোর্টে চায়ের কাপে ঝড় তুলে ঘন্টার পর ঘন্টা তর্ক করা যায়, যে তর্কে পেলে-ম্যারাডোনা, মেসি-নেইমার বড় ছোট হিস্যায় আর কাপ জয়ের ৫-২ পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনাকে বাতিল করে ব্রাজিলকে চাম্পিয়ন করে দেয়া যায়।(তর্কটা নির্ভর করে প্রতিপক্ষ কোন দলের সাপোর্টার তার ওপর)।

এবার যখন বিশ্বকাপ ডামাডোল শুরু হলো। আমি ঝালিয়ে নিচ্ছিলাম, আমার সমর্থন। হিসাব কষে মিলাচ্ছিলাম- রাত জেগে খেলা দেখার টাইম শিডিউল। বন্ধুদের সাথে কয়েক দফা জড়িয়েছি তর্কেও, যে তর্কের কোন সমাধান নেই!
তবে তর্কের এ তালগাছটার একটা গতি হতে পারে ১৩ই জুলাই রিও ডি জেনিরোর ফাইনালে।
আর সব সমর্থকের মতো, আমিও চাচ্ছিলাম এবারের ফাইনালটা ব্রাজিল জিতে নিক বা ব্রাজিল চাম্পিয়ন হোক।
তাই ১২ জুন সাও পাওলোতে যখন বিশ্বকাপের পর্দা উন্মোচন হয়েছিলো, সেদিনেই উদ্বোধনী ম্যাচে আমি নজর রাখছিলাম ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে নেইমার সহ স্বপ্ন সারথী ১১ জনের ওপর। ঠিক সে সময়ই আমার নজর চলে গেল স্টেডিয়ামের বাহিরে জড়ো হওয়া প্রায় দশ লক্ষ তরুনের ওপর! যে তরুনেরা টিকিটের অভাবে বিশ্বকাপ বঞ্চিত নয় বরং তারা ছিলো বিশ্বকাপ বিরোধী! যারা বিক্ষোভ করছিলো এবং বলছিল- ফুটবলে এত টাকা খরচ না করে অনাহারি শিশুদের খাবার যোগানো ব্রাজিলিয়ান সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। বিশ্বকাপে ব্রাজিল ব্যয় করছে ১,৪০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি! তা দিয়ে আট হাজার নতুন বিদ্যালয়, ৩৯ হাজার স্কুল বাস ও ২৮০০০ খেলার মাঠ নির্মাণ সম্ভব। ফুটবলের নামে জনগণের অর্থ নিতে এটা ছিনিমিনি খেলা। ব্রাজিলিয়ান সরকারের এমন চাকচিক্যের ছিনিমিনি বাদ দিয়ে জনকল্যান মনোযোগ দেয়া উচিত।
উত্তরে ব্রাজিলিয়ান সরকার বিদ্রোহ দমনের অংশ হিসেবে ‘রাবার বুলেট’ ছুঁড়েছে। নির্বিচারে!!
ফলে, মাঠে ব্রাজিলিয়ান খেলোয়ারদের ঘাম ঝড়লেও, মাঠের বাহিরে ব্রাজিলিয়ান জনগনের রক্ত ঝড়ছে!

আমি ভাবছিলাম, মাঠে ১১ ব্রাজিলিয়ান খেলছে একটা কাপের জন্য! আর মাঠের বাহিরে লক্ষ ব্রাজিলিয়ান লড়ছে তাদের অধিকারের জন্য।
এটা ঠিক, খেলা যত এগোবে গোল, গোল চিৎকারের নিচে চাঁপা পড়বে অধিকারের দাবীতে আন্দোলনকারীর চাওয়াগুলো। ব্রাজিল যদি চাম্পিয়ন হয় তাহলে এর আলোকছটার চাকচিক্যে আধারে ঢাকবে মৌলিক দাবীগুলো। কিন্তু মাঠে যদি ব্রাজিল হেরে যায়, তখন জন স্বার্থের বিপরীতে চাকচিক্যের ছিনিমিনি খেলা সরকারের কিছুই বলার থাকবে না, তখন ব্রাজিলের প্রতিবাদী মানুষ আরো বেশি গর্জে উঠবে। মাঠে ১১ জন হারবে তবে রাজপথের লক্ষজনতার বিজয়ের ভিত তৈরী করবে।

আমি চাই ব্রাজিল চাম্পিয়ন হোক, তবে সেটা দ্রুত পরাজয়ের মাধ্যমে!
যে পরাজয়ে ব্রাজিল শুধু মাঠে হারবে কিন্তু রাজপথে লক্ষ জনতা চাম্পিয়ন হয়ে উঠবে।