ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

আমি আসাদুজজেমান। একজন সামান্য ব্লগার।
দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ব্লগে লিখে থাকি।
গতকাল ০২.০৬.১২ ইং রোজ-শনিবার , বিভিন্ন নিউজ সাইটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি মন্তব্য আমার বেদনার্ত মনযোগ আকর্ষন করেছে! শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কুড়িগ্রামের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন–

“মিডিয়া এখন স্বাধীন। প্রতিদিন সরকারের বিরুদ্ধে না লিখলে অনেকের পেটের ভাত হজম হয় না।” সরকার ভালোভাবেই দেশ পরিচালনা করছে। কিন্তু তা অনেকের ‘সহ্য’ হচ্ছে না।

তথ্যসুত্র১ এবং তথ্যসুত্র২

প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য আমার লেখকসত্তাকে আহত করেছে। এ বক্তব্য, সাগর-রুনি হত্যাকান্ড, রাজপথের বেহাল দশা, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের পথে বসা, পুলিশি তান্ডব সহ বিভিন্ন অপকর্ম সম্পর্কে যৌক্তিক সমালোচনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিবেকের তাড়নায় লেখা বিভিন্ন লেখার লেখককে হা হুতাশকারী বলে লেখকসত্তাকে ছোট করেছে।
আমি মনে করি, সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডের ব্যর্থতার বিপরীতে কিছু লিখলে তা হয়তো সরকারের বিরুদ্ধে যেতে পারে কিন্তু তা কখনোই হা হুতাস হতে পারে না।
ব্যর্থতার সমালোচনা হজম না হওয়া পেট থেকে আসে না বরং বিবেক থেকে আসে। যে বিবেক প্রতিনিয়ত বলে-

সাগর-রুনির হত্যাকান্ডের নিন্দা, হা হুতাস নয় বরং হৃদয়ের রক্তক্ষরন।
শেয়ার বাজারে পুজি হারানো ক্ষোভ, সরকারের বিরুদ্ধাচারন নয় বরং বিনিয়োগকারীদের অস্তিত্বের লড়াই।
আদালতপাড়ায় তরুনির শ্লীলতাহানির নিন্দা, পেটের ভাত হজম নয় বরং নির্লজ্জতার বদহজম।
সাংবাদিক ও সাধারন নাগরিকদের ওপর পুলিশের দানবিয় আচরন, দেশ ভালো ভাবে চলার লক্ষন নয়! এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে বিরুদ্ধে না লিখে সরকারের প্রশংসা করা শুধু গৃহপালিতদের পক্ষেই সম্ভব।

একজন লেখক হিসাবে গৃহপালিত না হওয়ায় এবং বিবেকের তাড়নায় বিভিন্ন অপকর্মের সমালোচনা করায়, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আমি শংকিত! এবং আমার লেখক সত্তা প্রশ্নবিদ্ধ!

আমি রাষ্ট্রের কাছে আমার এবং আমার অতিত ও বর্তমানের সকল লেখার নিরাপত্তা দাবী করছি। যে লেখাগুলো আমার হা হুতাস ছিলো না। ভাত হজম করার হজমীও ছিলো না। যে লেখাগুলো ছিলো আমার বিবেকের দংশন ও তাড়নার।

-আসাদুজজেমান
ব্লগার
তাং-০৩/০৬/২০১২ইং