ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

হরতাল বন্ধে আইন করার কথা আমরা প্রায়ই শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে শুনে থাকি। তারা হরতাল না দেয়া বা হরতাল বন্ধে আইন প্রণয়ন করার কথা বলেন কখন? যখন কেউ হরতালের ডাক দেয় তার পরপর তারা বেশ সোচ্চার হয়ে উঠেন।

তারা কিছুদিন একই বুলি বলেন হরতাল বন্ধে আইন প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরী দেশের অর্থনীতির উর্বরতা বাড়াবার জন্য। অতঃপর সব ব্যবসায়ী বা ব্যবসা সংগঠনগুলো যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তখন আইন প্রণয়নের কথা আর তাদের মুখে শোনা যায় না। এই ব্যাপারটা তে আমরা সাধারন জনগন অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। কিছু ইস্যু সময়ের আবর্তমানে ভূলে যায় সবাই। আবার ফিরে আসে, কিছুদিন হইচই ব্যাস শেষ। বর্তমানে ব্যবসায়ী নেতারা যা বলছেন এ কথা আগে বহুবার বলেছেন এবং আমি আশা করিছি ভবিষ্যতে আবার শুনতে পাবো।

আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য ব্যবসায়ীদের সমালোচনা নয়, আমার প্রত্যাশা তারা এ বিষয়টি কে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেন। তারা বিভিন্ন পেশাজীবীর লোকজনকে সাথে নিয়ে এগিয়ে আসতে পারেন। কিন্তু তারা কি ব্যক্তি স্বার্থ কে পিছনে ফেল এগিয়ে আসতে পারবেন? রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ব্যবসায়ীদের সুসম্পর্ক বা ব্যক্তি স্বার্থ জড়িত। ব্যবসায়ী নেতা তো খোলাখুলি বলেছেন, ব্যবসা করার জন্য তাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে টাকা-পয়সা দিতে হয়। ব্যবসায়ীদের প্রতি আমার আহবান থাকবে ব্যবসা স্বার্থ বা ব্যক্তি স্বার্থ ত্যাগ করে আপনারা এগিয়ে আসুন। চেষ্টা করে দেখুন। সম্মিলিত আন্দোলন ছাড়া আপনারা হরতাল আইন করে বন্ধ করতে পারবেন না। শুধু লোক দেখানো বক্তব্য রাখতে পারবেন।

কোন রাজনৈতিক দল স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হরতাল বন্ধে আইন করবে বলে আমার মনে হয় না। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার বা জনগনের কথা বলার হাতিয়ার হিসাবে তারা দাবী করেন। যখন সরকার জনস্বার্থ বিরোধী কোন কাজ করে বা করতে চায় তখন জনগনই সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠে। এরকম উদাহরন বাংলাদেশের ইতিহাসে বহু রয়েছে। কিন্তু বিরোধীদলগুলো তাদের ভাষায় সরকারের জনস্বার্থ বিরোধী কাজের জন্য হরতালকেই বেছে নেয় প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে।

হরতালের সামগ্রিক বিরোধী আমি নই, কিন্তু সহিংস হরতাল এর ঘোর বিরোধী আমি। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন তো এখনকার মত সহিংস হয় নাই, তখন সরকারী বাহিনীগুলো সহিংসতা শুরু করেছিল। কিন্তু এখন হরতালে নিতান্তই সাধারন জনগন মারা যাচ্ছে বিশেষ করে যানবাহনে আগুন দেয়ার জন্য। এগুলো আমাদের বিবেক কে নাড়া দিয়ে যায়।

সর্বোপরি হরতাল বন্ধে আইন বা হরতালের বিকল্প খোঁজার চেষ্টা বার বার সেমিনার বা রাজনৈতিক সভা সমাবেশে বক্তৃতা না দিয়ে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন আন্তরিকতা দিয়ে।