ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 

“সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য” প্রদানের অঙ্গীকার আর অবাধ তথ্য প্রবাহের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তথা জনগনের ক্ষমতায়ন এর এক উচ্চাভিলাষী স্বপ্ন নিয়ে ই-সেবা কেন্দ্রের প্রকল্প শুরু। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিচালিত ‘এ টু আই’ প্রোগ্রামের অন্যতম প্রধান প্রকল্প ই-সেবা কেন্দ্র। গ্রামীন জনগোষ্ঠীর কাছে সঠিক তথ্যের সহজলভ্যতা ও ইলেকট্রনিক সেবা (তথা ডিজিটাল সেবা) নিশ্চিত করতে ‘ই-সেবা কেন্দ্র’ ধারনার সৃষ্টি যার এক বিশেষায়িত রুপ ‘ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার’। ২০০৯ শালে পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে শুরু এই প্রকল্প। এবং আনুষ্ঠানিকতা লাভ করে ২০১০ শালের নভেম্বর মাসে ‘ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার’। ইউএনডিপি এর প্রত্যক্ষ অর্থায়নে ও এ টু আই’ প্রোগ্রামের নির্দেশনা অনুযায়ী চলছে এর প্রকল্প। গুনগত মান ও পরিমানগত অগ্রগতি অনুধাবনের জন্য ২০১৪ এক জনজরিপের মধ্যদিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অন্যতম সফল প্রকল্প হিসাবে চিহ্নিত করা হয় ‘ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার’ বা ইউডিসি-কে। জনজরিপের পরিছালিত হয় সরকারী প্রতিস্থান “পরিসংখ্যান ব্যুরো” এর অধীনে।

‘এ টু আই’ প্রোগ্রামের অন্যান্য প্রকল্পগুলো যেখানে অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার বেড়াজালে আটকে আছে বা যাচ্ছে, সেখানে ভিন্নমাত্রার উদাহরণ হিসাবে ইউডিসি উপস্থাপন করা যায়। ইউডিসির সাফল্য পিছনে যেসব নিয়ামক আছে তাদের মাঝে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপ প্রধান। বুননগত নির্দেশনা থেকে একটি ইউডিসি বা তথ্যকেন্দ্র প্রতিস্থিত হবে একজন পুরুষ এবং একজন নারীর নেত্বতে। জেন্ডার সাইকোলজি ও জেন্ডার পলিটিক্সকে চিন্তায় রেখে উদ্যোক্তা হিসাবে নারীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা ছিল অন্যতম দূরদর্শী সিদ্ধান্ত।

নারীর ক্ষমতায়নের জন্য যেমন প্রয়োজন তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষমতা ঠিক তেমনি ভাবে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা প্রয়োজন। ইউডিসিতে নারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করছে

১। উদ্যোগতা নারী নিজে জানে কিভাবে ব্যবসার প্রসারন ঘটান সম্ভব। মূলত সরকারী উদ্যোগে নারীদের (যারা কিনা ইউডিসির স্থাপন আগ্রহী) তাদের বিশেষ কিছু প্রশিক্ষন দেয়া হয়।
২। যে বা যারা সঠিক তথ্য দিতে পারে তাদের আছে বিশেষ সামাজিক মর্যাদা, এই বিষয়টিকে মাথায় রেখে নারীদের সামাজিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করার লক্ষে নারীদেরকে যুক্ত করা হয়েছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের সাথে।
৩। যেহেতু গ্রামীন জনগোষ্ঠীর মাঝে নারীরা এখনও অনেক বিষয়েই পুরুষের সাথে কাজ করতে সাচ্ছন্দ পান না (যেমন কোন পুরুষের সামনে ওয়েব ক্যামে স্বামীর সাথে কথা বলা), সেই সমস্যার পরোক্ষ সমাধানের জন্য নারীদেরকে যুক্ত করা হয়েছে।

সাদা চোখে দেখলে বেশ ভালই লাগে। একদিকে তথ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরন অন্য দিকে জেন্ডার ব্যালান্স , এক কথাতে উন্নয়নের জন্য ভালো উদ্যোগ। কিন্তু কিছু কথা না ভাবলেই নয়। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার কে বেশ কিছু সরকারি কাগজপত্রে বলা হচ্ছে ইউনিয়ন ইনফর্মেশন অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টার (ইউ আই এস সি)। তা যে নামেই বলা হোক না কেন , আমজনতার উপকারে আসলেই ভালো।

২০১৩-১৪ সালের পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে পরিচালিত জনসমীক্ষা থেকে বলা হচ্ছে ৪৫৪৭টি ইউআইএসসি এর মাঝে ৪৪৯২টি চালু আছে। এই সমীক্ষার ফলাফল ভালো হলেও আছে অনেক কিছুর অভাবের চিত্র,

ক। দেশের বিষেশ করে গ্রামাঞ্চলের যেখানে এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরিবিচ্ছিন্ন নয়, সেখানে ১৬% ইউআইএসসি আছে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। (যার বেশীরভাগই প্রাইভেট ভাবে স্থাপন করা)। সরকারী উদ্যোগ কী তবে দুটি কক্ষ দেয়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ ? ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নিজের উন্নয়নের জন্যও তো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা যেতে পারে।

খ। বছর কয়েক আগে সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কিছু ল্যাপটপ উৎপাদনের প্রকল্প নিয়েছিল। একই রকম ভাবে যদি কিছু ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ উৎপাদনে সরকারী উদ্যোগ নেয়া হয় তাহলে ইউআইএসসি স্থাপনার খরচ বেশ কমে যাবে আসা করা যায়।

গ। ইন্টারনেটের মান নিয়ে এখনো প্রশ্ন করার আছে জায়গা আছে। এখনো অনেক ইউআইএসসি চলে মোবাইল নেটওয়ার্কের ইন্টারনেট এর উপর ভিত্তি করে, যেই মোবাইল নেটওয়ার্কগুল বেসরকারি । ফলে অনেক ক্ষেত্রে খরচ বেশ বেশী। সরকারের নিজের একটি ল্যান্ডফোন নেটওয়ার্ক ও একটি মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকার পরে ইন্টারনেট খরচ বেশ কমানো সম্ভব। যেমন ল্যান্ড ফোন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এসডিএলসি লাইনের মাধ্যমে বা মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে বিশেষ বান্ডেল প্যাকেজ দিয়ে ইন্টারনেট খরচ কমানো সম্ভব। তাছাড়া সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে যে নেটওয়ার্ক টেকনোলজি আছে তা দিয়ে ওয়ারলেস লোকাল লুপ সৃষ্টি করে খরচ কমানো সম্ভব।

ঘ। সরকারী অন্যান্য অনেক কাজে যেমন সিটিজেন জার্নাল আছে, ইউআইএসসি এর জন্য এখন পর্যন্ত কোন সিটিজেন জার্নাল নেই। নেই কোন নীতিমালা যা নির্ধারণ করবে সেবা প্রদানের মান (কাকে কোন সেবা কত সময়ের মাঝে দেয়া হবে)।

ঙ। আইন প্রয়গকারি সংস্থার সাথে ইউআইএসসি এর সরাসরি মিথস্ক্রিয়ার সু্যোগ থাকলেও তার উপস্থিতি নেই। যেমন অনলাইন জিডি এর ব্যবহার নেই বললেই চলে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের মাইল ফলক ছুতে হলে যেমন নিতে হবে বেশ কিছ বড় পদক্ষেপম ঠিক সেভাবেই পরিচর্যা করতে হবে ছোট-ছোট কিছু বিষয়ের।

মূল লেখাঃ