ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 

আপনি যদি রাতারাতি ৫৭৫ মিলিয়ন ডলারের মালিক হয় তাহলে কি করবেন? মাথায় নিশ্চই অনেক কিছু খেলছে? যে এটা করব ওটা করব, কি কি কেনা যায় তাও মনে হয় লিস্ট করে ফেলেছেন। আজকে এমন এক উন্মাদের কথা বলব যে তার আয়ের প্রায় পুরোটাই দিয়ে দিয়েছেন মানবের কল্যাণে। তার নাম মার্ক শাটলওয়ার্থ। তিনি ৫৭৫ মিলিয়ন ডলার আয়ের ৫৫০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে দেন এক উন্মাদের তৈরি একটি জিনিশ কে মানবতার কল্যানে কাজে লাগানোর জন্য। জ্বি হ্যাঁ আপনি ভুল শুনেন নাই ৫৫০ মিলিয়ন ডলার। আপনি আমি হলে কি করতাম একটু চিন্তা করেন। আর এই ব্যক্তি করি করেছেন তা একটু পরে বলছি। আগে তার সম্পর্কে কিছু জেনে নেই।

নাম : মার্ক রিচার্ড শাটলওয়ার্থ
জন্মস্থল : ওয়েকলকম, ফ্রি স্টেট, দক্ষিণ আফ্রিকা
শিক্ষা জীবন : ডিগ্রি, ব্যবসায় বিজ্ঞান, অর্থায়ন এবং তথ্য প্রযুক্তি।
কর্মজীবন : ১৯৯৫ সালে Thawte প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ডিজিটাল সার্টিফিকেট এবং ইন্টারনেট সিকিউরিটি বিক্রয় করা হত। যা তিনি ১৯৯৯ বিক্রয় করে দেন।
কৃতিত্ব : পৃথীবির দ্বিতীয় ব্যক্তিমালিকানা নভোযাত্রী।

এই ভদ্রলোকটিকে কেন উন্মাদ বললাম
এই লোকটি শুধু মেধা সত্ত্বদিয়ে জনগনের সেবা করেন নাই, তিনি আর্থিকভাবেও জনগনের সেবা করেছেন। পৃথীবিতে বহুল আলোচিত একটি লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন হল ডেবিয়ান। তিনি এই ডেবিয়ান এর একজন ডেভলপার ছিলেন।
২০০১ সালে তিনি শাটলওয়ার্থ ফাউন্ডেশন নামে একটি অ-লাভজনক প্রতিষ্ঠান চালু করেন, যা দক্ষিন আফ্রিকায় শিক্ষা, ফ্রি এবং ওপেন সোর্স সফটওয়্যার এর কাজ করত।

২০০৪ সালে তিনি যে কাজটি করেন তা অনেকেই চিন্তাই করতে পারবেন না। তিনি তার উপার্জনের প্রায় সব টুকু দিয়েই প্রতিষ্ঠা করেন ক্যানোনিকাল লিমিটেড । যার মূল লক্ষ ছিল উবুন্টু লিনাক্স ডেভলপ করা।

২০০৫ সালে তিনি ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে উবুন্টু ফাউন্ডেশন প্রডিষ্ঠা করেন।

প্রিয় পাঠক চিন্তা করে দেখুন এই ব্যক্তি এখন ইচ্ছা করলেই পৃথীবির সবচেয়ে ধোনি ব্যক্তিদের একজন হতে পারতেন। কিন্তু তিনি কলঙ্কিত প্রপাইটোরি সফটওয়্যারের বিপক্ষে ওপেন সোর্স আন্দোলোন এ যোগ দেন। শুধু যোগ নয় নিজে সকল কামাই দিয়ে দেন। শুধু একটি লক্ষে যে মানুষ ওপেন সোর্স সফটওয়্যার ব্যবহার এবং প্রচার ও প্রসার করবে। কেন এই উন্মাদনা, তাতে তার কি লাভ হল? একটু চিন্তা করুন।

তার এই মহান কিছু উদ্দোগ আজকে আমাদের এনে দিয়েছে উবুন্টু নামক একটি ওপারেটিং সিস্টেম, যা আমরা অনেকেই ব্যবহার করি, যে অপারেটিং সিস্টেম আজ লিনাক্স এর পতাকা বহন করে চলেছে।

কিন্তু আমরা কয়জন এই উন্মাদের কথা জানি বা তার উন্মাদনার কথা জানি, অথবা কয়জনি বা ওপেন সোর্স আন্দোলন বিশ্বাস করি, ওপেন সোর্স আন্দোলনে আরেকজনের পাশে এসে দাড়াই। কয়জনই বা জানি যে প্রপাইটরি সফটওয়্যারের পিছনে যে সংকেত লেখা আছে তা আমাদের জন্য ক্ষতিকারক কিনা? এই সফটওয়্যার আমাদের কোন গুরুত্বপূর্ন তথ্য চুরি করছে কিনা?

এখনও বেশি সময় হয় নাই, আসুন প্রপাইটরি সফটওয়্যারের বেড়াজাল থেকে বের হয়ে মুক্ত জগতে প্রবেশ করি, নিজে ওপেন সোর্স আন্দোলনের একজন যোদ্ধা হই অপরকেও সামিল করি।

তাহলেই এই সকল উন্মাদের ত্যাগ স্বার্থক হবে।

আমার এই সিরিজের লেখা আজকেই শেষ। লেখা ভাল লাগলে বলবেন কোন সমস্যা হলেও বলবেন। আগামীতে কিছু লিনাক্স ওপারেটিং সিস্টেম নিয়ে লিখব।