ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

সুন্দরের অপর লীলাভূমি আমাদের বাংলাদেশ । শুধু দেশ নয় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত হতে মানুষ ছুটে আসে আমাদের সোনার বাংলা দেখতে। তারা বুঝেন গোল্ড বাংলা। তাদের মনে হয়তো কৌতূহল কাজ করে যে সোনার বাংলা কেন ? এ দেশে তো কোন গোল্ড এর নামকরা উৎস নাই তাহলে কি আছে এই ছোট্ট ঘনবসতি পূর্ণ দেশ টায় ?

তাঁরা আসেন,দেখেন মুগ্ধ হন। না কোন যাদুর খেলা না,না কোন খনিজ উৎস দেখে নয় । প্রকৃতি প্রেমি ঐ অতিথিরা আমাদের বাংলার রুপ দেখে মুগ্ধ হন । পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত,পাহাড়ী বনাঞ্চল ,মংলা,কুয়াকাটা, পাহাড়ী চা বাগান। না এখানেই শেষ না,আর অনেক দর্শনীয় স্পট আছে যা বলে শেষ করা যাবে না। তেমনি দুইটা স্পট জাফলং এবং মাধবকুণ্ড। প্রকৃতি প্রেমি,ভ্রমন পিপাসু দের জন্য এক দারুণ স্পট।

জাফলং বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত অঞ্চলের একটি পাথর উত্তলন কেন্দ্র ।কড়া সীমান্ত পাহারায় থাকে দুই দেশের সীমান্ত সৈনিকরা । হিমশীতল পানিতে পাথর শ্রমিকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে পাথর তোলে। ছোট বড় বিভিন্ন আকারের পাথর । মা বাবার সাথে যাওয়া শিশুটি হয়তো জানতে চেয়ে বসেঃ “এই পাথর কে বানায় ? বড় পাথরের বাচ্চা কি ছোট পাথর ? ”হাসি আনন্দের সাথে ঘুরতে থাকে পর্যটকেরা আর পাথর তোলা শ্রমিকেরা পাথর তুলতে থাকেন এবং গানে গানে কষ্ট কে ম্লান করতে থাকেন। ক্যামেরাম্যান তিনি তো মধুর দৃশ্য গুলো খাঁচায় বন্ধি করতে মগ্ন । এখানের এই অগভীর নদীতে সাতার কাটার সাহস পেয়ে যায় কিশোর কিশোরীরা। কারণ নদীর পানি এমন যে মাটি দেখা যায়। পিয়ান নদীর বুক জুড়ে যে অনাবিল দৃশ্য না দেখলেই নয়।

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত বাংলাদেশ এর সর্ব বৃহৎ প্রাকৃতিক জলপ্রপাত। এই জলপ্রপাতটি পাথারিয়া পাহার হতে উৎসারিত। এই জলপ্রপাতে প্রায় ২০০ ফুট উপর থেকে পানি পতিত হয়।বর্ষা কালে প্রতি সেকেন্ডে পানি প্রবাহের পরিমান ৫০০ কিউসেক।পাহাড়ের উপর থেকে পতিত পানি যেকোনো দর্শনার্থী কে মুগ্ধ করে। কেওবা গোসল করতে,কেওবা হাঁটু পানিতে নেমে ছবি তুলতে মনযোগী। দুরন্ত তারুণ্য পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উপরে উঠতে চায়। যেখান হতে পানি নামছে,ওইখান হতে পাইপে করে পানি নেওয়া হয় পার্ক এর হোটেল এ। ঐ এলাকায় সুপেয় পানির অভাব আছে । মজার ব্যাপার হল পাইপের ভিতরের পানির গতিপথ তো মানুষ তো আর দেখতে পারে না ভাবে পানি বুঝি পানি পাইপে করে নিয়া উপর হতে ঢালা হচ্ছে। চারদিক হতে লম্বা লম্বা গাছে ঘিরে ধরেছে এই জলপ্রপাতটি । সর্বোপরি পাহাড়ি এ জলপ্রপাতটি সকল শ্রেণির মানুষকে আনন্দ দিতে পারে। কি শিশু,কি বয়স্ক সবাই এই সংকীর্ণ এই জায়গায় মনের সংকীর্ণটা দূর করে আনন্দ করে।
এবার আমি আন্তরিকতার সাথে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি লেখার নাম করনের জন্য। এত সুন্দর ও মনোরম দুইটা স্পট তারপর কেন আমি এরকম নাম দিলাম?
জাফলং যাবার পথে বাস আপনাকে নামিয়ে দেওয়া হবে “মামার বাজার”। মামার বাজার হতে আপনাকে যেতে হবে হেটে ।হাটার পথ টা হল ধুলাময়। অনেকেই মনে করতে পারেন এই ধূলা হল পাথর ভাঙ্গার ধুলা,কিন্তু না।যে জাগায় দিয়ে নামতে হবে ঐ রাস্তা হতে ৫০মিটার এর মধ্যে কোন পাথর ভাঙ্গা মেশিন আপনি পাবেন না। আসলে সব ধূলা ঐ রাস্তার।আপনি যদি নাক বন্ধ করে মুখ খুলে যান তাহলে মুখে বালির স্তূপ হবে আর নাক খুলে গেলে তো আপনাকে শ্বাস কষ্টের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। কোন প্রাইভেট গাড়ি যদি যায় আর আপনি যদি হেটে যান আপনাকে পশ্চাৎ দিকে ঘুরে দাড়াতে হবে। বেশিক্ষণ দাঁড়ানো যাবে না তাতে সড়ক দুর্ঘটনায় পড়তে পারেন।ধুলার রাজ্য পাড়ি দিয়ে আপনাকে যেতে হবে ঐ কাঙ্ক্ষিত জায়গায়। যাওয়ার পথে আপনি দেখতে পাবেন দুইপাসে খাবার দোকান। ঐখানে যে ধুলার রাজ্যে অতিথিরা কিভাবে খায় আল্লাহ্‌ জানে আর তাদের পেটের তিব্রতা জানে। প্রধান জায়গায় নামার যে পথ তাও অনেক জরাজীর্ণ। যা আছে তাও ভারি ট্রাক চলাচলের জন্য হয়ে পড়তেছে ভয়াবহ। যে কষ্ট করে ওখানে যাওয়া হয় টা অবশ্য ওখানের দৃশ্য ম্লান করে তবে ফিরে আসার সময় তাও আবার বুঝি হারিয়ে যায়। ১ কিলোমিটার এর মতো রাস্তা,রাস্তা তো নয় যেন ধুলার রাজ্য ।

