ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

আজ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দলটি ৬২ পেরিয়ে ৬৩ তে পা দিয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে সবচেয়ে বেশি মিশে আছে এই দলটির নাম। এতগুলো দশকে সাফল্য – ব্যর্থতাও কম নয়। সাফল্য-ব্যর্থতার বিচারের ভার জনগণের হাতেই থাক। ভিন্ন কিছু প্রসঙ্গের অবতারণা করি।

বেশ কিছুদিন যাবত বাংলাদেশের রাজনীতি কিছুটা অস্থির সময় পার করছে। সরকারও তার মেয়াদের প্রায় অর্ধেকটা সময় পার করে ফেলেছে। কতটুকু কি করেছে, সেটা সবাই জানেন। বর্তমান সরকারে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং মাঝে মাঝে এমন সব কথা বলে থাকেন, যেগুলো আমাদের মত সাধারণ জনগণকে ভাবিয়ে তুলে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী এমন একটি মন্তব্য করলেন, যেটা তার কাছে কেউ আশা করেনি। দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজে যখন বলেন, তার চেয়ে বড় দেশপ্রেমিক আর কে আছে, তখন সত্যিই অবাক হতে হয়। আজ তিনি আবার মন্তব্য করলেন, একমাত্র তার সরকারের আমলেই দেশের জনগণ কিছু পায়, বাকী সময়টা অন্যান্যরা শুধু লুটপাট করে যায়। সেই গতানুগতিক নোংরা রাজনীতি। জীবনের এতগুলো বছর রাজনীতিতে পার করে এসে এখনও যদি তিনি এ ধরনের মন্তব্য করেন, পাতিনেতা সুলভ মন্তব্য করেন, তাহলে সেটা জনগণের কাছে হাস্যকর হিসেবেই প্রমাণিত হয়। এমনিতেই আদালত কর্তৃক আপনাকে “রং হেডেড” আখ্যা দেয়ার রেকর্ডও আছে। আপনি কেন এমন কথা বলবেন, কিংবা এমন কোন বক্তৃতা দিবেন, যেটা আপনাকে জনগণের কাছে মিথ্যা কিংবা হাস্যকর প্রমাণিত করবে।

এবার আসি আপনার মন্ত্রিপরিষদের বেলায়। প্রথমেই সাহারা খাতুনের কথাই ধরা যাক। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সাহারা খাতুন বিগত সরকারের বাবরের (লুকিং ফর শত্রুজ) চেয়েও ব্যর্থ একজন মন্ত্রী। একজন মানুষের কথার উপরেও কিন্তু তার কোয়ালিটি অনেকটা বুঝা যায়। রাজপথের সফল নেত্রী যে প্রশাসনেও সফল হবেন, এমনটা ঠিক নয়। আড়াই বছর পার হয়ে গেলেও তার মুখে কোনদিন আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি ব্যতীত অবনতির কথা শুনলাম না। অবনতির কথা হয়ত বা অবস্থানগত কারণে স্বীকার করা যায় না, তাই বলে একই বুলি প্রতিদিন আওড়ানো ? এটা সাধারণের কাছে খুবই অসহ্য একটা ব্যাপার।

সম্প্রতি আরেক বোমা ফাটালেন ড. হাসান মাহমুদ। একজন মন্ত্রী কিভাবে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত শিক্ষককে নাম বিকৃত করে চূড়ান্ত অপমান করতে পারেন, সেটা আমার মাথাতেই ধরে না। তিনি একজন শিক্ষিত মানুষ। হতে পারে তার মতের সাথে আপনার অমিল রয়েছে। তাই বলে আপনি তাকে দালাল আখ্যা দিবেন? এজেন্ট কিংবা টোকাই বলবেন? হাউ ডেয়ার ইউ আর ! আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই। জানি না আপনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী নিয়ে এসেছেন। কিন্তু এটুকু বুঝতে পারছি, আপনি মানুষকে সম্মান দিতে জানেন না। আরেকজনের মতকে শ্রদ্ধা করতে জানেন না। যেটা ফ্যাসিজমেরই নামান্তর। তেল-গ্যাস নিয়ে সারা বিশ্বে কি হচ্ছে সেটা আপনি যেমন জানেন, আমরাও জানি। সরকার সবকিছু বিচার বিবেচনা করে যেটা ভাল হয়, সেটা করবে। কিন্তু তাই বলে এমন একটা পদে থেকে এত বিশ্রীভাবে আরেকজন মানুষকে অপমান । ছি : সত্যিই লজ্জা হয়।

আসলে এখানে ফিরিস্তি তুলে ধরতে চাই না। সেটা অনেক লম্বা হয়ে যাবে। যেটা বলতে চাচ্ছিলাম, সেটা হল দয়া করে বাগাড়ম্বরটা কি বন্ধ করা যায় না? আপনি নিজে যদি অদ্ভুত টাইপের মন্তব্য করেন, আপনার মন্ত্রীবর্গতো করবেই।

দলীয় লেজুড়বৃত্তি এতটাই নগ্ন পর্যায়ে চলে গেছে, সেখান থেকে ফিরে আসা সম্ভব কি না আমার জানা নেই। ছাত্র সংগঠনগুলোর পাশাপাশি যখন দেখি আইনজীবি, শিক্ষক এমনকি চিকিৎসকরা পর্যন্ত দলীয় বিভাজনে বিভক্ত। এত এত বিভাজন। সবারই কোন না কোন দলের প্রতি সমর্থন থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা কার্যক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করবে কেন? আমি অত্যন্ত শঙ্কিত এই ভেবে যে, সেদিন হয়তো আর দূরে নয়, যেদিন রোগীর রাজনৈতিক পরিচয় জেনে তাকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। একটি ঘটনা শেয়ার না করলেই নয়। এটা হয়তো বা এই লেখার সাথে মিল পাবেন না।

স্বাচিপ (স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ), সোজা কথায় আওয়ামী চিকিৎসক ফোরাম। এরা আজকে এমন একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাল, যা শুনে আমি স্তম্ভিত। তারা আজ আওয়ামি লীগের ৬২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বারডেম হাসপাতালে ব্যান্ড সঙ্গীতের আয়োজন করেছে। একটিবার চিন্তা করে দেখুন, হাসপাতালের সামনের রাস্তাগুলোর সামনে দিয়ে যেখানে গাড়ির হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ (যদিও আমাদের দেশে এটা মানা হয় না), সেখানে হাসপাতালের ভিতরে ব্যান্ড সঙ্গীত। ক্ষমতার এতই দাপট আপনাদের, চিকিৎসক হয়ে কি মনুষত্ব বিসর্জন দিয়েছেন? পাশে আরো একটি হাসপাতালও ছিল। এই হাজার হাজার রোগীগুলার উপর গজব না দিলেই কি চলত না? আপনাদের ভেন্যুর এতই অভাব পড়ে গিয়েছিল? এটাতো বিরোধীদলের মিছিলের জন্য আ্যম্বুলেন্স আটকে থাকার চেয়েও জঘন্য একটা ব্যাপার।

আরও কিছু কথা বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু রুচিতে বাঁধছে না। অনেক আক্ষেপের সাথে কথাগুলো বললাম। ব্লগার ভাইদের বলছি, কেউ যদি মন্তব্য করেন তো প্রাসঙ্গিক বিষয়ে করতে পারেন। অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারণা করে, ওই রাজনীতিবিদদের মত কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করা থেকে বিরত থাকবেন।