ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

৮ মার্চ ২০১৬ তে সারা পৃথিবীব্যাপি যখন পালন হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস, ঠিক তখনই ভারতের নাগপুরে শুরু হতে যাচ্ছে আইসিসি ওয়ার্ল্ড T-20।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় নেয়া 50-50 ক্রিকেট বা ওয়ানডে ক্রিকেট অপাংতেয় হয়ে পরেছে! কারণ তার জনপ্রিয়তা নিয়ে নিয়েছে উত্তেজনাকর 20-20 ক্রিকেট। আর দীর্ঘ মেয়াদি ৫ দিনের টেস্ট ক্রিকেটের কথা না হয় নাই বা বললাম….

আমি হতাশ হয়েছি- যুগের চাহিদায় যখন ক্রিকেট 20-20 হয়ে গেছে, যেদিনে T-20 বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে, সেদিনেই নারী দিবসে জাতিসংঘ দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারন করেছে- “Planet 50-50 by 2030: Step it up for gender equality” আশ্চর্য্য, প্রতিপাদ্যের লক্ষ্য নির্ধারণে জাতিসংঘ কেবল ওয়ানডের 50-50 তেই যায় নি! ২০৩০ সাল সময় নিয়ে একে ৫ দিনের বিরক্তিকর টেস্ট ক্রিকেটও বানিয়ে ফেলেছে!

অনেকেই এখন বলতে পারেন- সমস্যা কোথায়? 50-50 তো সমতার স্বীকৃত নির্দেশক। সমস্যা কিছুই নেই, তবে যুগের চাহিদাটাও বোঝা উচিত, মানুষের ধৈর্য্যহীনতাকেও গুরুত্ব দেয়া উচিত। বোঝা উচিত- সমতা শুধু 50-50′ তেই নয় 20-20′ তেও হতে পারে, এমনকি 1-1′ তেও বোঝানো যেতে পারে!

আর ২০৩০ সাল?
এমনিতেই নারী উন্নয়ন সূচকে পিছিয়ে থাকা এক জনবহুল দেশ ‘রুপকল্প ২০২১’ এর হ্যাপায় পরে ভোটাধিকারে হাবুডুবু খাচ্ছে সেখানে ‘রুপকল্প ২০৩০’ এর দীর্ঘমেয়াদী প্যারায় ফেলে নারী অধিকার কতটুকু প্রতিষ্ঠিত করা যাবে, সে প্রশ্নটাও বড় এক বিষয়! স্বল্প মেয়াদে জাতিসংঘ আজকের নারী দিবসে অন্তত ইন্ডিয়ার নাগপুরে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ মাঠে চিয়ারলিডার হিসাবে শুধু গার্ল নয় বরং একই সংখ্যক বয় তুলে দিয়ে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে পারবে কিনা সন্দেহ?

সে যাই হোক, আমি দেখছিলাম গতবছর নারী দিবসে জাতিসংঘের প্রতিপাদ্য- “Empowering woman, Empowering humanity” এটা কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে? নাকি প্রতিপাদ্য কেবলি পোষাকি ফ্যাশন? যেটা বছর বছর বদলাতে হয়? বিষয়টি বোঝার জন্য আমি টেস্ট কেস হিসাবে নিচ্ছি বাংলাদেশকে, যে দেশটি নারী ক্ষমতায়নের এক মডেল! যে দেশটির প্রধান দুই দলের, রাজনীতির হর্তাকর্তা নারী! যে দেশটির সংসদে সরকার এবং বিরোধীদলের প্রধান নারী, স্পিকার নারী, সংসদে শোভা বর্ধন করছে প্রায় ৬০ জন নারী!

এদেশের নারী ক্ষমতায়ন বিশেষত সরকারে, বিরোধীদলে এবং রাজনীতিতে শেখ হাসিনা, রওশন এরশাদ এবং খালেদা জিয়ার কথা বলতে এদেশের বুদ্ধিজীবিরা বুক ফুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু সে বুকে তারা এ কথাটি বলার সাহস রাখে না যে- তারা কেউই নারী ক্ষমতায়নে পলিটিশিয়ান নয় বরং তারা সবাই বাইচান্স পলিটিশিয়ান!

স্পিকার নারী বটে তবে তিনি কিন্তু প্রথমবার স্পিকার হয়েছিলেন সংসদে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসাবে! সংসদে প্রায় ৬০ জন নারী আছেন বটে তবে তার ৫০ জনই সংরক্ষিত অলংকার! এটাই নারী ক্ষমতায়নের সবচেয়ে আলোকিত দিকের অবস্থা! আর মানবতার উন্নয়ন? পত্রিকায় প্রতিদিন ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতনের চিত্র দেখলেই বোঝা যায় মানবতার কি অসীম উন্নয়ন!

অনেকেই এখন প্রশ্ন করতে পারেন- তাহলে নারী দিবসের প্রতিপাদ্য কি হতে পারে? উত্তর- সন্মানের আবহমান চেতনা। সাধারণত বাংলা ছবিতে ভিলেন নায়িকার দিকে হয়রানির হাত বাড়ালে নায়িকা ছোড়ে বিবেকের তীর- তোর ঘরে কি মা-বোন নাই?

অনুধাবন করুন, মা-বোন আমাদের সবারই সফটকর্নার। সন্মানের আবহমান চেতনাও। পরিবারের এ চেতনা আমাদের ছড়িয়ে দিতে হবে- পরিবার থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাষ্ট্র.. আর এটার জন্য নারী দিবসের প্রতিপাদ্য হতে পারে- “নারী: মা, বোন, কন্যার মুখছবি”।