মাধবকুণ্ডঃ মাধবকুণ্ডে যেতে হলে আপনাকে মৌলভিবাজার এর কাঁঠালপাড়া।ওখান হতে আপনাকে যেতে হবে মাধবকুণ্ডে সিএনজি/অটো রিক্সা করে। আকাবাক রাস্তা,দানে মোড় না বামে মোড় কোন সিগনাল নাই,যেকোনো মুহূর্তে পিকনিকের কোন বাস আপনাকে বহন কারি গাড়িটিকে চাপা দিতে পারে। আপানার প্রান থাকবে আপনার হাতে।আর রাস্তা তো নয় যেন মাটির উপর ইটের খোয়া ঢেলে রাখা হয়েছে মাঝে মাঝে ।আর এর জন্যই ৮ কিলোমিটার এর ভাড়া ২০০ টাকা বলে জানালেন ড্রাইভার। সব থেকে ভয়বহ যে ব্যাপার তাহলো এখানের তিনটি ভাঙ্গা সেতু । ভাঙ্গা সেতু তিনটি নির্মাণাধীন। এই সেতু তিনটি যে কি ধরনের বিপদ ডেকে আনে তা যে সাম্প্রতিক সময়ে গিয়াছে সে জানে। নির্মাণাধীন এই তিনটি সেতুর জন্য সাময়িক ভাবে পাশে তৈরি করে দেওয়া হয়েছে বিকল্প রাস্তা আর সেতুর কাজ চলছে পিঁপড়ার গতিতে ।বিকল্প রাস্তার কথা বলি একসাথে দুইটা গাড়ি যেতে পারবে না। বিকল্প রাস্তার মাটি খুব নরম ।যে কোন টাইম এ কোন বাসের চাকা দেবে যেতে পারে আর তাতে ঐ এলাকার রাস্তা সব বন্ধ হয়ে জাবে।আমাদের গাড়ির ড্রাইভার বলল এরকম অনেক গঠেছে। তিনি বললেন অনেক বার হয়েছে যে স্কুল ,কলেজ আর স্টুডেন্টরা এসেছেন আর এমন সমসসায় তাদের বাস আটকে গেছে রাস্তার যে কোন এক পাসে অথবা ঐ জায়গায়।বলতে গেলে দুর্গম এই এলাকায় যে কি হতে পারে তাদের অবস্তা শুধু মাত্র তারাই জানে যারা ওখানে রাত কাতিএছে।মাধবকুণ্ডের ভিতরের অবস্তার আরও ভালো হওয়া উচিত। পানির অবস্তা যে কত নোংরা তা বলা যাবে না ।পানি ভালো ভাবে পাছ করে দেওয়ার তেমন কোন পরিবেশ দেখলাম না। ভিতরে একটা টাওয়ার আছে মাধবকুণ্ড কে ভালো করে দেখার জন্ন। কিন্তু টাওয়ার এর গেটের তালার দিকে তাকিয়ে দেখলাম তা মনে হয় ১ম লাগানোর পর আর খোলা হয়নি মরিচা ধরে ধেকে গেছে। ভিতরে জরুরি কাজের জন্য একটা ছোট ঘর আছে। কত দিন যে পরিষ্কার করা হয় না তা গবেষণার বিষয়।

জাফলং এবং মাধবকুণ্ড বাংলাদেশ এর অন্যতম দুইটা পর্যটন কেন্দ্র ।বিদ্যমান সমস্যা গুলো দূর করতে পারলে তা হয়ে উঠতে পারে আরও বেশি আকর্ষণীয় ।আশা করি সরকার এ ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ নিবে।