ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

গত সপ্তাহে ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভি যখন বিএসএফ-এর অপকর্মের ভিডিওটি প্রকাশ করলো, একজন বাংলাদেশীকে উলঙ্গ করতে দেখে ভাবছিলাম, কিভাবে সীমান্তে বাংলাদেশকে প্রতিনিয়ত উলঙ্গ করা হচ্ছে! ফেলানির রক্তের দাগ এখনো মোছেনি, জল্লাদের শানিত অস্ত্র রক্তের দাগ ও ক্ষত টাটকা রাখছে প্রতিনিয়ত! সেলিমকে যখন বর্বরতায় বিবস্ত্র করে পেট্রোল ঢেলে দেয়া হলো, যে পেট্রোলে আগুন জ্বলে উঠলো এ দেশের মানুষের মনে, ব্লগে, ফেসবুকে………জ্বালানী পেলো ভারত বিরোধী মনোভাব।

এর মধ্যেই ফেসবুকে উঠে আসলো আরো দুটি ভয়াবহ ছবি। এক ব্যাক্তির গাছের সাথে বাধা বিভৎস ছবি এবং এক নারীর মৃতদেহ বাঁশে করে ঝুলিয়ে নেবার অমানবিক ছবি, প্রচার করা হলো বিএসএফ কতৃক বাংলাদেশী নির্যাতনের ছবি হিসাবে।

কিন্তু পরক্ষনে প্রমান সহ দেখা গেলো, ছবি দুটিতে সত্যের সাথে মিথ্যা মেশানো হয়েছে। প্রথম ছবিটি বরগুনার এক ডাকাতের প্রতি গ্রামবাসীর নিষ্ঠুরতা, বিএসএফের নয়। দিত্বীয় ছবিটি মাওবাদী নারী গরিলার মৃতদেহ, বাংলাদেশীর নয়। যদিও বিএসএফকে সেভ করার জন্য প্রমান দুটি হাজির করা হয়েছে, তবে লক্ষ্যনীয় দিত্বীয় ছবিটি বিএসএফ-এর বর্বরতার প্রমান।

এখন প্রশ্ন হলো, ছবি নিয়ে মিথ্যাচার কারা কি উদ্দেশ্য প্রকাশ বা প্রচার করলো? এবং এর ফলাফল কি দাড়ালো? এর সম্ভাব্য দুটি কারন ও ফলাফল হতে পারে,

এক. ছবি দুটি দিয়ে ভারতবিরোধী মনোভাবকে উষ্কে দেবার চেষ্টা করা হতে পারে!
ফলাফল– এ চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে কারন প্রমান হয়েছে ছবি দুটি মিথ্যা এবং ভারত মিথ্যাচারের শিকার হচ্ছে।

দুই. সেলিম ঘটনায় ক্ষুন্ন ভারতীয় ইমেজ পূনপ্রতিষ্ঠার জন্য এটা করা হতে পারে! এবং সে উদ্দেশ্যের ধারাক্রম হতে পারে-
. ভারত বিরোধী মনোভাবের বেলুনকে আরো ফুলিয়ে ফেলা এবং পরক্ষনেই দুটি ছবির প্রমান পিনের খোঁচায় বেলুনটি চুপসে ফেলা।
. ভারত নির্যাতক নয় বরং ভারতই তথ্য সন্ত্রাসের স্বীকার হিসাবে পরিস্থিতি তুলে ধরা।
. একটি বিশেষ মহল বাংলাদেশে ভারত বিরোধী মিথ্যা মনোভাব তৈরি করছে, একথায় ফেলানী, সেলিম সহ সকল নির্যাতনের ঘটনাকে হালকা করে ফেলা।
ফলাফল– এ চেষ্টা সফল হয়েছে, এবং ভারত তথ্য সন্ত্রাসের স্বীকার হচ্ছে বলে প্রমান হয়েছে!

লক্ষণীয়, সম্ভাব্য দুটি ফলাফলেই পরিস্থিতির সুবিধাভোগী হয়েছে ভারত!!!

প্রিয় পাঠক, আপনারা এ বিষয়গুলো মূল্যায়ন করতে পারেন। এবং এ মূল্যায়নের পূর্বে বিবেচনায় রাখতে পারেন-

এক. ফেলানীর ঝুলন্ত লাশ কোন উদ্দেশ্য প্রনোদিত ছবি নয় বরং সত্য।
দুই. সেলিমের বস্ত্রহরন কোন মহাকাব্যিক শুটিং নয় বরং বাস্তব বর্বরতা।
তিন. সীমান্তে পাখির মতো গুলি করে মানুষ মারাও সত্য।
আমি আশা করছি, এ মূল্যায়নের ফল এই লেখার মন্তব্যের ঘরে পাবো………

যদিও এ বিষয়ক একটি মূল্যায়ন ইতিমধ্যেই আমরা পেয়েছি। যে মূল্যায়ন বিডি ব্লগ ফিচার পোস্ট করেছে….’জামাতের নতুন কৌশল‘ শিরোনামে এসব অপপ্রচারের জন্য জামাতকে দায়ি করা হয়েছে। আমি মনে করি, লেখকের এ আশংকা অমূলক নয়। জামাত এখন যতটা কোনঠোসা পর্যায়ে রয়েছে, তারা জানে না আগামী দুই বছর(হয়তো আরো বেশী সময়) তাদের ভাগ্যে কি অপেক্ষা করছে? তারা জানেনা, তাদের কারা বন্দি নেতা এবং দলের ভবিষৎ কি? এমন বিপর্যস্হ ও আহত দলের পক্ষে এটা করা অসম্ভব কিছুই নয়! যদিও এ সম্ভবনা ধারনা নির্ভর, প্রমান নির্ভর নয়!!!

