ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 

আপনি একটি স্বাধীন দেশের অধিবাসী, আপনি কি করবেন, কি বলবেন, কি ব্যবহার করবেন, তা আপনার সিদ্ধান্ত। কিন্তু, কেমন হবে যদি কেউ আপনার এই সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার কেড়ে নেয়, জোর করে তাদের সিদ্ধান্ত আপনার ওপর চাপিয়ে দেয়? না, এখানে রাজনৈতিক আলোচনা হচ্ছে না, একটু ধৈর্য ধরে পড়লে বিষয়টি আশা করি বুঝতে পারবেন।

২০১৩ সালে বাজারে আসতে যাচ্ছে Microsoft এর তৈরি উইন্ডোজ ফ্যামিলির অপারেটিং সিস্টেমের সর্বশেষ সংস্করণ উইন্ডোজ ৮। মাইক্রোসফট ঘোষণা দিয়েছে যে, উইন্ডোজ ৮ সার্টিফাইড পিসিগুলোকে অবশ্যই Secure Boot নামের একটি ফীচার যোগ করতে হবে। এখন দেখি এই Secure Boot কি জিনিস।

Secure Boot:
সিকিউর বুট হল এক প্রকার ফিল্টারিং প্রক্রিয়া। কম্পিউটার বুট হবার সময় চেক করবে যে অপারেটিং সিস্টেম বুট করছে, তা উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সার্টিফিকেট বা সনদ নিয়েছে কিনা। না থাকলে সেই অপারেটিং সিস্টেম চালু বা বুট হতে পারবে না। অর্থাৎ, কম্পিউটার চালু হবার সময় Boot-Time ভাইরাস চালু হতে পারবে না। উইন্ডোজ ৮ সার্টিফাইড কম্পিউটারের ক্ষেত্রে, তা মাইক্রোসফটের থেকে সনদ নিয়েছে কিনা। এখানেই বাধল ফ্যাকড়া!

আপনি ভাবতে পারেন, সমস্যা কি! এইটাতে তো কম্পিউটার ভাইরাস-মুক্ত থাকবে। প্রথমত, আপনি উইন্ডোজ ৮ সার্টিফাইড পিসিতে উইন্ডোজ ৭ ও ৮ ব্যতিত আর কোন অপারেটিং সিস্টেম স্বাভাবিকভাবে চালাতে পারবেন না। ঘটনা শুধু এখানেই শেষ নয়! আপনার কোন ড্রাইভার যদি সাইন না করা হয়, তবে সেটিও ওই পিসিতে চলবে না। আপনার যদি কোন নন-ব্র্যান্ডেড ডিভাইস (চাইনিজ জিনিস আরকি!) থাকে, তাহলে সেটির মায়া আপনাকে ত্যাগ করতে হবে। লিনাক্সের মত অপারেটিং সিস্টেম চালানোর পথ বন্ধ হয়ে যাবে। মাইক্রোসফটের একচ্ছত্র আধিপত্য চলবে।

এখানে সমস্যা কোথায়? সমস্যাটা যদি বুঝতে না পারেন, বুঝিয়ে বলছি।
(১) আপনি কি সফটওয়্যার চালাবেন তা মাইক্রোসফট নির্ধারণ করে দিবে, আপনার কোন চয়েস নেই
(২) আপনার পছন্দের হার্ডওয়্যারও আপনি চালাতে সক্ষম নাও হতে পারেন।

অর্থাৎ, আপনার কম্পিউটার দিয়ে আপনি কি করবেন তা একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিগোষ্ঠী নির্ধারণ করে দিচ্ছে, একটি কম্পিউটার কিনেও আপনি তার মালিক নন।

তাছাড়া, ২০১৩ সালের পর এলিফেন্ট রোডের দোকানে অফিস, ফটোশপের ৫০ টাকার সিডি নাও পাওয়া যেতে পারে, তখন কি করবেন আপনি? লিনাক্সের পথ তো বন্ধই!

সমাধান কি?
RedHat, Canonical এর মত বড় বড় প্রতিষ্ঠান এই সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে একটি হোয়াইট পেপার প্রকাশ করেছে। যার মূল কথা হল,
সিকিউর বুট অপশনটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীর হাতে থাকবে। সে চাইলে সিকিউর বুট অন/অফ করতে পারবে। সেই সঙ্গে একটি অনুমোদিত সফটওয়্যারের তালিকাও থাকবে, যেখানে ইউজার তা ইচ্ছেমত সফটওয়্যার যুক্ত/সরিয়ে ফেলতে পারবে।

আজই মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের এই ঘৃণ্য কার্যক্রমের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াঁন, Free Software Foundation এর পিটিশনে সাইন করে জানিয়ে দিন যে আপনিও রুখে দাড়িঁয়েছেন। নিজের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করুন।

http://www.fsf.org………secure-boot-vs-restricted-boot/..

সূত্র: আপনার স্বাধীনতার জন্য আজই রুখে দাড়ান এদের বিরুদ্ধে
কৃতজ্ঞতায়: অনিরুদ্ধ