ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

১৯৭১’র ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। একই বছর ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের মাধ্যমে এর পরিসমাপ্তি ঘটে।ত্রিশ লক্ষ অকুতোভয় দেশ প্রেমিক বাংঙ্গালি স্বাধীনতার জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেন।এই সৃতিসৌধ আপাময় জনসাধারণের বীরত্বপূর্ণ লড়ায়ের স্মরণে নিবেদিত এবং শহীদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধার উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।সৃতিস্তম্ভ এবং এর প্রাঙ্গণের আয়তন ৩৪ হেক্টর(৮৪ একর)।এ ছাড়াও রয়েছে একে পরিবেষ্টনকারী আরও ১০ হেক্টর(২৪ একর)এলাকা নিয়ে বৃক্ষরাজি পরিপূর্ণ একটি সবুজ বলয়।এই সৃতিসৌধ সকল দেশ প্রেমিক নাগরিক এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় ও সাফল্যের যুগলবন্দি রচনা করেছে।সাতটি ত্রিভুজ আকৃতি মিনারের শিখর দেশের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের সাতটি পর্যায়ের প্রতিটি এক ভাবব্যঞ্জনাতে প্রবাহিত হচ্ছে।এই সাতটি পর্যায়ের প্রতিটি সূচিত হয় বায়ান্নর মহান ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে।পরবর্তীতে চুয়ান্ন,আটান্ন,বাষট্টি,ছেষট্টি ও উনসত্তরের’র গণ-অভ্যথানের মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হয়ে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।

মিনারটি ৪৫ মিটার (১৫০.০০ ফুট)উঁচু এবং জাতীয় শহীদ সৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিন্দুতে অবস্থিত।মিনার ঘিরে আছে কৃত্রিম হ্রদ এবং মনোরম বাগান।সৌধ চত্বরে আছে মাতৃভূমির জন্য আত্মোৎসর্গকারী অজ্ঞাতনামা শহীদের দশটি গণ সমাধি।সৌধ প্রাঙ্গণে আরও রয়েছে উন্মুক্ত মঞ্চ,অভ্যরথনা কক্ষ,মসজিদ,হেলিপ্যাড,ক্যাফেটেরিয়া।মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ এর ১৬ই ডিসেম্বর এই সৃতিসৌধের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।সৃতিসৌধের মিনার ব্যতিত প্রকল্পটির মহা পরিকল্পনা ও নৈসর্গিক পরিকল্পনাসহ অন্য সকল নির্মাণ কাজের স্তাপত্য নকশা প্রণয়ন করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্তাপত্য অধিদপ্তর।মিনারের স্তাপত্য নকশা প্রণয়ন করেন বাংলাদেশ খ্যাতনামা স্থপতি সৈয়দ মঈনুল হোসেন।বর্তমানে সৌধটির নির্মাণ কাজ তিন পর্যায়ে মোট ১৩.০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হয়।নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে এবং শেষ হয় ১৯৮৮ সালের জুন মাসে।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ধীন গনপূর্ত অধিদপ্তর সমগ্র নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে।