ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 

আমরা বাঙ্গালীরা আজ অনেকেই লিনাক্স এর নাম জানি, বা লিনাক্স ভিত্তিক বিভিন্ন ওপারেটিং সিস্টেম চালিয়ে দেখেছি, অন্তত এন্ড্রোয়েডের নাম আমরা প্রায় সকলেই জানি। এই এন্ড্রোয়েড ও একটি লিনাক্স ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম। লিনাক্স কি তা নিয়ে আরেক দিন লিখব। আপাতত আমজনতাদের জন্য বলছি লিনাক্স একটি কার্নেলের নাম, এখন প্রশ্ন আসতে পারে কার্নেল কি? কার্নেল হল একটি ওপারেটিং সিস্টেমের প্রান। যেমন প্রতেকটা মানুষের থাকে, প্রান বিহীন একটি যমন একটি মৃত মানুষ ঠিক তেমনি কার্নেল ছাড়া একটি অপারেটিং সিস্টেম চিন্তা করা যায় না। অনেক কথা বলে ফেললাম। আসল প্রসঙ্গে আসি। এখন যে উন্মাদের জীবনী নিয়ে কথা বলব তিনি হলেন এই লিনাক্সের উদ্ভাবক বা জন্মদাতা। আসুন তার সম্পর্কে কিছুটা জানি

নাম: লিনুস বেনেদিক্‌ত তোরভাল্দ্‌স
জন্মস্থল: হেলসিঙ্কি, ফিনল্যান্ড
জন্মতারিখ : ডিসেম্বর ২৮, ১৯৬৯

নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন রসায়নবিদ লিনুস পলিং-এর নামে তোরভাল্দ্‌স-এর নামকরণ করা হয়, যদিও তার বই: Rebel Code: Linux and the Open Source Revolution-এ, তোরভাল্দ্‌স এভাবেই উদ্ধৃতি দেন যেমনটা তিনি বলেন, আমি মনে করি আমার নামকরণ করা হয়েছে কার্টুন ক্যারেক্টার লিনুস এর নামে, যা তাকে একইসাথে “নোবেল বিজয়ী রসায়নবিদ” এবং “কার্টুন চরিত্র” বানিয়েছে।

কেন তাকে উন্মাদ বলা হল

আমদের আজকে অনেকেই ওপেন সোর্স আন্দোলন নিয়ে লাফালাফি করি। এই ওপেন সোর্স আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করা যার সংকেত বা সোর্স কোড সকল ব্যবহারকারীর নিকট উন্মুক্ত থাকবে। যে কেউ নিজের প্রয়োজনে তা পরিবর্তন করতে পারবে। কিন্তু মুক্ত অপারেটিং সিস্টেমের জন্য প্রয়োজন ছিল একটি মুক্ত কার্নেল এবং আরও কিছু সফওয়্যার। অন্যন্য অনেক সফটওয়্যার তখন তৈরি করা হলেও একটি স্থ্যায়ী কার্লেন GNU সংগঠন তখনও করতে পারে নাই। তাই এই আন্দোলন অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছিল। ঠিক সেই সময়ে লিনুস তোরভাল্দ্‌স তার লেখা কার্নেল রি GNU লাইসেন্সে এ দিয়ে দেয়। এতে যে সুবিধা হয় তাহলে কার্নেলটি সকলের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়, এবং অনেকেই এটি ব্যবহার করে নতুন নতুন অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করতে থাকে। এখন আসি লিনাক্সের জন্ম নিয়ে।

