ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

দেশের আইনশৃংখলা সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। সন্ত্রাসীদের ছিনতাই, অপহরণ, গুম, হত্যার পাশাপাশি মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসাবে দেখা দিয়েছে পুলিশি নির্যাতন!
যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথেই বলছেন-

দেশের আইনশৃংখলা অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় ভালো এবং পুলিশ আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে!

কিন্তু সাধারন মানুষ মাত্রই টের পাচ্ছে- অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে সমাজ এখন অনেক বেশী শৃঙ্খলাহীন, নিরাপত্তাহীন।এ বিষয়ে আমরা চোখ বুলাতে পারি গত ক’দিনের পত্রিকার প্রথম পাতার শিরোনামে-

৩১শে মেপুলিশের বাড়াবাড়িতে বিপর্যস্থ আইনশৃংখলা পরিস্থিতি।-যুগান্তর

ব্যবসায়ীকে খুনির হাতে তুলে দিলো পুলিশ।-প্রথম আলো

৩০শে মেআদালত চত্বরে পুলিশি নিষ্ঠুরতা, মেয়ের শ্লীলতাহানি মা বাবা লাঠিপেটা।-প্রথম আলো

আকস্মিক সাংবাদিক পেটাও অভিযান ॥ কেন?দৈনিক জনকন্ঠ

২৯শে মেবিডি নিউজের সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা।প্রথম আলো

২৭শে মেতিন সাংবাদিককে রাস্তায় ফেলে পেটালো পুলিশ।-দৈনিক ইত্তেফাক

লক্ষ্যনীয়, অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় আশঙ্কাজনকভাবেই পুলিশ পেশাগত নিয়ন্ত্রন হারিয়েছে এবং সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাও বেড়েছে। সাগর-রুনি খুন হলো বেডরুমে! প্রথম আলোর সাংবাদিক নির্যাতন হলো রাজপথে! বিডি নিউজের সাংবাদিকেরা আক্রান্ত হলো তাদের অফিসে! সাংবাদিকেরা মার খেল আদালত পাড়ায়! অর্থ্যাৎ, বেডরুম-রাজপথ-অফিস-আদালত পাড়া সব জায়গায় সাংবাদিকেরা নির্যাতিত হচ্ছে! এখন প্রশ্ন আসতে পারে- হঠাৎ সাংবাদিক নির্যাতনের এ মহোৎসব কেন?
উত্তর- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়! সাংবাদিকেরাই কি শুধু নিরাপত্তাহীন? নির্যাতিত কি শুধুই সাংবাদিকেরাই?

না….সমান্তরালে নির্যাতিত হচ্ছে, আদালত পাড়ায় বিচার প্রার্থী তরুনী! নির্যাতিত হচ্ছে বেতন-ভাতার দাবীতে হাড্ডিসার প্রাইমারি শিক্ষক! নির্যাতিত হচ্ছে কলেজগামী ছাত্র, বুড়ো রিক্সাওয়ালা, তরুণী গার্মেন্টসকর্মী, অফিস ফেরত কর্মচারী, আদালত চত্তরে আইনজীবি, বিরোধী রাজনৈতিক সমর্থক!

নির্যাতিত হচ্ছে নোবেল জয়ী ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান!

নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবার থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাষ্ট্র! সাংবাদিকেরা তো এ সমাজেরই অংশ। তাই সাংবাদিক নির্যাতন শুধু সাংবাদিক নির্যাতন নয় বরং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার একটি রুপ। এ দেবালয়ের আগুন শুধু পাপিষ্ঠের কাজ নয় বরং জ্বলতে থাকা পুরো নগরের একটি স্ফুলিঙ্গ। এখন আগুন নেভানো এবং দেবালয়কে সুরক্ষিত করাই সংগত। কিন্তু এ সুরক্ষা নিশ্চিত হবে নগরের আগুন নিভলেই।

আমি জানি, অসি আর মসির লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মসিই জিতবে। বন্ধ হবে সাংবাদিক নির্যাতন। তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনও হবে নিরাপদ। আর এ নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে প্রয়োজন, সামাজিক নিরাপত্তা।
তাই সাংবাদিকদের লড়তে হবে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য, সমাজের নিরাপত্তার জন্য। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা তাদের(সাংবাদিকদের) প্রয়োজন। আর সমাজের নিরাপত্তা তাদের দায়, তাদের নিরাপত্তার রক্ষাকবজ।