ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

বাংলাদেশের রেঙ্কিং বিগত বছরগুলোতে জিম্বাবুয়ের উপরেই ছিল। কিন্তু সময়ে অনেক কিছু বদলায়। তাই অন্তত পিছন থেকে দু নাম্বার হওয়ার গৌরবটিও (!) বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।

আজ যারা বাংলাদেশের খেলা দেখতে বসেছেন, তারা একটা আশা নিয়েই ছিলেন যে আমরা জিতবই। এমনটি আশা করা আমাদের জন্য বাহুল্য নয়। কিন্তু সে ধরনের আশার গুড়েবালি। জিম্বাবুয়ের টিম স্পিরিট দেখে বুঝা যাচ্ছে, তারা তাদের সোনালী অতীতে ফিরে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। তারাও অতীতেই ফিরে যাচ্ছে !

প্রথম টেস্ট হারার পর পত্রিকাগুলো লিখেছিল, একমাত্র টেস্টে হারল বাংলাদেশ। খেলোয়াড়রা বললেন, ওয়ানডে সিরিজ জিতবেন, হোয়াইটওয়াশও হতে পারে !

প্রথম ওয়ানডে হারল, দ্বিতীয়টি হারল। খবরের ধাঁচ পরিবর্তন হয়ে গেল। এবার পত্রিকার শিরোনাম হল সিরিজ হার এড়াতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ !
আর এবারের শিরোনাম হবে, হোয়াইটওয়াশ এড়াতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ে ভাল খেলে জিতেছে এটাই সত্য। এটাও সত্য, বাংলাদেশ চরম বাজে খেলেছে। জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ের সময় ‘টাইবু’র যে ক্যাচগুলো আমাদের ফিল্ডাররা ফেলে দিয়েছেন, তাতে মনে হয়েছিল ক্লাস টু’র একটা বাচ্চাও এটি ফেলতে পারে না। সেই টাইবুই আজ জিম্বাবুয়ের রানের ভিত গড়ে দিয়েছে দলীয় সর্বোচ্চ ৮৩ রান করে।

আর এদিকে নিজেদের ব্যাটিংয়ে চূড়ান্ত বিপর্যয়। এতদিনে বাংলাদেশের খেলা দেখে দর্শকদের একটি ধারণা মোটামুটি পাকাপোক্ত হয়ে গিয়েছিল যে ২৫০ রান হলে চেজ করে হোক কিংবা আগে ব্যাটিং করে হোক বাংলাদেশ জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাটাই বেশি থাকে। অন্তত জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে তো অবশ্যই। সেই জিম্বাবুয়ের সাথে বাংলাদেশ প্রথম দুটি ম্যাচে কি রান করল? আর আজ কি করল? কায়েস-জুনায়েদের ধারাবাহিক ব্যর্থতা টপ অর্ডারে বাংলাদেশকে ডুবাচ্ছে। তামিম রান পেলেও একটা হাফ সেঞ্চুরীর দেখা পাওয়া যায় না। মিডল অর্ডাররাও চরমভাবে ব্যর্থ। সাকিবের খেলা দেখলে মনে হয়, তাকে আবার নতুন করে খেলা শিখাতে হবে। দু-দুটো রান আউট। অন্যদের কথা বাদই দিলাম। ব্যাটিংয়ে এমন ধারাবাহিক ব্যর্থতার ঘানি আর কতদিন বইবে আমাদের টাইগাররা?

একটা টিমের অনেক খারাপ সময় আসে। তারপরেও তারা একটা মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড ধরে রাখে। কিন্তু আমরা মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ডতো দূরে থাক খেলাটাই মনে ভুলে যেতে বসেছি। এ হার গোটা ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে নামাবে সেই চিন্তা কি প্লেয়ারদের আছে?

শিরোনামে হলিউডি মুভির কথা লিখাতে অনেকেই ভাবছেন ক্রিকেটে আবার মুভি কেন? হলিউডি মুভির কথা বলতাম না। আজ একটা খবর পড়ে শেয়ার করার ইচ্ছাটা সামলাতে পারলাম না। আমাদের দেশের ক্রিকেটাররা হলেন আমাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধি। কিন্তু তারা যদি এমন কোন কাজ করেন, যেটার জন্য লজ্জায় পড়তে হয়, তবে আর কি বলার থাকতে পারে?

কিছুদিন আগে বিশ্বকাপে সাকিবের দেখানো ‘এফ’ সাইন নিয়ে বেশ কথা উঠেছিল। অনেকেই বলেছিলেন, দর্শকদের ‘দুয়ো’র জবাবে সাকিব সেটি দেখিয়েছিলেন। অনেকে আবার বলেছিলেন তারা নিজেদের মধ্যেই এমনটি করছিলেন। সেই বিতর্কে আর নতুন করে যেতে চাই না। কিন্তু এমনই আরেকটি কাজ এবার করে দেখালেন ‘সোহরাওয়ার্দী শুভ’ বিদেশের মাটিতে। যার জন্য আবার ক্ষমাও চাইতে হয়েছে। এই না হলে দেশের মান সম্মান রক্ষা !!

এখানে দেখুন
হলিউডি মুভিতে ‘এফ’ সাইন ও ‘ফ…’ একটি কমন ব্যাপার। সেটা সমস্যা না। কিন্তু এটা কাউকে দেখানো কোন ভাল অর্থ বয়ে আনে না। মুভি দেখে অনেকে ভাবতেই পারেন, এটা বুঝি খুবই স্বাভাবিক, অন্যান্য সাধারণ শব্দের মত। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও সেরকম নয়। আমরা যেমন স্ল্যাং হিসেবে দেখি, ওরাও স্ল্যাং হিসেবেই দেখে। এটা ভাল কোন শব্দ কিংবা সাইন নয়। খেলা জিতুন-হারুন, সেটা একটা হিসেব। আর দেশকে চরিত্র দিয়ে ডুবাবেন সেটা মানার মত ব্যাপার নয়।