ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

সর্বশেষ খবর মতে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ওমরাহ করার জন্য সৌদি আরব গিয়েছেন। প্রতিবছরই যান। সেখানে তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন।

আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলে আর নিজ স্বার্থে হরতাল দিলে দেশ ও জাতির কি উপকার হয় তা আমার জানা নাই। কেননা, আল্লাহ তার বান্দাদেরকে শুধু সাহায্য প্রার্থনা করতেই বলেননি, তদনুযায়ী কাজও করতে বলেছেন।

দেশ বর্তমানে সরকারের অনুগ্রহে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সেক্টরে সরকারের অদক্ষতা ও স্বেচ্ছাচারিতা দেখা যাচ্ছে। তার জন্য সরকারের উপর জনগণ যে ক্ষেপে আছে সেটা বুঝতে ডিজিএফআইএর প্রতিবেদনের প্রয়োজন নেই।

কিন্তু আপনারা কি করছেন? সম্প্রতি আপনার দলের কিছু উচ্চপদস্থ লোকের মুখে কয়েকটি কথা শুনে শুধু ধিক্কার জানাতে ইচ্ছা করে। তারা বলেছেন, সরকারের এমপিরাই সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে। আর এতে আপনারা বগল দাবানো শুরু করেছেন। কতটা স্বার্থপর আপনারা, একবার চিন্তা করে দেখুন। এখানে খুশি হওয়ার কি আছে? আপনারা নিজের কাজটা করতেতো পারেননি, আবার আপনাদের ভূমিকা অন্যজন পালন করছে বলে আপনাদের কি খুশি। খুশিতে একেবারে ডগমগ অবস্থা। ন্যূনতম লজ্জা ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল থাকলে দেশের এই অবস্থায় আপনারা মিডিয়ার সামনে দাঁত কেলিয়ে এ ধরনের বক্তব্য রাখতেন না। সংসদে গিয়েই সরকারের ব্যর্থতার ফিরিস্তি তুলে ধরতেন। প্রতিবাদ করতেন।

আপনারা সংসদে না যাওয়ার নানা কারণ দেখান। কোন কোনটি হয়তো ঠিক, তবে বেশিরভাহই আমার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়। অন্তত, আপনাদের নির্বাচিত এলাকার সমস্যার কথা বলার জন্য হলেও আপনাদের সংসদে যাওয়া উচিত। তার উপরে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদে গিয়ে কথা বললে, সেটাই হত একজন প্রকৃত সংসদ সদস্যের কাজ।

সংসদে যেতে চান না, ঠিকই তো সরকারী গাড়ি ব্যবহার করেন। সরকারি বাসস্থান ব্যবহার করেন। বেতন-ভাতা নিতেও ভুল হয় না। আবার শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানিতেও সরকারি এমপি-মন্ত্রীদের সাথে সমানতালে আপনাদের বিচরণ। এত সব সুযোগ-সুবিধা যদি নিতে না ভুলেন, তবে আসল দায়িত্বটি কেন ভুলে যান? ঘৃণা হয় আপনাদের আচরণ দেখে। সংসদে যাওয়ার মত পরিস্থিতি যদি নাই থাকে, আপনাদের তো সব বর্জন করা উচিত। সদস্য পদ, বেতন-ভাতা, বাসা সব।

আপনাদের যত অভিযোগ সংসদে গিয়ে বলতে সমস্যা কোথায়? মিডিয়ার সামনে যদি বলতে পারেন, সংসদে পারবেন না কেন? প্রয়োজনে ওয়াক আউট করেন। একবার না বারবার করেন। সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করেন। দেশের মানুষের দু:খ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। সরকার কথা কিভাবে বলতে না দেয় আমরা দেখি। আর কথা যদি নাই বলতে দেয় সেক্ষেত্রে জনগণ বুঝবে।

দেশের মানুষের প্রতি আপনাদের বিন্দু-মাত্র ভালবাসা নেই। দায়িত্ববোধ নেই। যদি তাই থাকতো, তাহলে আপনারা মিডিয়ার সামনে দাঁত কেলিয়ে বলতে পারতেন না “সরকারি দলের এমপিরাই আমাদের ভূমিকা পালন করছে”। ছি : কি লজ্জার বিষয়। দেশের মানুষ মরে দু:খে-কষ্টে। আর আপনারা তাদের অসহায়ত্বে আনন্দ পান। আপনারা শুধু গদিই চিনেন, ক্ষমতাই চিনেন। মানুষ চিনেন না। যদি তাই চিনতেন, তাহলে সংসদে গিয়ে দেশের মানুষের কথা বলতেন। পদ রক্ষার জন্য ৯০ কার্যদিবসের পূর্বে সংসদে যেতেন না।

ধিক…এই নোংরা রাজনীতিকে….