ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
73000404

পরিবার তন্ত্র বা রাজনীতিতে পারিবারিক অগ্রাধিকারের ব্যাপারটা এখন সবাই অনেকটা সহজ ভাবে মেনে নেয় । আমেরিকা , ভারত বাংলাদেশ যে দিকে তাকাবেন আপনি সব খানেই দেখবেন নির্দিষ্ট কিছু পরিবার রাজনীতিকে আগলে রেখেছে বা আটকে রেখেছে । যেভাবে আপনার বুজতে সুবিধে হয় । বুশ , ট্রাম্প কিংবা ক্লিনটন পরিবার বা আমাদের বঙ্গবন্ধু বা জিয়া পরিবার সবখানেই পারিবারিক ভাবেই মূল্যায়ন করা হয় । এটা যে খারাপ কিছু তা আমি বলছি না । কিন্তু পারিবারিক এই মনোনয়নে যদি গণতন্ত্র থাকে তাহলে নিদেন পক্ষে “গণতন্ত্র” শব্দটা বেঁচে থাকে।

নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের প্রায় সকল সদস্য রাজনীতির সাথে জড়িত । এটা ধরতে পারেন উনাদের পারিবারিক পেশা । এক্ষেত্রে এই পরিবার এতো বেশী অর্গানাইজড বা সুশৃঙ্খল খোদ প্রধানমন্ত্রী চাইলেও এই পরিবারের বিপক্ষে সরাসরি কথা বলতে পারছে না । নিজের দল ও নির্বাচনী আসনের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী অনেক কিছুই সহ্য করে যাচ্ছেন এবং তিনি নিজে তা স্বীকারও করেছেন । তাহলে অন্য কোনো পরিবার কি কখনো রাজনীতিতে আসতে পারবে না ? অবস্যই পারবে । আর ঠিক এই কারণেই বর্তমান মেয়র আইভীকে প্রধানমন্ত্রী এতো সাপর্ট দিয়ে যাচ্ছেন । কারণ নতুন কেও হাল না ধরা পর্যন্ত আগের জনকে চাইলেই বাদ দেয়া যাবে না ।

আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাসিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ নিয়ে যখন আলোচনা হয় তখন বাংলাদেশের প্রধান দুই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আলোচনা হয় । এবং উকিলিকস এর ইমেইল গুলো থেকে বোঝা যায় আপনি যতই চেষ্টা করেন এই দুই পরিবার থেকে বের হয়ে আসতে পারবেন না ।এক্ষত্রে গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলন হয় উচিত এই দুই পরিবারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার । কারণ দেশের গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলার আগে ভাবতে হবে যে গণতন্ত্র আপনি চাচ্ছেন তা এই পৃথিবীতে এই মুহূর্তে সম্ভব নয় । আর এই দ্রুব সত্য কথাটি যেমন প্রধানমন্ত্রী জানেন তেমনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীও জানেন । শুধু দেশের জনগণ মানেন না বা মানতে চান না ।

পরিবারের মধ্যে গণতন্ত্র কায়েম করার চেষ্টা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অনেক দিন থেকেই করে আসছেন । উনি উনার ছেলের সাথে উনার বোনের ছেলে মেয়ে সবাইকে পরখ করে দেখছেন বা সবাইকে সুযোগ করে দিচ্ছেন । এটা পারিবারিক গণতন্ত্রের জন্য খুবই ভালো একটা প্রদক্ষেপ । কারণ আপনি যেখানে জানেনই যে এই পরিবারের বাইরে কেয় সুযোগ পাবে না সেক্ষেত্রে পরিবারের মাঝ থেকে ভালো কাওকে বেঁচে নেয়ার নামই গণতন্ত্র । অন্তত আমার আপনার জন্য ।

ফরিদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে দুজন ব্যতিক্রমী প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন যারা সম্পর্কে স্বামী স্ত্রী। একজন সৈয়দ মাসুদ হোসাইন আর আরেকজন আইভি মাসুদ । দু জনই সরকার দলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত । এখন আমার প্রশ্ন হলো যেখানে এরা দুই জন একই পদের জন্য নির্বাচন মনোনয়ন প্রার্থী তাহলে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে এদের সাংসারিক জীবন কেমন ? যেহেতু রাজনীতির মাঠে এই স্বামী -স্ত্রী এখন নিজেদের বিপক্ষে তার মানে এরা ঘরের মধ্যেও কি নিজেদের বিপক্ষে থাকে ?খুব সম্ভবত এটা পারিবারিক রাজনীতির ছোট কিন্তু চমৎকার একটা উদাহরণ ।

আমরা সবাই জীবন ধারণের জন্য কোন না কোন চাকুরী বা ব্যবসা করি । একবার চিন্তা করুন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত আপনি আপনার অফিসে যতটা প্রফেশনাল থাকেন বাসায় আসার পর ঠিক কি কারণে ততটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ? মানে আপনি যেখানে নিজের অফিসে নতুন একজনকে চাকুরী দেবার আগে দশটা রেফারেন্স খুঁজেন সেখানে রাজনীতিবিদদের কাছে আসা করেন অচেনা কোন লোককে নিজের গদি ছেড়ে দেবার ।

আমরা গোবরে পদ্মফুলের আশা না করে গোবরটা যদি পদ্য ফুলের কাছে নিয়ে যাই তাহলে অনেকগুলো পদ্মফুলের আশা করতে পারি । আর সেক্ষেত্রে আমাদের প্রধানমন্ত্রীরও নীলপদ্ম হয়ে বিষ হজম করার প্রয়োজন পড়তো না । । ।