১৯৯১ সালে তিনি যখন তার নিজের একটি কম্পিউটার পান তখন সেই কম্পিউটারের সাথে থাকা অপারেটিং সিস্টেম টি তার কম্পিউটারের ক্ষমতার সম্পূর্ন ব্যবহার করতে পারত না। এতে তিনি সন্তুষ্ট হলেন না। তখন তিনি চিন্তা করতে লাগলেন যে নিজের একটি অপারেটিং সিস্টেম এর কথা। আর একটি অপারেটিং সিস্টেমের জন্য প্রয়োজন কার্নেল। তিনি একটি কার্নেল লিখতে বসলেন। আর কার্লেন লেখার জন্য ব্যবহার করলেন আরেক উন্মাদের তৈরি GCC বা GNU C Compiler। যা রিচার্ড স্টলম্যান GNU অপারেটিল সিস্টেম তৈরি করার জন্য বানিয়েছিলেন। এই কার্নেল লেখার জন্য তিনি ব্যবহার করেন MINIX একটি কার্নেলের সোর্স, যা একজন ছাত্রের জন্য ফ্রি ছিল কিন্তু এটির জন্য একটি বই তাকে কিনতে হয়েছিল। সে যাই হোক তার শখের বসে করা কার্নেল তৈরি করা হল তিনি পৃথীবির সকল ডেভলপার কে বললেন যে আমি এটি কোন বানিজ্যিক উদ্দেশ্য নিয়ে নয়, শখের বসে করা। এটি সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দিলাম। আপনারা আপনাদের মতন এটি উন্নত করতে থাকেন। কিছু দিনের মধ্যেই তার কাছে তার তৈরি কার্নেলের বিভিন্ন উন্নত অংশ আসতে থাকে, শুরু হয় ডিজিটাল জগতের এক অন্য অধ্যায়।

এই লোকটি ইচ্ছা করলেই তার তৈরি করা কার্লেন মানবতার খাতিরে ফ্রি না করে তা অন্যান্য কার্নেলের মতন বিক্রয় করতে পারত, এতে কি হত তা আপনি কল্পনাও করতে পারেন না, আজকে আমরা যে সকল ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস চালাচ্ছি তার যে ভিতরের সফটওয়্যারটি চলছে তার বেশির ভাগই এই লিনাক্স কার্নেল কে মডিফাই করে করা। চিন্তা করে দেখেন আপনি যে ডিভাইসটি আজ যে দামে কিনছেন তা হয়ত আরও বেশি দাম দিয়ে কিনতে হত যদি ঐ উন্মাদ লোকটি লিনাক্স কে ফ্রি না করত। যেমন কিনতে হয় উন্নত বিশ্বের মানুষদের। তাদেরকে একটি কম্পিউটার কিনলে উইন্ডোজ নামক একটি অপারেটিং সিস্টেম কিনতে বাধ্য করা হয়। সেই দিন আর দুরে নাই যেই দিন আমাদের দেশেও এটি করা হবে। আর একটি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের মূল্য ৩০-৫০ টাকা নয়। হাজার হাজার টাকা।

একটু ভেবে দেখেন, আমরা জন্ম নেই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে, আবার বিলাশিতা বলেন আর প্রয়োজন বলেন যে কারনেই হোক দেশের টাকা বিদেশে দিয়ে দিচ্ছি। কাজটি আমাদের জন্য উচিৎ হচ্ছে বলে আপনি মনে করেন। যে উদ্দেশ্যে লিনুস তার কার্নেলটি মানব সেবার জন্য ফ্রি করে দিল আমরা সেই সুবিধাটি গ্রহন না করে কি করছি, চকচক দেখে (উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম) চুরি করে হলেও সেই চকচকটি নিয়েই আছি। চুরির কথা যখন বলেই দিলাম তাই আরও একটু বলি, আমরা যারা বাজার থেকে কম্পিউটার কিনি তখন দোকানি আপনার কম্পিউটারে এক ঝাক সফটওয়্যার লোড করে দেয়। আপনি কি জানেন সেই সফটওয়্যারের মূল্য আপনরা কেনা কম্পিউটারের মূল্যের চেয়ে বেশি, আপনি কি সেই সফটওয়্যারের দাম পোরিশেধ করেন, করেন না। এটি কেই আমি চুরি বলছি। নিজের না নিজের ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা চিন্তা করে এই চুরি বন্ধ করা আমাদের দায়িত্ব।

আসুন আমরাও সেই উন্মাদ ব্যক্তিদের পথে হাটি, কোন কিছু তৈরি করতে না পারলেও তাদের তৈরি করা জিনিশ ব্যবহার করে তাদের এই দানকে সফল করে তুলি।

এর পরের পর্বে যার সম্মন্ধে লেখার ইচ্ছা আছে, তিনি শুধু মেধা নন তার জীবনের সকল কামাই মানবতার খাতিরে দিয়ে দিয়েছেন। আমার লেখা খুব বেশি ভাল নয় তাও কিছু মন্তব্য করলে খুশি হব।