ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

ধর্ষন যখন নিয়তি হয়ে যায়, তখন ধর্ষিতার কি ভূমিকা হওয়া উচিত? শক্তি ও সামর্থের অসহায়ত্বের বিপরীতে পাশবিক উল্লাসে যে ধর্ষিত হয়েছে ও হচ্ছে! শত চেষ্টা করেও ধর্ষন এড়ানো যায়নি এবং ভবিষ্যৎ এ যাবেনা বলেই কি, সে ধর্ষণকে কামনা ও উপভোগ করতে হবে! যে কামনা আর উপভোগের মানসিকতা ধর্ষিতার পরিচয় পরিবর্তন করে দিতে পারে যখন ধর্ষক, ধর্ষিতাকে বেশ্যা বলে তার অপরাধবোধ কমাতে পারে।

এ ছাড়াও ধর্ষক মহারাজ আরেকটি দায়মুক্তির সুযোগ নিতে পারে! আর তা হলো- ধর্ষিতা সন্তানসম্ভোবা হলে তার পিতৃত্বের দায়! বেশ্যার সন্তানের আবার পিতৃপরিচয় কি? তবে বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার যুগে এ দায় আর এড়ানো সম্ভব নয়(ডিএনএ টেস্ট)। তাই ধর্ষক এ ক্ষেত্রে আরেকটু কৌশলী হতে পারে এবং কনডম ব্যবহার করতে পারে! আশা করা যায় ধর্ষক কনডম ক্যারিশমায় দায় এবং দোষ মুক্ত থাকতে পারবে। কিন্তু ধর্ষিতা পারবে না ধর্ষন মুক্ত থাকতে, দুঃশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে!

তবে ধর্ষন নিয়ে ধর্ষিতা এখন আর চিন্তিত নয়! ধর্ষন অতীতেও ঘটেছে, এখনো ঘটছে এবং ভবিষ্যতেও এ ঘটবে!

২১ জানুয়ারী স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, সীমান্তে যা কিছু ঘটছে তা নিয়ে রাষ্ট্র চিন্তিত নয়। সব কাজ ফেলে রেখে শুধু এদিকে দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলেও সরকার মনে করে না। এসব অতীতে ঘটেছে, এখনো ঘটছে এবং ভবিষ্যতেও ঘটবে। এগুলো নিয়ে রাষ্ট্র খুব বেশি চিন্তিত নয়। (তথ্যসুত্র)





আমি ভাবছিলাম, যে সীমান্তে শুধু মাত্র গত এক মাসে বিএসএফ নির্মমভাবে হত্যা করেছে ৪ বাংলাদেশীকে। যেখানে ঝোঁলে ফেলানির লাশ। যে সীমান্ত পেরিয়ে আসা ফেন্সিডিলের মাদকতায় ধ্বংস হচ্ছে যুবসমাজ! সীমান্তের এ ঘটনাগুলো কি রাষ্ট্রের চিন্তা অযোগ্য সমস্যা?

কাঁটাতারের বেড়ায় ঘিরে ফেলে, স্বাধীন দেশের সীমানার মধ্যে পাখির মতো গুলি করে মারা হয় স্বাধীন দেশের মানুষ, এ শুধু হত্যা নয়…..এ ধর্ষন……স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে প্রতিনিয়ত উপর্যুপরি ধর্ষন!

তবে এ ধর্ষন নিয়ে সৈয়দ আশরাফরা চিন্তিত নয়! কারন ধর্ষন অতীতে হয়েছে, বর্তমানে হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে! ধর্ষন এড়ানো যাচ্ছে না বলে তারা আজ ধর্ষন উপভোগ করতে চাচ্ছে! ধর্ষকও বন্ধুত্বের কনডম পড়ে দায়বিহীন সঙ্গম করে যাচ্ছে…… তবে এ সঙ্গমে ধর্ষন অনুপস্থিত! অনুপস্থিত মানবতা, মানবিকতা, মানবাধিকার! কারন ধর্ষিতা যখন ধর্ষন নিয়ে চিন্তিত নয়, তখন সে আর ধর্ষিতা নয় বরং বেশ্যা!!!