ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

গতকাল এশিয়াকাপ ফাইনালে বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে পরাজিত হয়েছে। তবে এ পরাজয়টাও বাংলাদেশকে চাম্পিয়ন করে দেয় এ অর্থে যে- পুরা টুর্নামেন্টে দলটি দারুন খেলেছে। শক্তিশালি শ্রী লংকা ও পাকিস্তানকে পরাজিত করে ফাইনালে উঠেছে এবং ফাইনালে রাংকিং-১ কে প্রতিনিয়ত ভয়ে রেখেছে রাংকিং-১০।

শুধু এ এশিয়া কাপই নয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের পার্ফরমেন্স গ্রাফ উর্ধ্বমূখি।
আমি আশা করছি- এ উন্নতি অব্যাহত থাকবে। এবং নিকট ভবিষৎএ বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করবে ক্রিকেট পরাশক্তি হিসাবে!

অনেকে হয়তো আমার এ আশাবাদকে নিজ দেশের প্রতি আবেগ বলে উড়িয়ে দিতে পারেন।
তবে জেনে রাখুন এ আশাবাদ আবেগ নয় বরং বাস্তবসম্মত এবং এটা ফলবে, অবশ্যই ফলবে।

প্রশ্ন আসতে পারে- কিভাবে?

উত্তর- গতকালের ফাইনালের পারিপার্শিকতা।
ক্রিকেট সম্পর্কে এ দেশের মানুষের যে তীব্র আবেগ, যার ফলে সবাই একযোগে প্রোফাইল পিকচার চেন্জ করেছে! ২৪ ঘন্টা, আমি আবারও বলছি- ২৪ ঘন্টা দাড়িয়ে, পুলিশের লাঠির বাড়ি খেয়ে টিকিট কেটেছে! কেউ কেউ ২৫০ টাকার টিকিট ৫০০০ টাকায় কিনেছে। ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তারা মাথা বাঁচানো আশ্রয় নয় বরং বৃষ্টি থামার জন্য স্রষ্টার প্রার্থনা কামনা করেছে এবং কাক ভেজা মানুষ ভেজা কাকের মতই গাসাপটায় পানি ঝেড়ে দলকে শেষ পর্যন্ত সমর্থন দিয়ে গেছে।

মুক্তিযুদ্ধের পর যে ক্রিকেটের প্রতি এ দেশের মানুষের এত আবেগ, ১৯৭১ এ এক মহান নেতার বজ্রকন্ঠের উচ্চারনের মতো- এদেশের মানুষকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।
এ ক্রিকেট পাগল মানুষেরাই ভবিষৎ-এ তাদের সন্তানকে ক্রিকেটার হিসাবে দেখতে চাইবে। যেটা এ দেশের ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে বড় আশাবাদ।

তবে এই মুহুর্তে যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশী আশাবাদী করেছে-
খেলা শুরুর আগে কিন্তু বৃষ্টি শুরু হয়েছিলো, যে কারনে খেলা আদৌ হবে কিনা এ সংশয় দেখা দিয়েছিলো। টিভিতে বারবার দেখাচ্ছিলো- রাত ১০:৪০ খেলা হবার শেষ সময়, তা না হলে রিজার্ভ ডে না থাকায় উভয় দলকে যৌথ চাম্পিয়ন ঘোষনা করা হবে।

বাংলাদেশ হয়তো T-20’র ১০ নম্বর পজিশনের দল হতে পারে, এদেশের সমর্থকেরা হতে পারে ১০ নম্বর দলের ১ নম্বর সমর্থক।
কিন্তু পজিশন বিবেচনা একবারের জন্যও কোন ভয় ঢুকাতে পারেনি, না বাংলাদেশ দলে না দলটির সমর্থকদের মনে।
কেউ একবারের জন্যও চিন্তা করেনি বৃষ্টি হোক, আমরা যুগ্নচাম্পিয়ন হয়ে ফাউয়ের পর কাপের এক কোনা অন্তত ধরি। বরং সবাই দোয়া করেছে- বৃষ্টি থামুক, মাঠেই মোকাবেলা করেই আমরা জিতবো”
এমনকি পরাজয়ের পরেও কেউ একবারের জন্যও আপসোস করে নি- ঈশ, বৃষ্টি হলেই ভালো হতো, আমরা অন্তত যুগ্ন চাম্পিয়নতো হতাম।

এ পরাজিত মানষিকতা যে দলকে এবং সে দলের সমর্থকদের স্পর্শ করতে পারেনা। সে দলকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।

১৯৭১ সালে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- ”
“৭ কোটি বাঙ্গারিরে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না”।

২০১৬ সালের ৭ মার্চে সে ভাষনের প্রতিধ্বনিই আমাদের হৃদয়ে বাজছে- ১৬ কোটি বাংলাদেশীকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না।
এদেশ ক্রিকেটে উচ্চ আসনে বসবে, অবশ্যই বসবে এবং সেটা পরাশক্তি হিসাবেই…