তবে পোষ্টের লেখকের লেখনি, বিষয়বস্তু এবং ব্লগ কর্তৃপক্ষের মনোভাব আমাকে হতাশ করেছে! লেখাটি স্বাধীনতাকামি নয় বরং ছিলো পরাধীন দাসত্বের…….।

লেখক লিখেছে-

এখন আবার সামনে এনেছে ফেলানিকে আর সদ্য ভারতীয় মিডিয়ার প্রকাশিত একটি ভিডিও চিত্রকে।

তবেকি লেখক ফেলানিকে আর সদ্য ভারতীয় মিডিয়ার প্রকাশিত একটি ভিডিও চিত্রকে অন্ধকারে দেখলেই বেশী খুশি হতেন???

লেখক বলেছে-

এটাও বুঝতে হবে আমাদের স্মাগলার রাই এভাবে মরছে , কোন সাধারণ মানুষ কোমই মরে!

লেখক ভাষায় যারা স্মাগলার তারা কিন্তু এ দেশেরই সন্তান। তাদের অপরাধ হলে সিমান্ত রক্ষীরা গ্রেফতার করে পুলিশের হাতে তুলে দেবে এটাই জানি, কিন্তু তারা নির্যাতন করেবে, গোপনাঙ্গে পেট্রোল ঢেলে দেবে, এটা কেমন কথা? এটা কি সমর্থন যোগ্য?

লেখক এ ঘটনাকে রাজনৈতিক রং চরিয়ে বলেছে-

আর এসব ঘটনা কি বিএনপি জামাত সময়ে ঘটেনি ? আজ যেভাবে প্রতিবাদে নেমেছে তখন কেন তারা প্রতিবাদ করতে পারেনি?

অন্যায় সব সময়ই অন্যায়, অথচ লেখা পড়লে মনে হয়, বিএনপি জামাত সময়ে কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ না করলেই সে কখনোই প্রতিবাদ করতে পারবে না! তখন প্রতিবাদ না করা সেই ব্যাক্তির নৈতিকতা দূর্বল প্রমান হতে পারে কিন্তু সে প্রতিবাদ করার অধিকার হারাতে পারে না।

তবে লেখকের যে কথাটিতে আমি সবচেয়ে আশ্চর্য হয়েছি

ভারতীয় বর্ডার একদিন বন্ধ থাকলে পিঁয়াজের দাম আকাশ ছোঁয়া হয়ে যায় , ভারতীয় গরু না আসলে ৭০% মানুষ কুরবানী দিতে পারবেনা । ভারতীয় চাল, ডাল , চিনি আমাদের দেশের পন্য দাম স্থিতিশীল রাখে । যদি ভারতীয় পন্য বর্জন করি তবে দেশের প্রয়োজন মিটবে কি ?? আমাদের আমদানি নির্ভর দেশের মত দেশে কি ভারতের পন্য ছাড়া কোন উপায় আছে ?

এমন কথা কি করে একজন স্বাধীন দেশের নাগরিক বলতে পারে?? তাদের বোঝা উচিত এ দেশটা কারো করুনার দান নয় বরং লখো শহীদের রক্তে গড়া। আর ভারত থেকে আমরা যা আমদানি করি তা ভারতের সাহায্য হিসাবে নেই না, এখানে ক্রেতা-বিক্রেতার বিষয়, প্রভু আর দাসের নয়! আমরা কৃতজ্ঞতায় বন্ধুত্বে বাধা পড়তে পারি গোলামিতে নয়।
অথচ কি আশ্চর্যভাবে, নির্লজ্জ ভাবে অনেকে গোলামি করতে চাচ্ছে, গোলামি করে যাচ্ছে……..

কিন্তু বিডি ব্লগ, যার মডারেশন প্রক্রিয়া নিয়ে আমি উচ্চ ধারনা প্রসন করি, তারা কিভাবে এমন একটি লেখাকে ফিচার পোস্ট করে!!!! আমি বিস্মিত!!! আমি হতবাক!!!
আমি উক্ত পোস্টকে ফিচার থেকে অবিলম্বে নামালোর দাবি জানাচ্ছি, এবং ব্লগ কর্তৃপক্ষকে এ সকল বিষয়ে আরো সচেতন হবার পরামর্শ দিচ্ছি।