ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

যখন রাজপথে বিরোধী দলের ওপর পুলিশকে লাঠি হাতে হিংস্র হতে দেখি- তখন পুলিশকে আমি দোষ দিতে পারি না! তারাতো হুকুমের গোলাম। আমি ভাবি সেই বিখ্যাত গান-

তুমি যেমনে নাচাও তেমনে নাচি, পুতুলের কি দোষ!

পুলিশতো রাজপথে লাঠি ব্যবহার করে না! বরং নিজেই ক্ষমতাশীনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার হয়!!!
কিন্তু পুলিশকে যখন দেখি- রাজপথে কোন শ্রদ্ধেয় শিক্ষককে, পেশাগত দায়িক্ত পালনকালে কোন সাংবাদিককে পেটাতে, তখন মনে হয়-সামাজিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীটি, রাজনৈতিক ব্যবহারের বাহিরেও কতটা অসামাজিক!

ইতিমধ্যেই অবশ্য সাংবাদিক নির্যাতনকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এতে হয়তো উত্তেজনার পারদে সাময়িক মলম দেয়া হচ্ছে কিন্তু এতে পুলিশের গুনগত পরিবর্তন আসবে কি?
আমি ভাবছিলাম- পুলিশের এ দানবির রুপের দোষটা পুলিশের, কিন্তু দায়টা কি ক্ষমতাশীনদের ওপর বর্তায় না!!!

পুলিশে নিয়োগ কারা পাচ্ছে?

পুলিশের কর্মকান্ড কি প্রমান করেনা যে তাদের ট্রেনিং ত্রুটিপূর্ণ?
পুলিশের রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রমোশন কি তাদের পেশাদারিত্ব নষ্ট করছে না?
রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহারে বাঘব-বোয়াল নেতাদের পিটিয়ে পুলিশ কি এক দানবিয় আত্ববিশ্বাস অর্জন করছে না?
এ সকল দায় কি বিভিন্ন সময়ের ক্ষমতাশীন প্রভুরা এড়াতে পারেন???

শুনেছি, চারদলের সময় এসআই নিয়োগ বানিজ্যে পাঁচ লক্ষ রেট ছিলো ওপেন সিক্রেট! মহাজোট সরকারের সময় নাকি তা আট লক্ষে পৌছেছে! এছাড়াও আছে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ! এমন নিয়োগে পুলিশের কাছ থেকে আমরা আর কিইবা আশা করতে পারি?
যখন সাংবাদিক পিটিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বলে- “হট টক হইছে, বোঝেনইতো মেজাজ কন্ট্রোলে ছিলো না….”। যখন পিতৃসম শিক্ষককে কলার ধরে পেটায় পুলিশ। তখন প্রশ্ন জাগে- পুলিশের ট্রেনিয়ে কি শেখানো হয়? যে কোন পরিস্থিতিতে নিজেকে কন্ট্রোল করার কিম্বা রাষ্ট্রের সন্মানিত নাগরিকদের সন্মান দেখানোর শিক্ষা কি তাদের দেয়া হয় না?

কিছুদিন আগেও দেখলাম- বিরোধী দলের চিপ হুইপকে পেটানোর জন্য নির্যাতনকারী পুলিশ কর্মকর্তার প্রমোশন হয়েছে! এছাড়াও রাজনৈতিক বিবেচনায় বিভিন্ন সময় জুনিয়রদের প্রমোশন দেয়া হচ্ছে, তা কি পুলিশের পেশাদারিত্বকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে না?
সবচেয়ে বড় কথা, যে পুলিশ সাবেক সরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিমকে রাজপথে পেটায়! সংসদভবনের সামনে বিরোধী দলের চিপ হুইপকে পেটায়! এমনকি ক্ষমতাশীন দলের পদত্যাগকারী প্রতিমন্ত্রীর ভাগ্নেকে পেটায়!
সে পুলিশের কাছে শিক্ষক, সাংবাদিক পেটানো তো ডাল ভাত! ক্ষমতাশীনদের রাজনৈতিক সার্থে পুলিশকে ব্যবহার করাইতো পুলিশকে দিচ্ছে এ দানবিয় আত্ববিশ্বাস।
আর এ দানবিয় আত্ববিশ্বাস যখন অপরাধের জন্ম দিচ্ছে, তখন শুধু দোষীর কর্মকর্তার বরখাস্তই যথেষ্ঠ নয়। পাশাপাশি প্রয়োজন ক্ষমতাশীনদের বোধদ্বয়, সদিচ্ছা এবং আন্তরিক প্রচেষ্টা।