ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

fdbfd_7981

কর্পোরেট কমিউনিকেশন এর একটা ট্রেনিং আছে যেখানে অনেকগুলো হাই অফিসিয়াল লাইন ধরে দাঁড়াবে। সবচেয়ে পেছনের যে জন উনি সামনের জনকে কানে কানে একটা শব্দ বলবে। এভাবে কানে কানে শব্দটি সবচেয়ে সামনের জন উচ্চস্বরে উচ্চারণ করবে। ধরুন লাইন এর পেছনের জন যদি কানে কানে ‘সানি লিওনি’ শব্দটি বলে তবে সবচেয়ে সামনের জন হয়তো উচ্চস্বরে বলে উঠবেন ‘আস্তাগ ফিরুল্লাহ’। দেখলেন কিভাবে কানে কানে সানি লিওনি আস্তাগ ফিরুল্লাহ হয়ে গেলো! এটাকে বলা হয় মিস কমিউনিকেশন

ধরুন প্রধানমন্ত্রী ১৫ই আগস্ট পালনের একটা রূপরেখা কানে কানে সবাইকে বললেন। যেহেতু উনি দেশের প্রধানমন্ত্রী তাই উনি সরাসরি দলীয় ব্যাপারে বলবেন না। সুতরাং কানে কানেই বললেন। আর দেখা গেলো এই রূপরেখায় একজন কর্মী রাস্তায় হায় মুজিব, হায় মুজিব করতে করতে নিজের বুকে ছুরি চালিয়ে দিচ্ছে। এটাও একই ধরনের মিস কমিউনিকেশন। খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। কারণ আশেপাশে বেশির ভাগ আমরা সবাই তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে উপরে উঠার চেষ্টারত।

বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র দেশের প্রথম ডিজিটাল কার্টুন নভেল “মুজিব” বের করলেন। কিন্তু কি যেন এক অদ্ভুত কারণে এই মুজিবের মুখে তিল নেই। কি কারণে এতো বড় একটা তিল উধাও হয়ে গেলো আমার জানা নেই । জেমস বন্ডের মতো সুপার হিরোদের মুখে তিল থাকতে পারলে বঙ্গবন্ধুর তিল কি বেশ বেমানান? আসলে কার্টুনিস্ট ভদ্রলোকরা সেই একই তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে উপরে উঠার চেষ্টারত ছিলেন । একটা তিল তুলে দিয়ে যদি বিলটা বেশি নেয়া যায় খারাপ কি?

বিবর্তন অবশ্যই হবে। ডারউইনের বিবর্তনবাদ ছিটকে গেলো, এতো বঙ্গবন্ধুর সামান্য মুখের তিল বা মুজিব কোটের কালো রং। কিন্তু এই বিবর্তনের শেষের জনের মুখ থেকে যেন নাউযুবিল্লাহ বা আস্তাগ ফিরুল্লাহ না বের হয় এটা খেয়াল রাখলেই চলবে । কারণ ঐটা মিস কমিউনিকেশন না বরং ঠিক শুনে নিজের মতো করে আচরণ করা ।

ব্রিট্রিশ রাজ পরিবারের পোশাক আশাক বা আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রিত হয় হাজার বছরের ট্রেডিশন অনুযায়ী। যেমন ধরুন, রানীর শরীরে কেউ হাত দিতে পারে না । অথবা রানীর পাশে কাউকে বসতে হলে নির্দিষ্ট দূরত্বে বসতে হয়- এইসব আরকি। এই ধরনের সূচি বায়ু ধরনের আচরণ ব্রিটিশরা বেশ পছন্দ করে। তারা এ নিয়ে রীতিমতো গর্বও করে। কারণ কিছু না কিছু নিয়ে তো গর্ব করতে হবেই। রবীন্দ্রনাথের স্বত্ব ছিল বিশ্ব ভারতীর কাছে। এরপর এই স্বত্ব তারা ছেড়ে দেয়। ফলে এখন রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প অবলম্বনে পর্ণ ছবি বানাতেও বাধা নেই। কিন্তু ব্রিটিশরা তাদের রাজা রানীর স্বত্ব এখনো ছাড়েনি। বরং আরো ভালো ভাবে আঁকড়ে ধরে আছে। তারা খুব একটা খারাপ আছে বলে মনে হয় না।

মানুষ ভেদে বিবর্তন অত্যন্ত আপেক্ষিক ব্যাপার। আপনি যদি দেশের দক্ষিণ দিকে যান দেখবেন ঐখানে অনেকে সকাল বেলা নেশা জাতীয় দ্রব্য ‘গুল’ দিয়ে দিনের শুরু করে। আপনার কাছে অবাক মনে হলেও ঐটা উনাদের অঞ্চলে বেশ সমাদৃত। সুতারং পরিবেশ বা অঞ্চল ভেদে একই আচরণ বেশ ভিন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঢাকা শহরে যদি কেউ দিনের বেলা আপনার সামনে মুখে তামাকের গুল পুড়ে দেয়, এটা অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া কাঁপিয়ে ফেলবে মুহূর্তে।

সুতরাং তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে উপরে উঠার চেষ্টা একেক জনের একেক রকম। সমস্যাটা আসলে মানুষের চারিত্রিক আচরণে না তৈলাক্ত বাঁশে তা ভাবার বিষয়। কারণ বাঁশই যদি না থাকে তবে সবাই নানান ভাবে উঠার চেষ্টা থেকে সরে আসবেন। সরকার বাঁশের পরিবর্তে সিঁড়ি বানিয়ে দিতে পারে সবাইকে। ধাপে ধাপে সবাই এগিয়ে যাবে।